সর্বোচ্চ বাড়ার পর বিশ্ববাজারে কমলো স্বর্ণের দাম
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৩২ পিএম
বিশ্ববাজারে এবার কমেছে স্বর্ণের দাম। আগের সেশনে সাত সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠার পর সোমবার (১০ আগস্ট) স্বর্ণের দামে কিছুটা পতন দেখা গেছে। শক্তিশালী হয়েছে মার্কিন ডলার। একই সঙ্গে চলতি সপ্তাহে প্রকাশিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির তথ্যের দিকে নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) ১১টা ২২ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম ০.২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৩২ দশমিক ৬৮ ডলারে নেমে যায়। এর আগে শুক্রবার দুর্বল মার্কিন কর্মসংস্থান প্রতিবেদনের পর স্বর্ণের দাম ১৭ জুনের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারের দামও সোমবার ০.২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৯১ দশমিক ৬০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে, ডলারের সূচক ০.২ শতাংশ বেড়েছে। এতে অন্যান্য মুদ্রার ব্যবহারকারীদের কাছে ডলারে মূল্য নির্ধারিত স্বর্ণ তুলনামূলক ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে। ফলে স্বর্ণের দামে চাপ তৈরি হয়েছে।
অ্যাক্টিভট্রেডসের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক রিকার্ডো ইভানজেলিস্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনার কারণে স্বর্ণের দাম বাড়ার ক্ষেত্রে কিছুটা বাধা তৈরি হচ্ছে। এসব পরিস্থিতি জ্বালানির দাম ও মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা ধরে রাখছে, যা ডলারের দরকে সমর্থন দিচ্ছে এবং স্বর্ণের বাজারে চাপ তৈরি করছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে আলোচনা ঘিরে তেলের দাম সামান্য বেড়েছে। তবে জলপথটি পুনরায় খুলতে যুক্তরাষ্ট্রকে কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হবে বলে ইরান জোর দেওয়ায় তেলের দাম বৃদ্ধির গতি সীমিত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে তেলের দাম বেশি থাকলে মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। এতে উচ্চ সুদের হার দীর্ঘ সময় বজায় রাখার সম্ভাবনা বাড়বে। ঐতিহ্যগতভাবে স্বর্ণকে মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষা হিসেবে বিবেচনা করা হলেও উচ্চ সুদের পরিবেশে এর আকর্ষণ কমে যায়।
এর আগে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে অপ্রত্যাশিতভাবে কর্মসংস্থান কমেছে। একই সঙ্গে আগের দুই মাসের কর্মসংস্থান বৃদ্ধির তথ্যও বড় ধরনের সংশোধন করে কমানো হয়েছে।
সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের বৈঠকে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা বর্তমানে ৪৪ শতাংশ। কর্মসংস্থান প্রতিবেদন প্রকাশের আগে এই সম্ভাবনা ছিল ৫৭ শতাংশ।
এখন বিনিয়োগকারীদের নজর যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির তথ্যের দিকে। বুধবার দেশটির ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) এবং বৃহস্পতিবার উৎপাদক মূল্যসূচকের (পিপিআই) তথ্য প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে। এসব তথ্য ফেডের ভবিষ্যৎ সুদের হার নীতি সম্পর্কে নতুন ইঙ্গিত দিতে পারে।
রয়টার্সের জরিপে অর্থনীতিবিদরা ধারণা করছেন, জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্যসূচক বছরওয়ারি ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বাড়তে পারে। জুনে এই বৃদ্ধির হার ছিল ৩ দশমিক ৫ শতাংশ।
বিশ্লেষক রিকার্ডো ইভানজেলিস্তা বলেন, মূল্যস্ফীতির হার ৩ দশমিক ৪ শতাংশের বাজার-প্রত্যাশার নিচে থাকলে চলতি বছরের শেষ নাগাদ ফেডের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা আরও কমতে পারে। এতে ডলারের দর দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি স্বর্ণের দাম বাড়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এদিকে সোমবার স্পট সিলভারের দাম ০.৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬৩ দশমিক ৯৪ ডলারে উঠেছে। অন্যদিকে প্লাটিনামের দাম ০.৫ শতাংশ কমে ১ হাজার ৭৩৬ দশমিক ২০ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১.৫ শতাংশ কমে ১ হাজার ৩৫৭ ডলারে নেমেছে। সূত্র: রয়টার্স
দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম
ভ্যাটসহ এখন ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণালঙ্কারের দাম ২ লাখ ৩৪ হাজার ৩৮ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫৪১ টাকা। বাজারে এখন থেকে ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হবে ১ লাখ ৯১ হাজার ৯৩১ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৮২২ টাকা।