EN ☀️
×

Follow Us

অর্থনীতি

ইউএইতে মূলধন ঘাটতি, জনতা ব্যাংকের শাখা গুটিয়ে নিতে নির্দেশ

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪০ পিএম

ইউএইতে মূলধন ঘাটতি, জনতা ব্যাংকের শাখা গুটিয়ে নিতে নির্দেশ

জনতা ব্যাংক পিএলসির দুবাই শাখা। ছবি: সংগৃহীত

অ অ

পরিশোধিত মূলধনের ঘাটতি পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের চারটি শাখার কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে নির্দেশ দিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ জন্য আগামী ১৫ আগস্টের মধ্যে একজন প্রশাসক নিয়োগ দিতে বলা হয়েছে।

গত ১৫ জুলাই ইউএই কেন্দ্রীয় ব্যাংক জনতা ব্যাংকের ইউএই শাখার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুজ্জামানের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেয়। পরে তিনি বিষয়টি জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মাজিবুর রহমানকে অবহিত করে পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে মতামত চান।

ইউএই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, চিঠি জারির ৩০ দিনের মধ্যে ব্যাংকটিকে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন প্রশাসক নিয়োগ করতে হবে। তবে ওই নিয়োগ কার্যকর হওয়ার আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হবে।

জনতা ব্যাংক ১৯৭৬ সাল থেকে ইউএইতে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বর্তমানে আবুধাবি, দুবাই, শারজাহ ও আল আইনে ব্যাংকটির চারটি শাখা রয়েছে। এসব শাখা বাংলাদেশি প্রবাসীদের রেমিট্যান্স সেবার পাশাপাশি আমানত গ্রহণ, বাণিজ্য অর্থায়ন ও অন্যান্য ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করে।

মূলধন ঘাটতির কারণেই সিদ্ধান্ত

ইউএই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিধি অনুযায়ী, দেশটিতে পরিচালিত জনতা ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন কমপক্ষে ৪০০ মিলিয়ন দিরহাম হওয়ার কথা। বর্তমানে ব্যাংকটির পরিশোধিত মূলধন রয়েছে ১০০ মিলিয়ন দিরহাম। ফলে ৩০০ মিলিয়ন দিরহাম, অর্থাৎ প্রায় এক হাজার কোটি টাকা (প্রতি দিরহাম ৩৩ টাকা ৫০ পয়সা ধরে) ঘাটতি রয়েছে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভাষ্য, পর্যাপ্ত মূলধন না থাকলে গ্রাহকের আমানত ঝুঁকির মুখে পড়ে। এ কারণেই তারা মূলধন ঘাটতি পূরণে একাধিকবার তাগিদ দেওয়ার পর কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

সর্বশেষ চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এর আগে ৮ জুলাই পাঠানো এক চিঠিতে জনতা ব্যাংক গ্রুপের আর্থিক অবস্থা ও ন্যূনতম মূলধন সংক্রান্ত শর্ত লঙ্ঘনের বিষয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল। এছাড়া চলতি বছরের এপ্রিল ও মে মাসেও এ বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে একাধিক দফা চিঠি আদান-প্রদান হয়।

প্রশাসকের দায়িত্ব

ইউএই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসক ব্যাংকের দায়-দেনা নিষ্পত্তি, ঋণ ও অন্যান্য আর্থিক দায় সমন্বয়, আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো পর্যায়ক্রমে বন্ধ এবং শাখাগুলোর কার্যক্রম সমাপ্তির জন্য বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করবেন।

এ পরিকল্পনার সর্বোচ্চ মেয়াদ হবে তিন বছর। পাশাপাশি প্রশাসককে নিয়মিতভাবে ইউএই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং সুপারভিশন বিভাগে অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জসংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। জনতা ব্যাংককেও প্রতি সপ্তাহে নির্ধারিত ফরম্যাটে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট করেসপন্ডেন্ট ব্যাংক ও ব্যবসায়িক অংশীদারদের শাখা গুটিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জানাতে বলা হয়েছে।

আরও সময় চায় জনতা ব্যাংক

জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মাজিবুর রহমান বলেন, শুরুতে ইউএইতে ব্যাংকটির পরিশোধিত মূলধন ছিল ৪০ মিলিয়ন দিরহাম। ২০২১ সালে তা বাড়িয়ে ৪০০ মিলিয়ন দিরহামে উন্নীত করা হয়। এতদিন শাখাগুলোর মুনাফা থেকে ধাপে ধাপে মূলধন ঘাটতি সমন্বয়ের সুযোগ থাকলেও এখন পুরো অর্থ একবারে জমা দেওয়ার শর্ত দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, বিষয়টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ও বাংলাদেশ ব্যাংককে অবহিত করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ইতোমধ্যে ইউএই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের কাছে সময় চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন।

মাজিবুর রহমান বলেন, সরকার প্রয়োজনীয় মূলধন জোগানে সহায়তা করলে সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে বলে তারা আশা করছেন।

আরও পড়ুন