EN ☀️
×

Follow Us

অর্থনীতি

ভোজ্যতেলের বাজার নিয়ন্ত্রণ: টিকে গ্রুপের প্রতিষ্ঠানকে ৩২.৪৪ কোটি টাকা জরিমানা

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ১০:৩৩ পিএম

ভোজ্যতেলের বাজার নিয়ন্ত্রণ: টিকে গ্রুপের প্রতিষ্ঠানকে ৩২.৪৪ কোটি টাকা জরিমানা

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

ভোজ্যতেলের বাজারে সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ ও মূল্য কারসাজির অভিযোগে টিকে গ্রুপের মালিকানাধীন শবনম ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডকে ৩২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা প্রশাসনিক আর্থিক জরিমানা করেছে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) প্রতিযোগিতা কমিশনের সচিব মাহবুবুর রহমান খান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানের ২০১৯-২০, ২০২০-২১ ও ২০২১-২২ অর্থবছরের নিরীক্ষিত হিসাব বিবরণীতে উল্লেখিত গড় বার্ষিক টার্নওভারের ভিত্তিতে এবং এটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রথম মামলা হওয়ায় বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রতিযোগিতা আইন, ২০১২-এর ধারা ২০ অনুযায়ী এ জরিমানা আরোপ করা হয়েছে।

কমিশনের আদেশ অনুযায়ী, রায় ঘোষণার পরবর্তী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করতে হবে। তবে আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি আপিল বা আদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন করার সুযোগ পাবে।

প্রতিযোগিতা কমিশন জানায়, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে ভোজ্যতেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণ অনুসন্ধানে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর তদন্ত চালায়। তদন্তে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সরবরাহ সংকট সৃষ্টি ও সরবরাহ আদেশ (এসও) সংক্রান্ত অনিয়মের মাধ্যমে বাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রমাণ পাওয়া যায়।

এর পর বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি অনুসন্ধান দল গঠন করে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে কয়েকটি ভোজ্যতেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

পরে কমিশনের নিজস্ব অনুসন্ধান এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শবনম ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের বিরুদ্ধেও মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

কমিশনের তথ্যমতে, অত্যাবশ্যকীয় পণ্য বিপণন ও পরিবেশক নিয়োগ আদেশ, ২০১১ অনুযায়ী কোনো সরবরাহ আদেশের (এসও) মেয়াদ সর্বোচ্চ ১৫ দিন এবং মেয়াদোত্তীর্ণ এসও ব্যবহার করে পণ্য সরবরাহ করা নিষিদ্ধ।

তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, শবনম ভেজিটেবল অয়েল মেয়াদোত্তীর্ণ সরবরাহ আদেশ ব্যবহার করে পণ্য সরবরাহ করেছে। পাশাপাশি অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগসাজশ করে ভোজ্যতেলের উৎপাদন ও সরবরাহ সীমিত রাখার মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং মূল্যবৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে বলে কমিশনের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।

রায়ে বলা হয়, ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি উৎপাদন ও সরবরাহ সীমিত করে এবং বাজারে ভোজ্যতেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়াতে ভূমিকা রাখে। ফলে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতা আইন, ২০১২-এর ধারা ১৫-এর একাধিক বিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

প্রতিযোগিতা কমিশনের মতে, এসব কর্মকাণ্ড প্রতিযোগিতাবিরোধী এবং আইনের আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ফলে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে প্রশাসনিক আর্থিক জরিমানা আরোপের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন