EN ☀️
×

Follow Us

অর্থনীতি

মিথ্যা আশ্বাসে অর্থনীতির সর্বনাশ করা এক গভর্নর

ডেইলি সান রিপোর্ট

প্রকাশ: ০১ মার্চ ২০২৬, ০৯:২৯ এএম

মিথ্যা আশ্বাসে অর্থনীতির সর্বনাশ করা এক গভর্নর

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।

অ অ

আহসান এইচ মনসুর। বাংলাদেশের সুশীল সমাজের একজন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি। প্রথিতযশা অর্থনীতিবিদ, আইএমএফের সাবেক পূর্ণকালীন কর্মকর্তা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির সাবেক শিক্ষক। এরকম একজন ব্যক্তিকে যখন জুলাই গণ অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল তখন অনেকেই আশান্বিত হয়েছিলেন। অনেক আশায় বুক বেঁধেছিলাম এটা ভেবে যে এবার বুঝি বাংলাদেশের অর্থনীতি অবিশ্বাস্য কিছু করে দেখাবে।

কিন্তু ক্রমশ ফিকে হতে শুরু করল সবকিছু, যখন ব্যবসাবাণিজ্য, অর্থনীতি খাদের তলানির দিকে যেতে শুরু করল। মূল্যস্ফীতি চড়া, ১৮ মাসের সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির পরও। ব্যবসা গুটিয়ে গেছে, অনেক কারখানা বন্ধ হয়েছে, প্রতি প্রান্তিকে বেড়েছে খেলাপি ঋণের হিসাব। আমরা চেয়েছি সমাধান, আর বাংলাদেশ ব্যাংক দিনের পর দিন সমস্যার পাহাড় দেখিয়ে গেছে। তিনি শুধু মিথ্যা আশ্বাস আর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। গালভরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই করতে পারেননি।

আহসান এইচ মনসুর গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নিয়েই বললেন, বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা তার অগ্রাধিকার। ’২৪-এর ডিসেম্বর ঘোষণা করলেন ছয় মাসের মধ্যে ফেরত আসবে বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া কিছু টাকা। জনগণের টাকা খরচ করে টাকা উদ্ধারের জন্য যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সুইজারল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশ ঘুরে বেড়ালেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এক বছর পর সুর পাল্টে গেল সুশীল গভর্নরের। বললেন, বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ বিদেশ থেকে ফেরত আনতে চার-পাঁচ বছর সময় লাগবে। এর কম সময়ে তা সম্ভব নয়।

পাচার হওয়া টাকা ফেরত আনার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে গভর্নর বলেন, এ বিষয়ে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। ১৮ মাসে এক টাকাও ফেরত আনতে পারেননি বিদায়ি গভর্নর, কিন্তু টাকা উদ্ধারের নামে খরচ করেছেন কোটি কোটি টাকা। রাষ্ট্রের অর্থ অপচয়ের জন্য দায়ী গভর্নরের বিচার করবে কে? শুধু অর্থ পাচার প্রসঙ্গে নয়, ১৮ মাসে আইএমএফের প্রেসক্রিপশনে দেশের অর্থনীতিকে রীতিমতো পঙ্গু বানিয়ে ফেলেছেন সুশীল গভর্নর। অর্থনীতির আকাশে শুদ্ধির বজ্রধ্বনি তুলেছিলেন তিনি।

পুঁজিবাজার, ব্যাংকিং খাত আর শিল্পগোষ্ঠীর অনিয়ম, অর্থ পাচার ও ঋণ জালিয়াতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন তৎকালীন গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। অন্তর্র্বর্তী সরকারের নির্দেশে দেশের শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠীগুলো ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মোট ১১টি যৌথ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। অভিযোগ ছিল ক্ষমতার অপব্যবহার, হাজার কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতি, বিদেশে অর্থ পাচার।

কিন্তু দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও কোনো শিল্পগোষ্ঠীর বিরুদ্ধেই দৃশ্যমান কোনো অর্থ পাচার বা দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণ করা যায়নি। তদন্তের ঢাকঢোল যত জোরে পেটানো হয়েছিল, ফল ততটাই অনিশ্চিত থেকে গেছে। বরং এই সময়টায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা ক্ষয়ে গেছে ধীরে ধীরে। বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলোর ওপর কঠোর নজরদারি ও অনিশ্চয়তার আবহে নতুন বিনিয়োগে ভাটা পড়ে, পুঁজিবাজারে দেখা দেয় স্থবিরতা। এই পরিস্থিতিতে দেশের ব্যাংক খাত ডুবিয়ে নিজের আখের গুছিয়ে বিদায় নিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। তার বিদায়ের পর সুশীল সমাজের যারা অর্থনীতি বোঝেন, তারাও আহসান মনসুরের কঠোর সমালোচনা করেছেন।

গভর্নরের বিদায়ের পর বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, টাকা ছাপানো কোনোভাবেই কাম্য নয়। তাঁর সংস্থা এটাকে কোনোভাবেই উৎসাহিত করে না। তিনি বলেন, ঘোষণা দিয়ে হোক বা গোপনে হোক, কোনোভাবেই টাকা ছাপানো ঠিক না। যদিও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর দায়িত্ব নেওয়ার পর চেষ্টা করেছেন টাকা না ছাপানোর জন্য। কিন্তু শেষ পর্যন্ত টাকা ছাপিয়ে তিনি সেটা গোপন রেখেছেন। পরে বলতে বাধ্য হয়েছেন যে বাংলাদেশ ব্যাংক টাকা ছাপিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অন্তর্র্বর্তী সরকার উত্তরাধিকার সূত্রে অর্থনীতি যে অবস্থায় পেয়েছিল, বর্তমান সরকার তার চেয়েও কিছুটা খারাপ অবস্থায় পেয়েছে। বিশেষ করে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বর্তমানে ভঙ্গুর অবস্থায় আছে। [সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন]

আরও পড়ুন