শীতের শেষে উত্তপ্ত রাজধানীর কাঁচাবাজার
দুই সপ্তাহে কেজিতে বাড়ল ২০ টাকা পর্যন্ত
ডেইলি সান রিপোর্ট
প্রকাশ: ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:০৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ভরা মৌসুমে সবজির দাম কিছুটা নাগালে থাকলেও শীতের বিদায়বেলায় আবারও অস্থির হয়ে উঠেছে রাজধানীর কাঁচাবাজার।
সরবরাহ কমার অজুহাতে মাত্র দুই থেকে তিন সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় প্রতিটি সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা, কোনো ক্ষেত্রে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এতে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অস্বস্তি দেখা দিয়েছে।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ান বাজার, রামপুরা, মিরপুর ও যাত্রাবাড়ীসহ বেশ কয়েকটি কাঁচাবাজার ঘুরে চড়া দামের এই চিত্র দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাজারে এখন সস্তা সবজি খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। প্রতি কেজি পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৪০-৪৫ টাকায়। শীতের নিয়মিত সবজি শালগম ৬০ টাকা, গোল বেগুন ৮০ টাকা এবং শসা ও গাজর প্রতি কেজি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রান্নার অতি প্রয়োজনীয় কাঁচামরিচ ১৬০-১৮০ টাকা এবং টমেটো ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
অন্যান্য সবজির মধ্যে জাতভেদে শিম ৪০-৮০ টাকা, মুলা ৫০ টাকা ও মিষ্টি কুমড়া ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে প্রতিটি ফুলকপি, বাঁধাকপি ও ব্রকলি কিনতে ক্রেতাকে গুনতে হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। অথচ সপ্তাহখানেক আগেও এসব সবজি ২০-৩০ টাকার মধ্যে পাওয়া যেত।
কারওয়ান বাজারে বাজার করতে আসা রিপন সরকার বলেন, ‘গত সপ্তাহে যে ফুলকপি ২৫ টাকায় কিনেছি, আজ তা ৪৫ টাকার নিচে দিচ্ছে না। প্রতি মুঠো পেঁয়াজের কলিতেও ৫ টাকা বেড়েছে। প্রতিটি জিনিসের দাম এভাবে হু হু করে বাড়লে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের চলা কঠিন।’
আরেক ক্রেতা মাসুম হান্নান বলেন, ‘শীত শেষ হয়ে আসছে- এই অজুহাতে বিক্রেতারা সিন্ডিকেট করে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার। বাজারের এই অস্থিরতা রোধে নিয়মিত সরকারি মনিটরিং প্রয়োজন।’
চড়া দামের বিষয়ে রামপুরা বাজারের সবজি বিক্রেতা হাসিব রহমান জানান, পাইকারি বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় তাদের বেশি দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘শীতের ভরা মৌসুমে সরবরাহ প্রচুর থাকে বলে দাম কম ছিল। এখন সিজন শেষ দিকে হওয়ায় আড়ত থেকেই আমাদের ২০-৪০ টাকা বাড়তি দামে মাল কিনতে হচ্ছে। ফলে খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে।’
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, প্রতি বছরই মৌসুম পরিবর্তনের সময় সরবরাহজনিত ঘাটতির সুযোগ নেন এক শ্রেণির ব্যবসায়ী। বাজার নিয়ন্ত্রণে দ্রুত তদারকি জোরদার না করলে সামনের দিনগুলোতে সবজির দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।