বাণিজ্য উপদেষ্টা
আগামী মাসে জাপানের সঙ্গে ইপিএ স্বাক্ষর
৯৭ উপখাত উন্মুক্ত করছে বাংলাদেশ, জাপান করছে ১২০টি
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ২২ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৩:৫৯ পিএম
বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির (ইপিএ) খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে। আগামী মাসেই এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি নেগোসিয়েশন বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, একটি নিবিড় ও দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে জাপানের সঙ্গে ইপিএর খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আজ তার ফোনালাপ হয়েছে এবং আগামী মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হবে।
তিনি জানান, এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ জাপানের জন্য ৯৭টি উপখাত উন্মুক্ত করতে সম্মত হয়েছে। অপরদিকে জাপান বাংলাদেশের জন্য ১২০টি উপখাতে চারটি মোডে সার্ভিস উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশ্বের অন্য কোনো দেশের সঙ্গে এটি বাংলাদেশের প্রথম অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি।
বাণিজ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, এই চুক্তির ফলে দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ আকর্ষণ বৃদ্ধি পাবে, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।
সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের শেষ দিকে এই চুক্তির আলোচনা শুরু হয়েছিল। আট দফা বৈঠকের পর এখন চুক্তিটি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।
প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়সংক্রান্ত বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, বাংলাদেশ আগে কখনও এ ধরনের অর্থনৈতিক চুক্তি করেনি। ফলে প্রাথমিকভাবে কিছু চ্যালেঞ্জ ছিল। তবে সরকারের সম্মিলিত আন্তরিক প্রচেষ্টায় তা সফলভাবে অতিক্রম করা সম্ভব হয়েছে। এটি নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের জন্য একটি ইতিবাচক ও গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি।
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেন, জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক থাকলেও এ দেশে জাপানি বিনিয়োগ এখনও তুলনামূলকভাবে কম, প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার। প্রয়োজনীয় কাঠামো না থাকায় অতীতে বড় বিনিয়োগ আসেনি। ইপিএ কার্যকর হলে এই বাধা দূর হবে।
তিনি বলেন, ভিয়েতনামের সঙ্গে বাংলাদেশের তুলনা করা হলেও ভিয়েতনামের সঙ্গে ৩০টি দেশের বাণিজ্য চুক্তি রয়েছে। বাংলাদেশ এখন সেই যাত্রা শুরু করছে। ভবিষ্যতে আরও অনেক অর্থনৈতিক চুক্তি করা সম্ভব হবে, যা এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহায়ক হবে।
চুক্তি কার্যকর হলে স্বাক্ষরের প্রথম দিন থেকেই ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্যে জাপানের বাজারে বাংলাদেশের তাৎক্ষণিক শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার মিলবে। অন্যদিকে, জাপান ১ হাজার ৩৯টি পণ্যে বাংলাদেশের বাজারে তাৎক্ষণিক শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, উভয় দেশের উপদেষ্টা পরিষদ ও আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর আগামী মাসেই চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হবে। এই ইপিএ বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) মূলত দুই দেশের মধ্যে একটি মুক্ত বাণিজ্য এলাকা গঠনের উদ্যোগ, যার মাধ্যমে শুল্ক ও বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা কমিয়ে পণ্য ও সেবার আদান-প্রদান সহজ করা হয়।