ভ্রমণে বাড়তি খরচ এড়ানোর উপায়
যাতায়াত, থাকা এবং খাবার। সঠিক কৌশল জানা থাকলে এই তিন ক্ষেত্রেই খরচ অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব
জীবনযাপন ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬, ০৬:১২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ভ্রমণের কথা মনে হলেই অনেকের মাথায় প্রথমে আসে খরচের হিসাব। পকেটে টাকা না থাকলে দুনিয়া ঘুরে দেখার স্বপ্ন বুঝি অধরাই থেকে যায়। কিন্তু বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। লটারির টিকিটের চেয়ে বেশি দরকার সঠিক কৌশল। একটু বুদ্ধি খাটালে আর পরিকল্পনামাফিক এগোলে অল্প খরচেও বিশ্বের নানা প্রান্ত ঘুরে আসা সম্ভব।
ভ্রমণের মোট খরচকে মূলত তিন ভাগে ভাগ করা যায়— যাতায়াত, থাকা এবং খাবার। সঠিক কৌশল জানা থাকলে এই তিন ক্ষেত্রেই খরচ অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব।
বিমানের টিকিট বা হোটেল খোঁজার সময় ব্রাউজারের ‘ইনকগনিটো মোড’ ব্যবহার করুন। সাধারণ মোডে সার্চ করলে ট্রাভেল সাইটগুলো কুকিজের মাধ্যমে সার্চ হিস্ট্রি ট্র্যাক করে টিকিটের দাম বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া স্কাই স্ক্যানার বা গুগল ফ্লাইটে অ্যালার্ট সেট করে রাখলে দাম কমলে সঙ্গে সঙ্গে জানা যাবে। সাধারণত সপ্তাহের মঙ্গল ও বুধবার টিকিটের দাম সবচেয়ে কম থাকে।
রাতের ট্রেন বা স্লিপার বাস বেছে নেওয়া আরেকটি চমৎকার কৌশল। এতে যাতায়াতের পাশাপাশি এক রাতের হোটেলের খরচও বেঁচে যায়। আর আইসল্যান্ড এয়ার বা টার্কিশ এয়ারলাইনসের মতো কিছু বিমান সংস্থার ফ্রি স্টপ ওভার প্রোগ্রাম ব্যবহার করে বাড়তি বিমানভাড়া ছাড়াই কানেকটিং দেশে কয়েক দিন ঘুরে আসা যায়।
থাকার খরচ শূন্যে নামানো কি সম্ভব?
একদম সম্ভব। কাউচসার্ফিংয়ের মতো অনলাইন প্ল্যাটফর্মে স্থানীয়রা পর্যটকদের বিনা মূল্যে নিজেদের বাড়ি বা বাড়তি ঘর ব্যবহার করতে দেন। সঠিকভাবে ব্যবহার করলে এই একটি উপায়েই ভ্রমণের ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ খরচ কমানো সম্ভব। তবে বুকিংয়ের আগে হোস্টের রিভিউ ভালোভাবে দেখে নেওয়া জরুরি।
দীর্ঘমেয়াদে থাকতে চাইলে হোস্টেল, এনজিও, অর্গানিক ফার্ম বা মনাস্ট্রিতে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করা যায়। বিনিময়ে বিনা মূল্যে থাকা-খাওয়ার সুবিধা মেলে। আর অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় হলে তাঁবু সঙ্গে রাখলে রাতের আকাশের নিচে ক্যাম্পিংয়ের মাধ্যমে মিলিয়ন স্টার হোটেলের অভিজ্ঞতা পাওয়া যায় বিনামূল্যে।
খাবারেও রয়েছে সাশ্রয়ের সুযোগ
ইউরোপ বা আমেরিকার রেস্তোরাঁগুলোতে দুপুরে ‘লাঞ্চ স্পেশাল’ অফারে রাতের মেনুর একই মানের খাবার অর্ধেক বা তার চেয়েও কম দামে পাওয়া যায়। স্থানীয় মুদিদোকান বা সুপারশপ থেকে পাউরুটি, চিজ, ফল কিনে পার্কে বসে খেলেও বড় অঙ্কের অর্থ সাশ্রয় হয়। হোস্টেলের কিচেন ব্যবহার করে নিজে রান্না করে নেওয়াও খরচ কমানোর কার্যকর উপায়।
দর্শনীয় স্থান দেখতেও লাগবে না বেশি টাকা
বিশ্বের অনেক বিখ্যাত জাদুঘর ও দর্শনীয় স্থান সপ্তাহের নির্দিষ্ট একটি দিনে বিনামূল্যে প্রবেশের সুযোগ দেয়। একটু আগে থেকে খোঁজ নিলেই বড় অঙ্কের টাকা বাঁচানো সম্ভব। বড় শহরে গাইডসহ বাসে না ঘুরে ফ্রি ওয়াকিং ট্যুরে অংশ নিলে অল্প খরচেই স্থানীয় গাইডের সঙ্গে শহর চেনার সুযোগ মেলে। এমনকি ছবি তোলা, ওয়েবসাইট ডিজাইন বা সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিংয়ের দক্ষতা থাকলে স্থানীয় হোস্টেল বা ক্যাফেতে কাজের বিনিময়ে থাকার ব্যবস্থাও করা যায়।
মনে রাখতে হবে, টাকা বাঁচানো জরুরি, কিন্তু তা যেন ভ্রমণের আনন্দকে মাটি না করে। জীবনে যেকোনো সময় টাকা আয় করা গেলেও হারানো সময় আর ফিরে আসে না। তাই বাজেট ঠিক রেখে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে বেরিয়ে পড়ুন, দুনিয়াটা আপনার জন্যই অপেক্ষা করছে।