নয় মাস পর খুলছে সেন্ট মার্টিন, মানতে হবে ১২টি নির্দেশনা
আগামী শনিবার (১ নভেম্বর) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে এ মৌসুমের পর্যটক ভ্রমণ।
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৫, ১০:৪১ এএম
ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ নয় মাস পর আবারও পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিন। আগামী শনিবার (১ নভেম্বর) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে এ মৌসুমের পর্যটক ভ্রমণ।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, পর্যটকরা দিনে গিয়ে দিনেই ফিরতে পারবেন—রাত্রিযাপনের সুযোগ আপাতত থাকছে না। তবে রাত্রিযাপন না থাকলেও নতুন মৌসুমে ব্যবসা-বাণিজ্য ঘিরে প্রস্তুতি নিচ্ছেন দ্বীপের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। তাদের আশা, সীমিত সময়ের মধ্যেও পর্যটকদের আনাগোনা স্থানীয় অর্থনীতিতে কিছুটা প্রাণ সঞ্চার করবে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দ্বীপে পর্যাপ্ত জেটি না থাকায় ভোগান্তিতে পড়তে পারেন পর্যটকরা। সেজন্য পূর্বে ব্যবহৃত একটি পুরোনো জেটি পুনরায় চালু করার দাবি জানানো হয়েছে। বর্তমানে একমাত্র কার্যকর জেটিটির সংস্কারকাজ এখনো শেষ হয়নি, যদিও দ্বীপে পর্যটন মৌসুম শুরু হতে আর মাত্র একদিন বাকি।
জানা গেছে, প্রতিদিন পর্যটকরা দ্বীপে সর্বোচ্চ দুই ঘণ্টা অবস্থান করতে পারবেন। এই স্বল্প সময়েই চলবে ব্যবসা-বাণিজ্যিক কার্যক্রম। ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে সীমিত পরিসরে সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটকের রাত্রিযাপনের অনুমতি দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
দ্বীপে যাত্রী পরিবহনের নৌযানগুলোকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এবং পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিতে হবে। এ বছরও কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকেই পর্যটকবাহী জাহাজ সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইমরান হোসাইন সজীব বলেন, ‘সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ১ নভেম্বর থেকে সেন্ট মার্টিনগামী পর্যটক জাহাজ চলাচল শুরু হবে। কক্সবাজার দিক থেকে যাত্রা শুরু হবে বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে।’
সরকারের ১২টি নির্দেশনা
পর্যটকদের নিরাপত্তা ও পরিবেশ সুরক্ষায় সরকার ১২টি নির্দেশনা জারি করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—
* বিআইডব্লিউটিএ ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া কোনো নৌযান চলাচল করতে পারবে না।
* পর্যটকদের বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের স্বীকৃত ওয়েবসাইট থেকে অনলাইনে টিকিট কিনতে হবে; প্রতিটি টিকিটে ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোড বাধ্যতামূলক।
* ফেব্রুয়ারি মাসে দ্বীপে পর্যটক যাতায়াত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
* প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটক ভ্রমণ করতে পারবেন।
* রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো, শব্দ সৃষ্টি বা বারবিকিউ পার্টি করা যাবে না।
* কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ বা বিক্রি নিষিদ্ধ।
* সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, রাজকাঁকড়া, শামুক-ঝিনুকসহ জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করা যাবে না।
* সৈকতে মোটরসাইকেল, সি-বাইক বা মোটরচালিত যান চলাচল নিষিদ্ধ।
* পলিথিন বহন ও একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক যেমন চিপসের প্যাকেট, প্লাস্টিক চামচ, স্ট্র, মিনিপ্যাক সাবান বা শ্যাম্পু, প্লাস্টিক বোতল ইত্যাদি বহন নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।
* পর্যটকদের নিজস্ব পানির ফ্লাস্ক সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘদিন পর পর্যটন মৌসুম শুরু হওয়ায় কক্সবাজার ও সেন্ট মার্টিন এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। তবে জেটি সংস্কার ও নির্দেশনা বাস্তবায়নে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে না পারলে পর্যটকদের ভোগান্তি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।