EN ☀️
×

Follow Us

চিত্র-বিচিত্র

বই হাতে আগামীর পথে

শৈশবের এই দৃশ্যটি কেবল একটি পথচলা নয়, বরং এটি একটি প্রান্তিক জনপদের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প।

ডেইলি সান রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:৪০ পিএম

বই হাতে আগামীর পথে

‘হাতে নতুন বই, চোখে আগামীর স্বপ্ন। কুড়িগ্রামের মেঠো পথে শৈশবের এক স্নিগ্ধ মুহূর্ত।’ ছবি: হামিম মন্ডল

অ অ

আধুনিক নগরায়ণ আর প্রযুক্তির ভিড়ে যখন শৈশব বন্দি হচ্ছে চারদেয়ালে, ঠিক তখনই গ্রামবাংলার মেঠো পথে দেখা মিলল এক চিলতে হারানো সুন্দরের।

কুড়িগ্রামের এক প্রান্তিক জনপদে একদল শিশুর বই হাতে দলবদ্ধ পথচলার দৃশ্য যেন মনে করিয়ে দিচ্ছে-  শিক্ষার আলোয় আলোকিত হওয়ার অদম্য বাসনা আজও অম্লান।

ভোরের কুয়াশা মোড়া মেঠো পথ। দুপাশে সবুজ ফসলের মাঠ আর মাঝখান দিয়ে এঁকেবেঁকে যাওয়া মাটির রাস্তা। সেই পথ ধরেই কাঁধে ঝোলানো স্কুলব্যাগ আর হাতে নতুন বই নিয়ে সারিবদ্ধভাবে হেঁটে চলছে একদল শিশু। তাদের চোখে-মুখে নতুন কিছু শেখার আনন্দ আর মেঠো পথের ধুলোবালিতে মাখা অকৃত্রিম সরলতা।

শৈশবের এই দৃশ্যটি কেবল একটি পথচলা নয়, বরং এটি একটি প্রান্তিক জনপদের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প। যেখানে অভাব আর প্রতিকূলতা নিত্যসঙ্গী, সেখানেও শিক্ষার প্রতি এই শিশুদের এমন আগ্রহ উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

শহুরে শিশুদের জীবনে যখন ভিডিয়ো গেম আর ইন্টারনেটের আধিপত্য, তখন কুড়িগ্রামের এই জনপদে দেখা মিলল চিরচেনা সেই গ্রামীণ শৈশবের। দল বেঁধে স্কুলে যাওয়া, পথে চলতে চলতে খুনসুটি আর বইয়ের পাতায় নতুন পৃথিবী খোঁজার এই দৃশ্যটি এখনকার সময়ে বিরল। স্থানীয়রা বলছেন, প্রযুক্তির এই যুগেও মেঠো পথের এই শিশুদের সরলতা আমাদের শিকড়ের কথা মনে করিয়ে দেয়।

শিশুদের এই পথচলা দেখে মনে হয়, আগামীর বাংলাদেশ এক আলোকিত প্রজন্মের হাতে। এদের এই অকৃত্রিম আগ্রহই আমাদের আগামীর সম্পদ।

কুড়িগ্রামের এই অঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থান ও জীবনযাত্রা বেশ কঠিন হলেও শিক্ষার প্রতি এখানকার শিশুদের রয়েছে প্রবল টান। নতুন বইয়ের ঘ্রাণ আর একসাথে স্কুলে যাওয়ার আনন্দই যেন তাদের জীবনের সবচেয়ে বড়ো উৎসব। এই প্রান্তিক জনপদের পথ ধরেই আগামী দিনের ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার কিংবা শিক্ষকরা বড়ো হচ্ছেন।

বই হাতে এই যাত্রা কেবল একটি স্কুলের দিকে যাত্রা নয়, এটি একটি জাতির আগামীর পথে এগিয়ে যাওয়ার দৃঢ় সংকল্প।

আরও পড়ুন