EN ☀️
×

Follow Us

কূটনীতি

নেপালে বাংলাদেশ দূতাবাসে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:০৪ পিএম

নেপালে বাংলাদেশ দূতাবাসে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন
অ অ

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক ঘটনা এবং বাংলাদেশের ইতিহাসে এ দিবসের তাৎপর্য স্মরণে শনিবার দূতাবাস প্রাঙ্গণে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে দূতাবাস প্রাঙ্গণে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এতে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি অংশ নেন।

পরে দূতাবাসের অডিটরিয়ামে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশ ও নেপালের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়। এ ছাড়া ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক পটভূমি ও তাৎপর্য তুলে ধরে দুটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। শহীদদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি এবং দেশের অব্যাহত শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মোনাজাতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়।

আলোচনা সভায় বক্তারা ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক তাৎপর্য, জাতি গঠনে এ দিবসের অবদান এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এর গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা বহুদলীয় গণতন্ত্র, বাক্‌স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকা স্মরণ করেন।

বক্তারা বলেন, জাতীয় ঐক্য, সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা সুরক্ষায় জনগণের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষা ধারণ ও সংরক্ষণে জিয়াউর রহমান গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।

সমাপনী বক্তব্যে নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শফিকুর রহমান ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের গুরুত্ব ও প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরেন। তিনি এ ঘটনাকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

রাষ্ট্রদূত বলেন, ওই দিন সৈনিক ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় স্বাধীনতার ঘোষক, বীর উত্তম শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন। পরবর্তী সময়ে গভীর সংকট থেকে দেশকে উত্তরণের দায়িত্ব তাঁর ওপর অর্পিত হয়। জাতীয় নেতা হিসেবে জিয়াউর রহমানের আবির্ভাব দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও সুরক্ষা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করে।

শফিকুর রহমান আরও বলেন, বাংলাদেশে উৎপাদনমুখী রাজনীতির পথিকৃৎ হিসেবে জিয়াউর রহমানের ভূমিকা ও অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রচারসর্বস্ব রাজনীতির পরিবর্তে উৎপাদনমুখী রাজনীতির প্রবর্তন, জাতীয় নীতিনির্ধারণে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের অন্তর্ভুক্তি এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও বিষয়গুলো তুলে ধরার মাধ্যমে তিনি ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির ভিত্তি স্থাপন করেন।

রাষ্ট্রদূত জাতীয় ঐক্য, সংহতি ও দেশপ্রেমের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে অবকাঠামো নির্মাণ, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জাতীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে সরকারের প্রচেষ্টায় সহযোগিতা করার অনুরোধ জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত নেপালের সাবেক রাষ্ট্রদূত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, নেপালের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, সার্ক, আইসিমডসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং নেপালে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রায় ১০০ জন অতিথি অংশ নেন।

আরও পড়ুন