EN ☀️
×

Follow Us

কূটনীতি

দক্ষিণ কোরিয়ায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত

গণতন্ত্র, জাতীয় ঐক্য ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার অঙ্গীকার

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৯ পিএম

দক্ষিণ কোরিয়ায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত
অ অ

দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দক্ষিণ কোরিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তৌফিক ইসলাম।

এর আগে দূতাবাস চত্বরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন প্রধান অতিথি ইসমাইল জবিউল্লাহ। এ সময় দূতাবাসের কর্মকর্তা ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়।

আলোচনা সভায় ইসমাইল জবিউল্লাহ ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক সংকটময় পরিস্থিতিতে সিপাহি-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় সংহতি রক্ষার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে পরবর্তী সময়ে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন এবং স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার ভিত্তি রচিত হয়।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার গণতন্ত্র সুসংহত করা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনে কাজ করছে। 

জাতীয় স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান এবং ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নতুন গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক, সমৃদ্ধ, মানবিক ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই এখন জাতীয় অঙ্গীকার।

দক্ষিণ কোরিয়ার উন্নয়নের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, শিক্ষা, প্রযুক্তি, শিল্পায়ন ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে দেশটি বিশ্বে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বাংলাদেশের উন্নয়নেও এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে হবে। 

এ জন্য বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং দক্ষ জনশক্তি রপ্তানিতে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্দেশে প্রধান অতিথি বলেন, প্রবাসীরা বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। তারা বহির্বিশ্বে দেশের মর্যাদার গর্বিত প্রতিনিধি। তাঁদের অধিকার, নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম দায়িত্ব।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, ৭ নভেম্বর শুধু একটি ঐতিহাসিক দিন নয়, এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, জাতীয় ঐক্য ও দেশপ্রেমের অনন্য প্রতীক। জাতীয় সংকট মোকাবিলায় জনগণের ঐক্য ও দেশপ্রেমের কোনো বিকল্প নেই।

তিনি দেশপ্রেম, গণতন্ত্র, জাতীয় ঐক্য ও উন্নয়নের অঙ্গীকারে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আমাদের পরিচয় একটাই—আমরা বাংলাদেশি। আমাদের স্বার্থ একটাই, বাংলাদেশের স্বার্থ। আমাদের অঙ্গীকার একটাই—সবার আগে বাংলাদেশ।’

সভাপতির বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত তৌফিক ইসলাম জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরেন। দেশের উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে প্রবাসীদের অবদানের প্রশংসা করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, দক্ষিণ কোরিয়ায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন