নয়াদিল্লিতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন
আলোচনায় জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:২৭ পিএম
ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ভারতের নয়াদিল্লিতে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ হাইকমিশন। এতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন, পররাষ্ট্রনীতি, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গণতান্ত্রিক সংগ্রাম এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
শনিবার (৭ নভেম্বর) নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন আয়োজিত এ আলোচনা সভায় এসব বিষয় তুলে ধরেন হাইকমিশনের মিনিস্টার (প্রেস) সাইদুর রহমান।
তিনি বলেন, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে রচিত ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছিল। ‘সিপাহী-জনতা ভাই ভাই, জিয়ার মুক্তি চাই’ স্লোগানে রাজপথ প্রকম্পিত করে তারা জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করে আনেন।
সাইদুর রহমান বলেন, ৭ নভেম্বরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হয়। এদিন দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা পেয়েছিল। ঐতিহাসিক এ দিনে বিপ্লবী সিপাহী-জনতার অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি।
জিয়াউর রহমানের পররাষ্ট্রনীতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ৭ নভেম্বর-পরবর্তী সময়ে তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীনভাবে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনার মাধ্যমে বিশ্বদরবারে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করে। তার শাসনামলে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক স্বীকৃতি লাভ করে। ভারত ও রাশিয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার হয়। এ সময় বহু মুসলিম দেশ ঢাকায় তাদের দূতাবাস স্থাপন করে।
তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বেই বাংলাদেশ ১৯৭৮ সালে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য নির্বাচিত হয়। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতা, শান্তি, স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনি দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এর ধারাবাহিকতায় ১৯৮৫ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে সার্ক প্রতিষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে সাইদুর রহমান বলেন, বাবা ও মায়ের দেখানো আদর্শ ধারণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির ভিত্তিতে সরকারের কূটনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। ভারতসহ বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান, আস্থা, সমতা ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করাই সরকারের লক্ষ্য।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক ঐতিহাসিক, ভৌগোলিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস ও সহযোগিতার ভিত্তিতে ভবিষ্যতে এ সম্পর্ক আরও গভীর ও অর্থবহ হবে বলে তারা বিশ্বাস করেন। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সব কূটনীতিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার প্রীতি রহমান সভাপতিত্ব করেন। রাষ্ট্রপতির বাণী পাঠ করেন কমার্স কাউন্সিলর ইফতেখারউদ্দিন শামীম ও সহকারী ডিফেন্স অ্যাডভাইজার লেফটেন্যান্ট কর্নেল রুমন পারভেজ। মিশনের এইচওসি মাহমুদুল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে হাইকমিশনের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সকাল সাড়ে ৯টায় হাইকমিশন প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিবসটির কর্মসূচি শুরু হয়।