EN ☀️
×

Follow Us

কূটনীতি

বাংলাদেশ-ফিলিপাইন পর্যটন সহযোগিতা বাড়ানোর আশা রাষ্ট্রদূত পাদিলা কইনলেটের

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫২ পিএম

বাংলাদেশ-ফিলিপাইন পর্যটন সহযোগিতা বাড়ানোর আশা রাষ্ট্রদূত পাদিলা কইনলেটের
অ অ

বাংলাদেশ ও ফিলিপাইনের মধ্যে পর্যটন সহযোগিতা বাড়ানোর আশাবাদ জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত নিনা পাদিলা কইনলেট। তিনি দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং টেকসই পর্যটন উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে (বিসিএফসিসি) তিন দিনব্যাপী বাংলাদেশ ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ফেয়ার (বিটিটিএফ) ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, ‘আমি আমাদের দুই দেশের মধ্যে আরও সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।’

নিনা পাদিলা কইনলেট বলেন, পর্যটন বাংলাদেশ ও ফিলিপাইনের মধ্যে বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ানোর বড় সুযোগ তৈরি করে। পাশাপাশি এটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে অবদান রাখে।

রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘পর্যটন একটি দেশের হৃদয় ও আত্মাকে জানার সুযোগ করে দেয়।’ ভ্রমণের মাধ্যমে মানুষ বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, খাবার ও ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশের মানুষকে কাছাকাছি আনা এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ গড়ে তোলার মাধ্যমে পর্যটন দেশগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করতে পারে।

ফিলিপাইনের পর্যটন সম্ভাবনা তুলে ধরে বাংলাদেশি পর্যটকদের দেশটি ভ্রমণের আমন্ত্রণ জানান রাষ্ট্রদূত। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সাংস্কৃতিক আকর্ষণ উপভোগ করার আহ্বান জানান তিনি।

কইনলেট বলেন, ‘এটি একটি সুন্দর দেশ। দেশটির মানুষ দয়ালু ও অতিথিপরায়ণ।’ ফিলিপাইনে ভ্রমণকারীরা এমন আন্তরিক পরিবেশ পাবেন, যাতে তাঁদের নিজেদের বাড়িতে থাকার মতো অনুভূতি হতে পারে।

রাষ্ট্রদূত বলেন, পর্যটন শুধু অবকাশযাপন ও বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মানুষের জীবিকা নির্বাহে সহায়তা এবং জাতীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতেও এ খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তিনি বলেন, ‘বিশ্বের মোট অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ১০ শতাংশে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে পর্যটনের অবদান রয়েছে। প্রতি ১০টি কর্মসংস্থানের অন্তত একটির সঙ্গে এ খাতের সম্পৃক্ততা রয়েছে।’

অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি ও কর্মসংস্থান বাড়াতে পর্যটনকে গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবে এগিয়ে নেওয়ার ওপর জোর দেন কইনলেট। এ জন্য দেশগুলোকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

মেলার প্রতিপাদ্য ‘এআই-পাওয়ার্ড ট্যুরিজম, সাসটেইনেবল ডেস্টিনেশন’কে স্বাগত জানান রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রাকৃতিক সম্পদ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় টেকসই পর্যটনচর্চা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কইনলেট বলেন, ‘আজ আমরা যা পেয়েছি, তা উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছি এবং পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তা পৌঁছে দিতে হবে।’

প্রদর্শনীতে ঐতিহ্যবাহী নৃত্য ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা তুলে ধরার উদ্যোগেরও প্রশংসা করেন তিনি। রাষ্ট্রদূতের মতে, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও পুনরুজ্জীবনে পর্যটন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এর মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী সংগীত, নৃত্য ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তির চর্চা অব্যাহত রাখার সুযোগ তৈরি হয়। অন্যথায় এসব ঐতিহ্য সময়ের সঙ্গে হারিয়ে যেতে পারে।

আন্তর্জাতিক পর্যটন প্রদর্শনীর আয়োজন করায় ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশকে (টোয়াব) অভিনন্দন জানান কইনলেট। একই সঙ্গে বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পের অব্যাহত প্রবৃদ্ধি ও সাফল্য কামনা করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ফেয়ারের (বিটিটিএফ) ১৪তম আসরের উদ্বোধন করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নুরুন নাহার চৌধুরী।

টোয়াব আয়োজিত তিন দিনব্যাপী এ প্রদর্শনী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। এতে বাংলাদেশ ও বিদেশের পর্যটন অপারেটর, বিমান সংস্থা, হোটেল, ট্রাভেল এজেন্সি এবং আতিথেয়তা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো অংশ নিচ্ছে।

বাংলাদেশসহ ১৬টি দেশের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ মেলা আন্তর্জাতিক পর্যটন সহযোগিতা ও ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি করছে।

আয়োজকদের তথ্যমতে, প্রদর্শনীতে ২০০টির বেশি বুথ ও স্টল রয়েছে। এতে ২২০ জনের বেশি প্রদর্শক এবং প্রায় ২ হাজার ৫০০ বাণিজ্যিক দর্শনার্থী অংশ নিচ্ছেন।

বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা তুলে ধরা, আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক যোগাযোগ জোরদার করা এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও টেকসই পর্যটনচর্চায় উৎসাহ দেওয়াই এ আয়োজনের লক্ষ্য।

আরও পড়ুন