জাপানের সঙ্গে ২২টি সমঝোতা স্মারক, ৬ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের সম্ভাবনা
এসব বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে প্রায় দুই লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে।
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২৬ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে একাধিক চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি পর্যায়ে একটি চুক্তি ও চারটি সমঝোতা স্মারক এবং বেসরকারি পর্যায়ে দুই দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৭টি সমঝোতা স্মারক রয়েছে। এ ছাড়া দুটি অনুদান চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়েছে।
আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে প্রায় ৬০০ কোটি ডলারের সম্ভাব্য জাপানি বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এসব বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে প্রায় দুই লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) স্থানীয় সময় রাতে টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এ সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার হয়েছে এবং দুই দেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয়েছে। এ সফরের মাধ্যমে বিশ্ববাজারে নতুন বাংলাদেশের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় দুই দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করবে বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের উপকূলীয় নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়াতে একটি টহলজাহাজ সরবরাহের জন্য ২১২ কোটি জাপানি ইয়েনের অনুদান চুক্তি হয়েছে। এর পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৩৫ লাখ মার্কিন ডলার।
বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে প্রায় ১০ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলারের একটি ইয়েন ঋণ প্রকল্পের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে বলে জানান হুমায়ুন কবির। এ ছাড়া উপজেলা পর্যায়ে সুশাসন ও উন্নয়ন কার্যক্রমে জাপান সরকারের পক্ষ থেকে ১৩ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ইয়েন, যা প্রায় ১৯ কোটি ৪৭ লাখ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ, সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
বেসরকারি খাতের সহযোগিতার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৭টি সমঝোতা স্মারকসহ একাধিক চুক্তি ও সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে সম্ভাব্য বিনিয়োগের এসব সুযোগ কাজে লাগানো গেলে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন পরিকল্পনার বিষয়েও তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে বিভিন্ন বিভাগে উড়াল এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ এবং ছয়টি বিভাগে রেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন ও উপপ্রেস সচিব শাহাদাত হোসেন স্বাধীন উপস্থিত ছিলেন।