প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে আসবে ঘোষণা
বাংলাদেশে সাড়ে ৭৭ হাজার কোটি টাকার রেকর্ড বিনিয়োগ করছে জাপান
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৩ এএম
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের উন্নয়নে আগামী পাঁচ বছরে এক ট্রিলিয়ন ইয়েন বা ৬ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিতে যাচ্ছে জাপান। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই বিশাল বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৭৭ হাজার ৪৭০ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসাবে)।
জাপানের শীর্ষস্থানীয় অর্থনৈতিক সংবাদমাধ্যম ‘নিক্কেই এশিয়া’-র এক বিশেষ প্রতিবেদনে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের জন্য এই বিপুল তহবিলের সংস্থান করতে এরই মধ্যে সম্মতি জানিয়েছে টোকিও।
আগামী ২৬ অক্টোবর চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে জাপান যাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরের দ্বিতীয় দিন, অর্থাৎ ২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠক শেষে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক বিনিয়োগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে।
নিক্কেই এশিয়া তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, এই মেগা বিনিয়োগের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে ঢাকার সঙ্গে টোকিওর অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা জোরদার করা, এশীয় অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব হ্রাস করা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী বিনিয়োগ হাব বা কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।
জাপানের এই বিশাল তহবিল বাংলাদেশের অটোমোবাইল (যানবাহন উৎপাদন), ভারী উৎপাদন শিল্প এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের যুগান্তকারী অবকাঠামো নির্মাণে ব্যয় করা হবে।
একই সঙ্গে জাপানি ট্রেডিং জায়ান্ট ‘সুমিতোমো করপোরেশন’ ও অন্য অংশীদারদের যৌথ উদ্যোগে আড়াইহাজারে গড়ে তোলা ‘বাংলাদেশ স্পেশাল ইকোনমিক জোন’-এ (জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্চল) নতুন নতুন জাপানি কোম্পানি এই অর্থ বিনিয়োগ করবে।
দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণে গত ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষরিত হয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রীর এই গুরুত্বপূর্ণ সফরের প্রস্তুতি সম্পর্কে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম জানান, টোকিও সফরে জাপানের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের বিষয়ে বিশদ আলোচনা হবে।
তিনি আরও জানান, কৃষি, মৎস্যসম্পদ, মানবসম্পদ উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহনসহ বিভিন্ন উদীয়মান খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার লক্ষ্যে প্রায় আটটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) নিয়ে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ৩ থেকে ৪টি সমঝোতা স্মারক এই সফরেই স্বাক্ষরিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরিবেশ সুরক্ষা, ডিজিটাল উদ্ভাবন ও বিজ্ঞান গবেষণার ক্ষেত্রেও নতুন অংশীদারিত্বের সুযোগ তৈরি হবে।
জাপান দীর্ঘকাল ধরে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান ও বিশ্বস্ত উন্নয়ন সহযোগী। বর্তমানে রাজধানী ঢাকার মেট্রোরেল প্রকল্প, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের মতো মেগা যোগাযোগ ও অবকাঠামো প্রকল্পগুলো জাপানের আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতায় বাস্তবায়িত হচ্ছে।