বাণিজ্য বাধা দূর করতে দীর্ঘ বিরতির পর ভারত-বাংলাদেশের বৈঠক
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৭ পিএম
দীর্ঘ বিরতির পর বাণিজ্য নিয়ে বৈঠকে বসেছে বাংলাদেশ ও ভারত। গত ৮ ও ৯ অক্টোবর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত দুই দেশের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে বাণিজ্য বাধা নিয়ে আলোচনা হয়। ভারতীয় পণ্যে বাংলাদেশের আমদানি শুল্ক ও তুলা রপ্তানিতে বিধিনিষেধের বিষয়টি তুলে ধরে ভারত। অন্যদিকে, ভারতের স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির বাধা দূর করা এবং পাটজাত পণ্যে অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি জানায় বাংলাদেশ।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের বরাতে এসব তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা জানান, দুই দেশের আলোচনা ইতিবাচক হয়েছে। এ আলোচনা দুই দেশের বাণিজ্যসচিবদের পরিকল্পিত বৈঠকের প্রস্তুতিতে সহায়তা করবে।
দীর্ঘ বিরতির পর এটিই ছিল দুই দেশের বাণিজ্যবিষয়ক যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের প্রথম বৈঠক। ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দুই দেশের সম্পর্কে অবনতি ঘটে। এখন সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। কনস্যুলার বিষয়সহ অন্যান্য ক্ষেত্রেও যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে তুলা আমদানিতে বিধিনিষেধ, ভারতীয় পণ্যে উচ্চ শুল্ক এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যের নিয়ম নিয়ে আপত্তি জানায় ভারত।
ভারতীয় পক্ষের অভিযোগ, ফল, চাল, লোহা ও ইস্পাতের মতো পণ্যে বাংলাদেশ উচ্চ আমদানি শুল্ক আরোপ করেছে। এ ছাড়া উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর স্থলসীমান্ত চৌকি দিয়ে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অনুমোদিত পণ্যের তালিকা অনুসরণ করে বাংলাদেশ।
পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য নেতিবাচক তালিকার ভিত্তিতে হয়। এ ব্যবস্থায় অল্প কিছু পণ্য রপ্তানি নিষিদ্ধ থাকে। অন্যদিকে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর ক্ষেত্রে ইতিবাচক তালিকা অনুসরণ করা হয়। এ তালিকায় নির্দিষ্ট কিছু পণ্য রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বন্ধ হয়ে যাওয়া সীমান্ত হাট, সমন্বিত চেকপোস্ট ও স্থল শুল্ক স্টেশনগুলো আবার চালুর বিষয়টিও বৈঠকে তুলে ধরে ভারত।
বৈঠকে ভারতের স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির ওপর বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার দাবি জানায় ঢাকা। পাটজাত পণ্য ও পলিইথিলিন টেরেফথ্যালেট (পিইটি) ফিল্মের ওপর আরোপিত অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহারের আহ্বানও জানানো হয়।
এ ছাড়া পণ্যের মান সমন্বয় এবং ভারতের মান ব্যুরোর (বিআইএস) অধীনে সনদ দেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করার দাবি জানায় বাংলাদেশ।
বৈঠকে আঞ্চলিক পণ্য পরিবহন ও স্থলবন্দরের অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়েও আলোচনা হয়। ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করে নেপাল ও ভুটানে বাংলাদেশের ট্রাক চলাচলের সুযোগ বাড়ানোর দাবি জানায় ঢাকা।
এ ছাড়া ভারতের স্থল শুল্ক স্টেশনগুলোতে প্রবেশসড়ক, গুদাম ও পণ্য কোয়ারেন্টিনের সুবিধা উন্নত করার আহ্বান জানানো হয়। স্থলবন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো এবং দ্রুত পণ্য খালাসের ব্যবস্থার ওপরও জোর দেয় বাংলাদেশ।
এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে পণ্য পরিবহনে বিলম্ব কমবে। একই সঙ্গে পরিবহন খরচও কমতে পারে। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস