EN ☀️
×

Follow Us

কূটনীতি

অবৈধ অভিবাসন রোধে ইইউর সঙ্গে কাজ করবে বাংলাদেশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৯ পিএম

অবৈধ অভিবাসন রোধে ইইউর সঙ্গে কাজ করবে বাংলাদেশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচার প্রতিরোধ এবং বৈধ পথে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি বাড়াতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, দক্ষ কর্মীদের ইউরোপের শ্রমবাজারে প্রবেশ সহজ করা এবং অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সুরক্ষায় সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

সোমবার (১২ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দপ্তরে ইইউর স্বরাষ্ট্র ও অভিবাসনবিষয়ক কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনারের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ করতে গেলে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অবৈধ অভিবাসনের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। ঝুঁকিপূর্ণ ও অবৈধ পথে মানবপাচার রোধ এবং অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সুরক্ষায় বাংলাদেশ ইইউর সঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অবৈধ অভিবাসন শূন্যের কোঠায় নামিয়ে এনে ইউরোপের শ্রমবাজারে শতভাগ বৈধ ও দক্ষ কর্মী পাঠানোর সুযোগ তৈরি করতে চায় বাংলাদেশ।

ইইউ কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনার বাংলাদেশের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব ও সহযোগিতার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, মানবপাচার প্রতিরোধ এবং অবৈধ অভিবাসনের পথ বন্ধ করা উভয় পক্ষের অগ্রাধিকার। অবৈধ অভিবাসন কমলে বৈধ উপায়ে বাংলাদেশি কর্মীদের ইউরোপের শ্রমবাজারে প্রবেশের সুযোগ সহজ হবে।

বৈঠকে বৈধ অভিবাসনের গতি বাড়াতে ‘ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ’ প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশি কর্মীদের আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ ও সনদ প্রদানের বিষয়েও আলোচনা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রায় ৭৫০ জন দক্ষ কর্মীর ইউরোপীয় সনদপ্রাপ্তির জটিলতা দূর করতে ইইউভুক্ত দেশগুলোর প্রশিক্ষণ বিশেষজ্ঞদের বাংলাদেশে এসে সরাসরি প্রশিক্ষণ ও সনদ প্রদানের আহ্বান জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে ইইউ প্রতিনিধিদল ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, দেশের বিমান, সমুদ্র ও স্থলবন্দরে যাত্রী চলাচল পর্যবেক্ষণ এবং অপরাধীদের শনাক্ত করতে চলতি বছরের শেষ নাগাদ ‘অ্যাডভান্সড প্যাসেঞ্জার ইনফরমেশন অ্যান্ড বর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ চালু করা হবে। এ ব্যবস্থা ইন্টারপোলের ডেটাবেজের সঙ্গে যুক্ত থাকবে।

এ ছাড়া ইউরোপীয় বর্ডার অ্যান্ড কোস্ট গার্ড এজেন্সি (ফ্রন্টেক্স)-এর সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সরাসরি প্রাতিষ্ঠানিক সমঝোতা প্রতিষ্ঠার বিষয়েও আলোচনা হয়। এ উদ্যোগ সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ইইউর সহযোগিতা কামনা

বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, অনিয়ন্ত্রিত জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও সাম্প্রতিক আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার কারণে রোহিঙ্গা সংকট এখন শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্যও গুরুতর হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ ও আরাকান আর্মির ওপর কার্যকর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টিতে ইইউর সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। এ বিষয়ে যৌথ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানোর আশ্বাস দিয়েছে ইইউ প্রতিনিধিদল।

প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউর রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, পরিচালক হেনরিক নিলসেন, ক্যাবিনেট সদস্য গ্রিগোরিওস ডেলাভেকোরাস এবং ইইউর ডেপুটি হেড অব মিশন বাইবা জারিনা।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদসহ স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন