কর্মী রপ্তানি ও বাণিজ্যে বাংলাদেশ-মন্টিনেগ্রো নতুন সম্ভাবনা
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৭ পিএম
মন্টিনেগ্রোতে প্রতি বছর ৫০ হাজারের বেশি দক্ষ ও পেশাজীবী কর্মীর প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্ট সদস্য গোরদান স্তোয়োভিচ। পর্যটন, নির্মাণ, আতিথেয়তা ও চিকিৎসাসেবাসহ বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশ থেকে সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) চুক্তির মাধ্যমে কর্মী নিয়োগের সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (৫ অক্টোবর) পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ ও মন্টিনেগ্রোর মধ্যে পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ গঠনের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বৈঠকে দুই দেশের পার্লামেন্টের সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি সংসদীয় কূটনীতি সম্প্রসারণ, প্রতিনিধি দলের সফর বিনিময় এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়েও মতবিনিময় করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।
দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। এ ক্ষেত্রে পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং বিদ্যমান বাধা দূর করার ওপর গুরুত্ব দেন তারা।
মন্টিনেগ্রো আমদানিনির্ভর দেশ উল্লেখ করে গোরদান স্তোয়োভিচ বলেন, তৈরি পোশাকের পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে ওষুধ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, সিরামিক এবং পাট ও পাটজাত পণ্য আমদানির সুযোগ রয়েছে।
বৈঠকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি কৃষি, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, সামুদ্রিক খাদ্য, পরিবেশবান্ধব পর্যটন, তৈরি পোশাক, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন খাতের সম্ভাবনার কথা জানান।
এর পরিপ্রেক্ষিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে মন্টিনেগ্রোর বিনিয়োগের আগ্রহের কথা জানান গোরদান স্তোয়োভিচ। বাংলাদেশের পর্যটন খাতের উন্নয়নেও যৌথ সহযোগিতা ও বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।
জনশক্তি ও কর্মসংস্থান নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার বাংলাদেশ থেকে দক্ষ জনশক্তির বৈধ অভিবাসন বাড়াতে কাজ করছে।
বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তি পেশাজীবী, প্রকৌশলী, নির্মাণশ্রমিক ও স্বাস্থ্যসেবা কর্মীসহ বিপুলসংখ্যক দক্ষ জনশক্তি রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এর পরিপ্রেক্ষিতে গোরদান স্তোয়োভিচ জানান, মন্টিনেগ্রোতে প্রতি বছর ৫০ হাজারের বেশি দক্ষ জনশক্তির প্রয়োজন রয়েছে। শ্রমবাজারের চাহিদা পূরণে পর্যটন, নির্মাণ, আতিথেয়তা ও চিকিৎসাসেবার মতো খাতে বাংলাদেশ থেকে জি-টু-জি চুক্তির মাধ্যমে কর্মী নিয়োগের সম্ভাবনার বিষয়েও তিনি ইতিবাচক সাড়া দেন।
বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ওয়ার্ক পারমিট প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়েও দুই পক্ষ গুরুত্ব দেয়। শ্রমিকদের চলাচলসংক্রান্ত চুক্তি কার্যকর করার বিষয়েও আলোচনা হয়।
এ ছাড়া শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, খেলাধুলা ও সংস্কৃতি, অভিবাসন এবং ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণ নিয়ে আলোচনা হয়। জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন বিষয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও মতবিনিময় করেন তারা।
আঞ্চলিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে মন্টিনেগ্রোর সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়েও একমত হন প্রতিনিধিরা।