শেখ হাসিনার প্রত্যর্পন ও তারেক রহমানের ভারত সফর
জয়শঙ্করের বিবৃতিরই কী পুনরাবৃত্তি করলেন ত্রিবেদী?
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৩ পিএম
ছবি: বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। সংগৃহীত
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং প্রত্যর্পণ (ফেরত পাঠানো) ইস্যুতে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সাম্প্রতিক মন্তব্য কূটনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হাইকমিশনারের এই বক্তব্য ২০২৪ সালের ৬ই অগাস্ট ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের দেওয়া বিবৃতিরই পুনরাবৃত্তি।
বিশেষ করে বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে যখন দুই দেশের মধ্যে এক ধরনের প্রস্তুতি চলছে। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে এর ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক ব্যাখ্যা রয়েছে।
গত জুনে ঢাকায় হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেন দীনেশ ত্রিবেদী। সম্প্রতি ঢাকায় একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের প্রশ্নোত্তর পর্বে শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানো সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, প্রত্যর্পণের বিষয়টি একটি সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামো ও প্রক্রিয়ার ওপর প্রতিষ্ঠিত। যেহেতু এর সঙ্গে আদালত যুক্ত, তাই কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া সম্ভব নয়।
একই সঙ্গে তিনি ৫ই অগাস্টের পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, শেখ হাসিনা যখন ভারতে যান, তখন তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তাকে আশ্রয় দেওয়া ছাড়া ভারতের সামনে তেমন কোনো বিকল্প ছিল না।
তাঁর ভাষ্যে ‘‘শেখ হাসিনাকে ভারতীয় সেনাবাহিনী নিয়ে যায়নি, বরং বাংলাদেশের তৎকালীন বিশেষ পরিস্থিতিতে সামরিক বিমানে তিনি ভারতে পৌঁছান, যার জন্য দিল্লি আগে থেকে প্রস্তুত ছিল না। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাস্তবতার নিরিখে ভারতকে তখন অবতরণের অনুমতি দিতে হয়েছিল।’’
এ প্রসঙ্গে আজ রবিবার (৪ অক্টোবর) পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ শেখ হাসিনাকে ফেরাতে আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি ভারতের রাজনৈতিক সদিচ্ছারও প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘‘আসামিদের ফেরত আনার জন্য যে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া চলছে, তা যেন আরও দ্রুত সম্পন্ন হয় ভারত সরকার সেদিকে বিশেষ নজর দেবে বলে আমরা আশা করি।’’
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির মনে করেন, হাইকমিশনার মূলত বোঝাতে চেয়েছেন যে এটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং এতে একপাক্ষিকভাবে ভারতের ওপর দায় চাপানোর সুযোগ নেই। অন্যদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক লাইলুফার ইয়াসমীন মনে করেন, হাইকমিশনার এক জায়গায় আটকে না থেকে আলোচনার মাধ্যমে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার তাগিদ দিয়েছেন।
গত ১২ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর বিএনপি নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাজনৈতিক সরকার গঠিত হলে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা দৃশ্যমান হয়। তবে শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একটি অন্যতম শর্ত হিসেবে তুলে ধরেছে বাংলাদেশ সরকার।
শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকের মাধ্যমে দুই দেশ এই কূটনৈতিক জটিলতা কাটিয়ে উঠতে পারে কি না, সেটিই দেখার বিষয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।