EN ☀️
×

Follow Us

কূটনীতি

বাংলাদেশকে অংশীদারদের কাউকে বেছে নিতে বলে না ফ্রান্স: ফরাসি রাষ্ট্রদূত

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৮ পিএম

বাংলাদেশকে অংশীদারদের কাউকে বেছে নিতে বলে না ফ্রান্স: ফরাসি রাষ্ট্রদূত

ছবি সংগৃহীত

অ অ

বাংলাদেশকে ইউরোপ ও অন্য অংশীদারদের মধ্যে কাউকে বেছে নিতে বলে না ফ্রান্স। বরং বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব ও সম্পৃক্ততা আরও বাড়াতে চায় দেশটি।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশের (ডিক্যাব) আয়োজিত ‘ডিক্যাব টক’ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ফরাসি রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লে।

ফরাসি রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘ফ্রান্স, ইউরোপ—আমরা বাংলাদেশকে কখনো বলি না, আমাদের আর তাদের মধ্যে একজনকে বেছে নিন। আমরা অংশীদারত্ব গড়ে তুলি। অংশীদারত্ব কাউকে বাদ দেওয়া নয়। বরং এতে সবাইকে যুক্ত করা হয়।’

তিনি বলেন, ফ্রাঙ্কো-বাংলাদেশ সম্পর্কের বড় সম্ভাবনা রয়েছে।

এয়ারবাস নিয়ে আলোচনা চলছে

বাংলাদেশের এয়ারবাস উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা নিয়েও কথা বলেন ফরাসি রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় নয়, কারিগরি ও ব্যবসায়িক কারণেই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস এয়ারবাস বেছে নিয়েছে।

রাষ্ট্রদূত বলেন, প্রস্তাবিত উড়োজাহাজ চুক্তি নিয়ে আলোচনা এখনো চলছে। তবে এ ধরনের আলোচনা শেষ হতে সময় লাগতে পারে।

তিনি বলেন, বিমান এয়ারবাসের প্রতি আগ্রহ ধরে রেখেছে। চুক্তির কারিগরি আলোচনার বিস্তারিত প্রকাশ করা সম্ভব নয়। কারণ চুক্তিটি বিমান ও এয়ারবাসের মধ্যে।

সেরে-শার্লে বলেন, ‘আলোচনা চলছে এবং খুব ভালোভাবেই চলছে। যথাসময়ে এয়ারবাস ও বিমানের মধ্যে চুক্তি সই হবে। তাই আমি মোটেও উদ্বিগ্ন নই।’

ফরাসি রাষ্ট্রদূত বলেন, এয়ারবাসের সঙ্গে চুক্তির বিষয়টি বর্তমান সরকারের জন্য একটি ভালো পরীক্ষা। তবে তার কাছে এটি কোনো সমস্যা নয়। কয়েক দিন অপেক্ষা করলেই পরিস্থিতি পরিষ্কার হবে।

এফটিএ নিয়ে আগ্রহ দেখানোর আহ্বান

বাংলাদেশের সঙ্গে ইউরোপের সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন ফরাসি রাষ্ট্রদূত। তিনি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এবং বিমান চলাচল খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।

সেরে-শার্লে বলেন, ফ্রান্স বা ইউরোপ বাংলাদেশ থেকে অন্য কোনো দেশকে বাদ দিতে চাইছে না। তারা ‘বর্জনের কোনো অবস্থানে’ নেই।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিভিন্ন দেশের সঙ্গে এফটিএ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভিয়েতনাম, ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার সঙ্গে এ ধরনের চুক্তি রয়েছে। তবে বাংলাদেশ এখনো সেই তালিকায় নেই।

ফরাসি রাষ্ট্রদূত বলেন, ইউরোপের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বে বাংলাদেশকে আগ্রহ দেখাতে হবে। এ কারণেই এয়ারবাসের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশের সঙ্গে ইউরোপের শক্তিশালী বাণিজ্যিক সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের কথা তুলে ধরেন।

রাষ্ট্রদূত বলেন, ফ্রান্স ও ইউরোপ অংশীদারত্বের জন্য উন্মুক্ত। আমরা সত্যিকারের ও দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে চাই। উচ্চপ্রযুক্তির বিভিন্ন খাতেও বাংলাদেশ ও ফরাসি কোম্পানিগুলোর সহযোগিতা রয়েছে।

‘নির্ভরযোগ্য অংশীদার’ ফ্রান্স

ফরাসি রাষ্ট্রদূত বলেন, ফ্রান্স বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের, নির্ভরযোগ্য, পূর্বানুমানযোগ্য ও কল্যাণকামী অংশীদার।

বাংলাদেশের মতো ফ্রান্সও সংঘাতের পরিবর্তে সহযোগিতা, বহুপক্ষীয়তাবাদ এবং বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠাকে গুরুত্ব দেয় বলে জানান তিনি।

ফ্রান্স একটি ধর্মনিরপেক্ষ দেশ উল্লেখ করে সেরে-শার্লে বলেন, সেখানে নাগরিকদের ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিত্তিতে বৈষম্য করা হয় না। সব ধর্মের প্রতি দেশটি শ্রদ্ধাশীল। বিশেষ করে ইসলামের প্রতি সম্মানের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

আরব ও মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে ফ্রান্সের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে বলেও জানান ফরাসি রাষ্ট্রদূত। পাশাপাশি ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি ফ্রান্সের সমর্থনের কথাও তুলে ধরেন।

ইন্দো-প্যাসিফিকে ‘তৃতীয় পথ’

বাংলাদেশের সঙ্গে ফ্রান্সের মূল্যবোধ ও স্বার্থের অনেক মিল রয়েছে বলে মন্তব্য করেন রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যদের মধ্যে ফ্রান্সই ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের একটি বড় শক্তি। এ অঞ্চলে ফ্রান্সের প্রায় ২০ লাখ নাগরিক বসবাস করেন।

ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ফ্রান্সের কূটনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বহুপক্ষীয় ‘তৃতীয় পথ’ এগিয়ে নেওয়া বলে জানান তিনি।

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের ক্রমবর্ধমান প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে ফ্রান্স নিজেকে ভারসাম্য রক্ষাকারী শক্তি হিসেবে দেখছে। ভারত মহাসাগরীয় দেশ হিসেবে নিজেদের অবস্থানকেও গুরুত্ব দিচ্ছে দেশটি।

রাষ্ট্রদূত সেরে-শার্লে বলেন, আধিপত্যশীল শক্তির মুখোমুখি হয়ে ‘তৃতীয় পথ’ এগিয়ে নেওয়ার অর্থ হলো কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন, সমুদ্র নিরাপত্তা ও ভারত মহাসাগরে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।

একই মূল্যবোধ ও শান্তিপূর্ণ আন্তর্জাতিক সম্পর্কের লক্ষ্যে বিশ্বাসী দেশগুলোকে আরও সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।

কানাডার সঙ্গে ফ্রান্সের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হচ্ছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, অন্যান্য দেশের সঙ্গেও সম্পর্ক বাড়ছে। এসব সম্পর্ক শুধু ভূরাজনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে অর্থনীতি ও ব্যবসার বিষয়ও জড়িত।

শেষে ফরাসি রাষ্ট্রদূত বলেন, ফ্রাঙ্কো-বাংলাদেশ সম্পর্কের বড় সম্ভাবনা রয়েছে।

অনুষ্ঠানে ডিক্যাবের সভাপতি এ কে এম মঈনউদ্দীন ও সাধারণ সম্পাদক আবু হেনা ইমরুল কায়েস উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন