কার্বন বাণিজ্যে বাংলাদেশের বড় সম্ভাবনা দেখছে সিঙ্গাপুর
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৩৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক কার্বন বাণিজ্যে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণের বড় সুযোগ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত সিঙ্গাপুরের হাইকমিশনার মিচেল লি। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার পাশাপাশি কার্বন বাণিজ্য বাংলাদেশের জন্য নতুন অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত সুযোগ তৈরি করতে পারে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় সিঙ্গাপুর হাইকমিশনে ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড জাস্টিস ফাউন্ডেশনের (সিএজেএফ) একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
বৈঠকে জলবায়ু কার্যক্রম ও ন্যায়বিচার, কার্বন বাণিজ্য, নবায়নযোগ্য ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, পানি ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু প্রযুক্তি, টেকসই নগরায়ণ, খাদ্য নিরাপত্তা এবং দুই দেশের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময় নিয়ে আলোচনা হয়।
মিচেল লি বলেন, কার্বন বাণিজ্য বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সুবিধাও অর্জন করতে পারে। আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ খাতে এগিয়ে যেতে বাংলাদেশকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
বৈঠকে সিঙ্গাপুরের উল্লম্ব কৃষি ও সীমিত ভূমিতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে টেকসই খাদ্য উৎপাদনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন হাইকমিশনার। পানি ব্যবস্থাপনা, জ্বালানি দক্ষতা, বর্জ্য শোধন এবং টেকসই নগর উন্নয়নে সিঙ্গাপুরের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য কাজে লাগতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, সীমিত ভূমি ও প্রাকৃতিক সম্পদের মধ্যেও আধুনিক প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে সিঙ্গাপুর টেকসই নগর উন্নয়নে এগিয়েছে। এসব ক্ষেত্রে দেশটির প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য শিক্ষণীয় হতে পারে।
সিএজেএফের চেয়ারম্যান আরিফুজ্জামান মামুন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন এখন শুধু পরিবেশগত সংকট নয়। এটি অর্থনীতি, খাদ্য নিরাপত্তা, পানি, স্বাস্থ্য, নগরায়ণ এবং মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত। তাই জলবায়ু মোকাবিলায় বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন একসঙ্গে কাজে লাগানো প্রয়োজন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। অন্যদিকে সীমিত ভূমি, পানি ও প্রাকৃতিক সম্পদের মধ্যেও প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়নের উদাহরণ তৈরি করেছে সিঙ্গাপুর। দুই দেশের অভিজ্ঞতা কাজে লাগালে জলবায়ু মোকাবিলায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
বৈঠকে বাংলাদেশে কার্বন প্রকল্পের সম্ভাবনা, কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগ আকর্ষণের বিষয়েও আলোচনা হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করেন অংশগ্রহণকারীরা।
বাংলাদেশ থেকে সিঙ্গাপুরে সবজি, সামুদ্রিক খাদ্যসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য সরবরাহের সুযোগ এবং সিঙ্গাপুরের আধুনিক খাদ্য উৎপাদন ও সংরক্ষণ প্রযুক্তি থেকে বাংলাদেশের শেখার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়।
ভবিষ্যতে জলবায়ু, পরিবেশ, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, খাদ্য নিরাপত্তা, নগর ব্যবস্থাপনা ও কার্বন বাণিজ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে দুই দেশের বেসরকারি ও নাগরিক পর্যায়ের অংশীদারত্ব আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বৈঠকে সিএজেএফের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান আরিফুজ্জামান মামুনের নেতৃত্বে সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল রওমান স্মিতা, সিনিয়র সাংবাদিক মঈন উদ্দিন খান, ইমতিয়াজ আহমেদ, দৈনিক আমার বার্তার উপসম্পাদক এস এম রানা ও মেহেদী হাসান খান উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন