ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি ও বাণিজ্যমন্ত্রীর সাক্ষাৎ
বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সহজীকরণে বাংলাদেশের পাশে থাকবে ইউএনডিপি
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০২:৩৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশে বিনিয়োগ আকর্ষণ, ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণ, লজিস্টিকস ব্যয় কমানো এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এমএসএমই) সক্ষমতা বাড়াতে সহযোগিতা জোরদার করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)। পাশাপাশি রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আলোচনায় বাংলাদেশের দক্ষতা উন্নয়নেও সহযোগিতা করার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।
রবিবার (৩০ আগস্ট) সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে ইউএনডিপি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিকসের বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে ইউএনডিপির পক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা ক্রমেই বাড়ছে। এ সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসাকে শক্তিশালী করা এবং ব্যবসার পরিবেশগত ও সামাজিক মান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ব্যবসায়িক লাইসেন্স ও অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। আগে কোনো কোনো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রায় তিন মাস সময় লাগলেও বর্তমানে তা দুই সপ্তাহের মধ্যে সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে। এসব প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত ও কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বৈঠকে দেশের উচ্চ লজিস্টিকস ব্যয় কমানো এবং বন্দর ও টার্মিনাল ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক মানের ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পণ্য ওঠানো-নামানোর সময় ও ব্যয় কমিয়ে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
এমএসএমই খাতকে দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী এ খাতে অর্থায়নের ঘাটতি চিহ্নিত করা, উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ ও ব্যবসায়িক দক্ষতা বাড়ানো এবং বাজারের সঙ্গে কার্যকর সংযোগ তৈরিতে ইউএনডিপির সহযোগিতা কামনা করেন।
ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিকস বলেন, ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার পাশাপাশি রপ্তানিমুখী করে তোলার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হবে। একই সঙ্গে কাস্টমস প্রক্রিয়ায় অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব কমানো, বাণিজ্য সহজীকরণ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা ও দর-কষাকষিতে বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ, প্রয়োজনীয় উপকরণ ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ে সহযোগিতা করার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিবর্তন ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে স্টিফেন রড্রিকস বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও অর্থনীতির বহুমুখীকরণে সরকারের অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইউএনডিপির সহায়তা পুনর্বিন্যাস করা হবে। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরাও বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিবর্তনকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (এফটিএ) মাহবুবা খাতুন মিনু, ইউএনডিপির ডেপুটি আবাসিক প্রতিনিধি সোনালি দয়ারত্নে, সহকারী আবাসিক প্রতিনিধি আনোয়ারুল হক, অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ওয়াইস প্যারি এবং প্রকল্প ব্যবস্থাপক মারুফ আজম উপস্থিত ছিলেন।