EN ☀️
×

Follow Us

কূটনীতি

অতীত ভুলে নয়, মতপার্থক্য মিটিয়ে নতুন পথে ঢাকা-দিল্লি: দীনেশ ত্রিবেদী

ডেইলি সান রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ১২:২৮ এএম

অতীত ভুলে নয়, মতপার্থক্য মিটিয়ে নতুন পথে ঢাকা-দিল্লি: দীনেশ ত্রিবেদী
অ অ

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার মতপার্থক্য আলোচনার মাধ্যমে মিটিয়ে পারস্পরিক ও নিঃশর্ত আস্থার ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন পথে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেছেন, অতীতকে ভুলে যাওয়ার প্রয়োজন নেই; বরং অতীতের সমস্যাগুলো সমাধান করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাতে ঢাকার একটি হোটেলে বাংলাদেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা এবং ভারতের কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রির (সিআইআই) সফররত প্রতিনিধিদলের সম্মানে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং সিআইআইয়ের মহাপরিচালক চন্দ্রজিৎ ব্যানার্জি বক্তব্য দেন।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘আমাদের নিজেদের গুছিয়ে নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। আমি বলছি না অতীতকে ভুলে যেতে। অতীতকে মনে রেখে সেসব মতপার্থক্য ও সমস্যার সমাধান করতে হবে। কিন্তু সামনে এগিয়ে যেতে হবে, স্থবির হয়ে থাকা যাবে না।’

বাংলাদেশ ও ভারত—দুই দেশই সম্ভাবনাময় দেশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুই দেশের তরুণ প্রজন্ম সুযোগ, সমৃদ্ধি ও উন্নত ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা করছে। তাই তরুণদের আকাঙ্ক্ষা ও ভবিষ্যৎ স্বপ্নকে দুই দেশের সম্পর্কের দিকনির্দেশনার কেন্দ্রে রাখতে হবে।

দুই দেশের সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে ‘পারস্পরিক ও নিঃশর্ত আস্থা’র ওপর গুরুত্ব দিয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, প্রকৃত বন্ধুত্বের জন্য একে অপরের সমস্যা ও উদ্বেগ বোঝা জরুরি। দুই প্রতিবেশীর মধ্যে কিছু সমস্যা রয়েছে স্বীকার করে তিনি বলেন, যোগাযোগ ও আলোচনার মাধ্যমে এসব মতপার্থক্য সমাধান করা সম্ভব।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বৈঠকে বসলে দুই দেশের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের পথ আরও সহজ হবে বলেও আশাবাদ জানান তিনি।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর প্রসঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁকে জানিয়েছেন, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে বৈঠক হওয়া প্রয়োজন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে গেলে তাঁকে যথাযোগ্য সম্মান দেওয়া হবে বলেও নরেন্দ্র মোদি আশ্বস্ত করেছেন বলে জানান তিনি।

ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ওই সফর দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে স্মরণীয় হয়ে উঠতে পারে এবং এর সুফল দুই দেশের জনগণ ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের কাছে পৌঁছাবে।

অর্থনৈতিক ও জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে দূরত্ব কমাতে বেসরকারি খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কোনো সরকার একা সবকিছু করতে পারে না; ব্যবসায়ী সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণও প্রয়োজন।

কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগকে বাংলাদেশ-ভারত সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে দুই দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে পারস্পরিক সহযোগিতার এই যাত্রায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

ভারতের ‘প্রতিবেশী প্রথম’ নীতির কথা উল্লেখ করে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে নয়াদিল্লি বিশেষ গুরুত্ব দেয়। দুই দেশের সম্পর্কে কিছু ‘উত্থান-পতন’ থাকলেও তা দীর্ঘদিনের বন্ধনকে দুর্বল করার কারণ হতে পারে না।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের রয়েছে অভিন্ন ইতিহাস ও সংস্কৃতি। এই অভিন্ন ঐতিহ্যকে আরও শক্তিশালী করার মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়া সম্ভব।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ‘জনগণের মানুষ’ হিসেবে উল্লেখ করে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, তাঁর নির্বাচনী বিজয়ের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রথম অভিনন্দন জানান এবং তাঁকেই প্রথম ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানান।

সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও লোকসভার স্পিকারের বাংলাদেশ সফর এবং ঢাকায় তাঁর নিজের দায়িত্ব গ্রহণ দুই দেশের সম্পর্ক জোরদারে ভারতের আগ্রহের প্রতিফলন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, প্রাণবন্ত গণতন্ত্রে মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। মতপার্থক্য না থাকলে সেটি গণতন্ত্র নয়। বাংলাদেশের মানুষের উদ্বেগগুলো ভারত গভীরভাবে বুঝতে পারছে এবং সেগুলো সমাধানে দুই দেশের কর্মকর্তারা সাম্প্রতিক সময়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ককে সমতার অংশীদারত্ব হিসেবে দেখতে হবে। মানুষের উদ্বেগ ও মতপার্থক্য দূর করার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো দুই পক্ষের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ ও আলোচনা।

বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের প্রসঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, নতুন বাংলাদেশের তরুণরা অনেক সংগ্রাম ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে গেছে। তাদের শান্তি, সমৃদ্ধি ও উন্নত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি করতে হবে। বাংলাদেশ ও ভারতের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার মাধ্যমে এ ধরনের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব।

দুই দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘চলুন, আমরা এই যাত্রা একসঙ্গে শুরু করি।’

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নতুন একটি পর্যায়ে প্রবেশ করবে আশা প্রকাশ করে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দুই দেশের সম্পর্কের ইতিহাসে এটি একটি ‘সোনালি অধ্যায়’ হয়ে উঠতে পারে। অভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে কাজে লাগিয়ে সম্পর্কের নতুন সুর তৈরির আহ্বানও জানান তিনি।

এদিকে, সিআইআইয়ের মহাপরিচালক চন্দ্রজিৎ ব্যানার্জির নেতৃত্বে ভারতীয় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলটি বুধবার সকালে ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে। ১৪ সদস্যের এ প্রতিনিধিদলে ভারত বায়োটেক, গডরেজ ইন্ডাস্ট্রিজ, মাহিন্দ্রা গ্রুপ, লারসেন অ্যান্ড টুব্রো, অ্যাপোলো হাসপাতাল, ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা রয়েছেন।

সফরকালে প্রতিনিধিদলটি বাংলাদেশের সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে পারস্পরিক স্বার্থ ও সুবিধাসংশ্লিষ্ট বিষয়, নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র এবং দুই দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করে। দুই পক্ষ অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের বিভিন্ন সুযোগ নিয়েও মতবিনিময় করে।

আরও পড়ুন