EN ☀️
×

Follow Us

কূটনীতি

দক্ষতা উন্নয়ন ও নিরাপদ অভিবাসনে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৬:১২ পিএম

দক্ষতা উন্নয়ন ও নিরাপদ অভিবাসনে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ
অ অ

দক্ষ জনশক্তি তৈরি, নিরাপদ কর্মসংস্থান এবং অনিয়মিত অভিবাসন ও মানবপাচার রোধে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

রবিবার (৯ আগস্ট) সচিবালয়ে নিজের কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, যুক্তরাজ্যের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানের কর্মী তৈরি করতে ইংরেজি ভাষা, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা প্রয়োজন। দেশের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলমির সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ‘গ্রিন স্কিল’ ও ‘ডিজিটাল স্কিল’ প্রশিক্ষণেও সহযোগিতা চান তিনি।

বিদেশফেরত কর্মীদের টেকসই পুনর্বাসন ও সামাজিক পুনঃএকত্রীকরণের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন মন্ত্রী। এ ক্ষেত্রে এফসিডিও, আইএলও ও বিশ্বব্যাংকের অংশীদারত্বে চলমান ‘রাইজ’ প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেন তিনি।

দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় আলোচনার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন এবং অভিবাসন ও দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকিতে একটি ‘যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ’ গঠনের ওপরও গুরুত্ব দেন আরিফুল হক চৌধুরী।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেন, ইউরোপের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ কর্মী তৈরিতে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর সংযোগ স্থাপন করা যেতে পারে। আন্তর্জাতিক মানের সনদপ্রাপ্ত কর্মীদের বিভিন্ন দেশে পাঠানো গেলে তরুণেরা বৈধ পথে বিদেশে যেতে আরও উৎসাহিত হবেন।

বৈঠকে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী বাংলাদেশে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে বাংলাদেশের সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে আগ্রহী যুক্তরাজ্য।

তিনি বাংলাদেশ থেকে নিরাপদ, নিয়মিত ও যৌক্তিক ব্যয়ে শ্রম অভিবাসনের বিষয়ে যুক্তরাজ্যের উদ্বেগের কথা জানান। এ ছাড়া অভিবাসন ব্যবস্থা উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়ানোর কথা বলেন। গ্লোবাল কমপ্যাক্ট অন মাইগ্রেশন বাস্তবায়নেও সহযোগিতার কথা জানান তিনি।

যুক্তরাজ্যে অনিয়মিত অভিবাসন নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। সারাহ কুক বলেন, যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের বিষয়ে সরকার ও জনগণ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বর্তমানে দেশটির আশ্রয়প্রার্থীদের তালিকায় শীর্ষ পাঁচটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে।

সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে আশ্রয়ের আবেদন করা বাংলাদেশিদের মধ্যে অল্পসংখ্যকের আবেদন মঞ্জুর হয়েছে। বাকিদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে বলে জানান তিনি।

হাইকমিশনার আরও বলেন, আশ্রয়ের আবেদন নামঞ্জুর হওয়ার পর কেউ স্বেচ্ছায় বাংলাদেশে ফিরতে চাইলে পুনর্বাসনের জন্য ৩ হাজার পাউন্ড আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। তবে আইনি প্রক্রিয়ায় ফেরত পাঠানো হলে এই সুবিধা পাওয়া যাবে না।

সাক্ষাতে বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনের জাস্টিস অ্যান্ড হোম অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিলর রায়ান ডানকানসনসহ প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন