EN ☀️
×

Follow Us

কূটনীতি

ইইউ কূটনীতিকরা

সবুজ বিনিয়োগ ও টেকসই জাহাজ নির্মাণে বাংলাদেশ ভবিষ্যতের বড় হাব

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৮:১৮ পিএম

সবুজ বিনিয়োগ ও টেকসই জাহাজ নির্মাণে বাংলাদেশ ভবিষ্যতের বড় হাব
অ অ

সবুজ শিল্প ও পরিবেশবান্ধব জাহাজ নির্মাণে বাংলাদেশ ভবিষ্যতের বড় হাব হয়ে ওঠার সম্ভাবনা দেখছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কূটনীতিকরা। পোশাক খাতের বাইরে অর্থনীতি বহুমুখীকরণে এই রূপান্তরকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তারা।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত জোরিস ভ্যান বোমেল এবং স্পেনের রাষ্ট্রদূত গ্যাব্রিয়েল মারিয়া সিস্তিয়াগা ওচোয়া যৌথভাবে নারায়ণগঞ্জের কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ডকইয়ার্ড এবং বিশ্বের বৃহত্তম তুলা পুনর্ব্যবহারকারী প্ল্যান্ট ‘রিকভার’ পরিদর্শন করেন।

নারায়ণগঞ্জের কর্ণফুলি শিপ বিল্ডার্স লিমিটেড পরিদর্শনের পর ইইউ রাষ্ট্রদূত মিলার বলেন, এটি চমৎকার। এই খাতের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতির আধুনিকায়ন ও বহুমুখীকরণ প্রয়োজন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন আমাদের সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে সঙ্গে নিয়ে আপনাদের ভবিষ্যতের সাফল্যের গল্পের অংশ হতে চায়। আমরা এখানে একটি অত্যন্ত ইতিবাচক এজেন্ডা নিয়ে এসেছি।

তিনি তুলে ধরেন যে, কীভাবে ইউরোপীয় পুঁজি, দক্ষতা এবং প্রযুক্তিকে বাংলাদেশী উদ্যোক্তাদের সঙ্গে মিলিয়ে এটিকে ভবিষ্যতের সাফল্যের গল্পে রূপান্তর করা যেতে পারে।

ডাচ দূত বোমেল বলেন, আমাদের দীর্ঘদিনের সুসম্পর্কের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিষয়টি বুঝতে এবং দেখতে আমরা এখানে এসেছি। তাই নেদারল্যান্ডসের জন্য, ঢাকা দূতাবাসের জন্য, নেদারল্যান্ডস এবং বাংলাদেশের মধ্যে সামুদ্রিক (মেরিটাইম) খাতে সহযোগিতা একটি অগ্রাধিকার।

তিনি উন্নত ডিজাইনের আরও ভালো জাহাজ তৈরির জন্য উদ্ভাবনী সমাধান খুঁজে বের করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে জাহাজ নির্মাণ শিল্পকে পরিবেশবান্ধব করার ক্ষেত্রে একসাথে কাজ করার ওপর জোর দেন।

ডাচ দূত বলেন, তারা ব্যবসায়িক-টু-ব্যবসায়িক, সরকার-টু-সরকার সহযোগিতা জোরদার এবং বাংলাদেশের সামুদ্রিক খাতের সঙ্গে সহযোগিতা আরও গভীর করার অপেক্ষায় আছেন।

২০২৫ সালে ৫৪৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করে নেদারল্যান্ডস বাংলাদেশে শীর্ষ বিদেশি বিনিয়োগকারী হয়ে উঠেছে, যা প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, উদ্ভাবন এবং যৌথ সমৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করছে।

স্পেনের রাষ্ট্রদূত বলেন, আপনারা এখানে যা করছেন তা দেখে আমি অত্যন্ত মুগ্ধ। 

তিনি আরও যোগ করেন যে সামুদ্রিক খাত এমন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খাত হতে পারে যেখানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং এর সদস্য রাষ্ট্রগুলো তাদের সহযোগিতা জোরদার করতে পারে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের সাথে তার ঐতিহ্যগত উন্নয়ন অংশীদারিত্বের বাইরে তাকিয়ে এখন বিনিয়োগ, উদ্ভাবন এবং রাজনৈতিক সহযোগিতার একটি নতুন যুগের দিকে মনোনিবেশ করছে।

সম্পর্কটিকে একটি বিবর্তনশীল সম্পর্ক হিসেবে বর্ণনা করে রাষ্ট্রদূত মিলার বলেন, ইইউ বাংলাদেশের বৃহত্তম রপ্তানি গন্তব্য, সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগের সবচেয়ে বড় উৎস এবং উন্নয়ন অনুদানের শীর্ষ সরবরাহকারী হিসেবে বজায় রয়েছে।

তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতের অংশীদারিত্ব বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং টেকসই শিল্প প্রবৃদ্ধি দ্বারা চালিত হবে।

ইইউ দূত বলেন, সম্পর্কটি উন্নয়ন সহায়তা এবং বাণিজ্য নির্ভরতা থেকে সরে এসে বিনিয়োগ ও রাজনৈতিক সহযোগিতার কেন্দ্রবিন্দুতে রূপ নিচ্ছে।

এই সফরের একটি বড় ফোকাস ছিল সার্কুলার ইকোনমি বা বৃত্তাকার অর্থনীতির প্রচার। প্রতিনিধি দলটি শীর্ষস্থানীয় পুনর্ব্যবহৃত তুলা ফাইবার উৎপাদক 'রিকভার' পরিদর্শন করেন, যা যান্ত্রিকভাবে পুনর্ব্যবহৃত তুলার বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম উৎপাদনকারী।

স্পেন, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভিয়েতনাম এবং এল সালভাদরে রিসাইক্লিং সুবিধা থাকায় কোম্পানিটি বিশ্বব্যাপী এবং জটিল সাপ্লাই চেইনকে সহায়তা করতে সক্ষম।

ইইউ বাংলাদেশকে একটি আঞ্চলিক রিসাইক্লিং হাব হওয়ার বিশাল সম্ভাবনাময় দেশ হিসেবে দেখে, যা ইউরোপের নিজস্ব টেকসই লক্ষ্যগুলোকে সমর্থন করার পাশাপাশি নতুন শিল্প তৈরি করবে।

তিন রাষ্ট্রদূত জোর দিয়ে বলেন, পরিবেশবান্ধব উৎপাদনের দিকে বাংলাদেশের রূপান্তর ইউরোপীয় বাজারে দীর্ঘমেয়াদি প্রবেশাধিকার বজায় রাখতে সাহায্য করবে, বিশেষ করে যখন দেশটি স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

কর্ণফুলি শিপইয়ার্ডের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান প্রযুক্তিগত সক্ষমতা তুলে ধরে ব্যাখ্যা করেন যে, ইউরোপীয় অংশীদারদের সাথে বছরের পর বছর সহযোগিতার ফলে কোম্পানিটি উন্নত জাহাজ নির্মাণ কৌশল আয়ত্ত করতে পেরেছে।

তারা বলেন, বাংলাদেশের এখন বিভিন্ন ধরনের বাণিজ্যিক ও নৌযান তৈরির দক্ষতা রয়েছে, তবে রপ্তানি সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে অর্থায়ন ও নীতিগত সহায়তা প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

শিপইয়ার্ডের কর্মকর্তারা ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে পরিবেশবান্ধব অর্থায়নে সহজ প্রবেশাধিকারের আহ্বান জানিয়ে যুক্তি দেন যে, শক্তিশালী আর্থিক সহযোগিতা বাংলাদেশকে একটি বিলিয়ন ডলারের জাহাজ রপ্তানিকারক দেশে রূপান্তর করতে পারে, যা ইউরোপীয় প্রযুক্তি সরবরাহকারী এবং বাংলাদেশী প্রস্তুতকারক উভয় পক্ষকেই লাভবান করবে।

দিনব্যাপী এই সফরকালে রাষ্ট্রদূতরা ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কমোডোর ফায়েজ, কর্ণফুলি শিপ বিল্ডার্স লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী এম এ রশিদ এবং রিকভার-এর কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করেন। সূত্র: ইউএনবি

আরও পড়ুন