EN ☀️
×

Follow Us

কূটনীতি

বাংলাদেশকে ৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকা ঋণ দেবে জাপান

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৬:১৩ পিএম

বাংলাদেশকে ৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকা ঋণ দেবে জাপান
অ অ

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে ৫০ বিলিয়ন ইয়েন (বাংলাদেশি প্রায় সাড়ে ৩৮শ কোটি টাকা) ঋণ সহায়তা দিচ্ছে জাপান। মঙ্গলবার ঢাকায় এ ঋণের জন্য নোট বিনিময় ও ঋণচুক্তি সই হয়েছে।

রাজধানীতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী নোট বিনিময় চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। পরে জাইকা বাংলাদেশের প্রধান প্রতিনিধি তাকাহাশি জুনকো ও ইআরডি সচিব ঋণচুক্তিতে সই করেন।

জাপান দূতাবাস জানিয়েছে, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) যৌথ অর্থায়নে দেওয়া এ ঋণের উদ্দেশ্য হলো সাম্প্রতিক বৈশ্বিক সংকট, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতার কারণে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ অনিশ্চয়তার প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশকে সহায়তা করা।

এই ঋণের আওতায় বাংলাদেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করা, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করা এবং স্থিতিশীল জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারের চলমান উদ্যোগে সহায়তা দেওয়া হবে। এসব পদক্ষেপ দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, সংস্কার কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা এবং দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি বলেন, এই সহায়তা বাংলাদেশের প্রতি জাপানের অবিচল অংশীদারত্বের প্রতিফলন। তিনি বলেন, কৌশলগত অংশীদারত্বের আওতায় বাংলাদেশ জাপানের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী দেশ এবং ‘মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক’ বাস্তবায়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

জাপান দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, এ ঋণ ‘পাওয়ার এশিয়া’ উদ্যোগের আওতায় প্রথম জাপানি ওডিএ ঋণ প্রকল্প। ২০২৬ সালের এপ্রিলে জ্বালানি স্থিতিস্থাপকতা বিষয়ে অনুষ্ঠিত এজেক প্লাস অনলাইন সম্মেলনে জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি সানায়ে এ উদ্যোগ ঘোষণা করেন। ওই সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও অংশ নেন।

পাওয়ার এশিয়ার লক্ষ্য হলো জ্বালানি সংগ্রহ, সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখা, জ্বালানির উৎস বৈচিত্র্যকরণ এবং শিল্পখাতের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এশিয়ার জ্বালানি ও সম্পদগত স্থিতিস্থাপকতা জোরদার করা।

জাপান মনে করছে, এই ঋণ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি এশিয়ার সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিশীলতা রক্ষায়ও ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে অবকাঠামো, জ্বালানি, পরিবহন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বেসরকারি খাতের সহযোগিতাসহ দুই দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অংশীদারত্ব আরও বিস্তৃত হবে।

স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রায় জাপান গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে কাজ করে আসছে। দেশটির সরকার জানিয়েছে, বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা, সমৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নের জন্য ভবিষ্যতেও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

আরও পড়ুন