প্রিন্টঃ ২০ অক্টোবর ২০২৬
প্রখ্যাত আলোকচিত্রী রঘু রাইয়ের প্রয়াণে বাংলাদেশের হাইকমিশনারের শ্রদ্ধা
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশঃ ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:২২ পিএম
শেয়ার করার বিকল্পগুলি
ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ প্রয়াত প্রখ্যাত ভারতীয় আলোকচিত্রী রঘু রাই-এর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। এক আবেগঘন বার্তায় তিনি রঘু রাইকে বিশ্ব আলোকচিত্রের এক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন, যার জীবন ও কর্ম ভৌগোলিক সীমানা অতিক্রম করে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি ব্যক্তিগত শোক প্রকাশ করে বলেন, রঘু রাইয়ের সেই আন্তরিক কণ্ঠস্বর ও নির্মল উর্দু ভাষায় শুভেচ্ছা আর শোনা যাবে না। ২০২৫ সালের এপ্রিলে দিল্লিতে প্রথম সাক্ষাতের পর থেকেই রঘু রাই তাঁকে ছোট ভাইয়ের মতো স্নেহ করতেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
হাইকমিশনার জানান, দিল্লিতে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই রঘু রাই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তাঁর কন্যার মাধ্যমে ‘Birth of a Nation’ শীর্ষক একটি বই উপহার পাঠান। বইটি ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ধারণ করা দুর্লভ আলোকচিত্রের ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যা তিনি দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষণ করেছিলেন।
কর্মজীবনের শুরুতে ‘দ্য স্টেটসম্যান’-এ কাজ করা রঘু রাই ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের আলোকচিত্র ধারণের জন্য বিশেষভাবে স্মরণীয়। মাত্র ২৯ বছর বয়সে তিনি বাংলাদেশে এসে যুদ্ধ পরিস্থিতি কভার করেন এবং মানবিক বিপর্যয়, বাস্তুচ্যুতি ও শরণার্থী জীবনের হৃদয়বিদারক চিত্র ক্যামেরাবন্দি করেন।
শ্রদ্ধা বার্তায় রিয়াজ হামিদুল্লাহ উল্লেখ করেন, রঘু রাই যুদ্ধকালীন নানা অভিজ্ঞতা তাঁর সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছিলেন—যেখানে যুদ্ধক্ষেত্রের ভয়াবহতা ও শরণার্থী শিবিরের দুর্দশার চিত্র উঠে আসে। তিনি নিজের শৈশবের দেশভাগ-সংক্রান্ত অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরতেন, যা তাঁকে বাস্তুচ্যুত মানুষের কষ্ট গভীরভাবে উপলব্ধি করতে সাহায্য করে।
আলোকচিত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭২ সালে ভারত সরকার রঘু রাইকে ‘পদ্মশ্রী’ সম্মানে ভূষিত করে।
রিয়াজ হামিদুল্লাহ তাঁর শ্রদ্ধা নিবেদনে বলেন, রঘু রাই ছিলেন আলোকচিত্র, শিল্প ও নান্দনিকতার এক অনন্য ব্যক্তিত্ব, যার কাজ বিশ্বজনীন হয়ে উঠেছে। তাঁর প্রয়াণে ফটোসাংবাদিকতার এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অবসান ঘটল।
শেয়ার করার বিকল্পগুলি
প্রখ্যাত আলোকচিত্রী রঘু রাইয়ের প্রয়াণে বাংলাদেশের হাইকমিশনারের শ্রদ্ধা
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:২২ পিএম
শেয়ার করার বিকল্পগুলি
ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ প্রয়াত প্রখ্যাত ভারতীয় আলোকচিত্রী রঘু রাই-এর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। এক আবেগঘন বার্তায় তিনি রঘু রাইকে বিশ্ব আলোকচিত্রের এক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন, যার জীবন ও কর্ম ভৌগোলিক সীমানা অতিক্রম করে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি ব্যক্তিগত শোক প্রকাশ করে বলেন, রঘু রাইয়ের সেই আন্তরিক কণ্ঠস্বর ও নির্মল উর্দু ভাষায় শুভেচ্ছা আর শোনা যাবে না। ২০২৫ সালের এপ্রিলে দিল্লিতে প্রথম সাক্ষাতের পর থেকেই রঘু রাই তাঁকে ছোট ভাইয়ের মতো স্নেহ করতেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
হাইকমিশনার জানান, দিল্লিতে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই রঘু রাই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তাঁর কন্যার মাধ্যমে ‘Birth of a Nation’ শীর্ষক একটি বই উপহার পাঠান। বইটি ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ধারণ করা দুর্লভ আলোকচিত্রের ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যা তিনি দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষণ করেছিলেন।
কর্মজীবনের শুরুতে ‘দ্য স্টেটসম্যান’-এ কাজ করা রঘু রাই ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের আলোকচিত্র ধারণের জন্য বিশেষভাবে স্মরণীয়। মাত্র ২৯ বছর বয়সে তিনি বাংলাদেশে এসে যুদ্ধ পরিস্থিতি কভার করেন এবং মানবিক বিপর্যয়, বাস্তুচ্যুতি ও শরণার্থী জীবনের হৃদয়বিদারক চিত্র ক্যামেরাবন্দি করেন।
শ্রদ্ধা বার্তায় রিয়াজ হামিদুল্লাহ উল্লেখ করেন, রঘু রাই যুদ্ধকালীন নানা অভিজ্ঞতা তাঁর সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছিলেন—যেখানে যুদ্ধক্ষেত্রের ভয়াবহতা ও শরণার্থী শিবিরের দুর্দশার চিত্র উঠে আসে। তিনি নিজের শৈশবের দেশভাগ-সংক্রান্ত অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরতেন, যা তাঁকে বাস্তুচ্যুত মানুষের কষ্ট গভীরভাবে উপলব্ধি করতে সাহায্য করে।
আলোকচিত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭২ সালে ভারত সরকার রঘু রাইকে ‘পদ্মশ্রী’ সম্মানে ভূষিত করে।
রিয়াজ হামিদুল্লাহ তাঁর শ্রদ্ধা নিবেদনে বলেন, রঘু রাই ছিলেন আলোকচিত্র, শিল্প ও নান্দনিকতার এক অনন্য ব্যক্তিত্ব, যার কাজ বিশ্বজনীন হয়ে উঠেছে। তাঁর প্রয়াণে ফটোসাংবাদিকতার এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অবসান ঘটল।