নৈশভোজে ডোভাল-খলিলুর বৈঠক, সম্পর্ক পুনর্গঠনে নতুন বার্তা
ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক
প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২৯ এএম
ছবি: সংগৃহীত
ভারত সফরে গিয়ে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় নয়াদিল্লিতে পৌঁছানোর পরপরই ডোভাল তার সম্মানে নৈশভোজের আয়োজন করেন, যেখানে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, সাম্প্রতিক সময়ের টানাপোড়েনের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক পুনর্গঠন ও নতুন মাত্রা দেওয়ার লক্ষ্যে এই বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পারস্পরিক আস্থা ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক জোরদারের বিষয়ে উভয় পক্ষ মতবিনিময় করেছে।
ড. খলিলুর রহমান, যিনি এর আগে জাতিসংঘে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবেও কাজ করেছেন, বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার গঠনের পর ভারত সফরকারী প্রথম মন্ত্রী। তার সফরকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ড. হুমায়ুন কবিরসহ একটি প্রতিনিধিদল উপস্থিত ছিলেন। অপরদিকে, অজিত ডোভাল সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন বলে কূটনৈতিক মহলে ধারণা রয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই সফরে বাংলাদেশ ‘মর্যাদা, পারস্পরিক আস্থা, সম্মান ও অভিন্ন স্বার্থ’-এর ভিত্তিতে স্থিতিশীল ও ধারাবাহিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেবে। সফরটি ভবিষ্যতে আরও ফলপ্রসূ ও টেকসই সহযোগিতার ভিত্তি তৈরি করবে বলেও আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
বুধবার খলিলুর রহমান ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস. জয়শঙ্কর, বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এবং পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী হারদীপ সিং পুরির সঙ্গে বৈঠক করবেন। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের অনুরোধ জানাতে পারে বলে জানা গেছে।
এছাড়া বৈঠকগুলোতে ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণ, বাংলাদেশি পণ্যের জন্য ভারতীয় স্থল ও সমুদ্রবন্দর ব্যবহারের সুযোগ পুনর্বহাল, গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তি নবায়ন এবং সীমান্তে গুলিবর্ষণের মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে।
এর আগে সফর উপলক্ষ্যে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা করেন। দুই দেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ‘মানুষকেন্দ্রিক সহযোগিতা’ বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিএনপি নেতৃত্বের সঙ্গে ভারতের যোগাযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজায় ভারতের প্রতিনিধিত্ব এবং নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার উপস্থিতি—এই কূটনৈতিক যোগাযোগেরই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অতীতের ব্যক্তি-নির্ভর সম্পর্কের পরিবর্তে জনগণভিত্তিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক গড়ে তোলার দিকেই এখন দুই দেশ এগোতে চাইছে, যা ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।