হাইকমিশনার আবিদা ইসলাম
জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে সত্যিকারের মাইলফলক
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৪৮ এএম
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার আবিদা ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে একটি সত্যিকারের মাইলফলক।
তিনি বলেন, এই নির্বাচন জনগণের অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্য একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ব্রিটিশ পার্লামেন্টের একটি কমিটি রুমে কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশন (সিপিএ) আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ইলেকশন: হোয়াট নেক্সট’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
হাইকমিশনার তার বক্তব্যে জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান–এর নেতৃত্বাধীন সরকার একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ার স্পষ্ট ভিশন নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এই ভিশনের মূল ভিত্তি হলো গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং মানবাধিকার নিশ্চিত করা।
তিনি বলেন, সরকার দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বাস্তবভিত্তিক ও অর্থবহ পরিবর্তন আনতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
প্যানেল আলোচনাটি সঞ্চালনা করেন ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য আপসানা বেগম। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশ বিষয়ক বাণিজ্য দূত ব্যারোনেস উইন্টারটন, চ্যাথাম হাউজ–এর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক জ্যেষ্ঠ গবেষণা ফেলো সিতেজ বাজপেয়ী এবং ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ–এর সিনিয়র রিসার্চ ফেলো সোহেলা নাজনীন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির সাবেক নেতা জেরেমি করবিন, সংসদ সদস্য রূপা হক, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীরা।
আবিদা ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–র নির্বাচনী ইশতেহার এবং ‘জুলাই সনদ’-এর সংস্কার প্রস্তাবনাগুলোর মধ্যে একাধিক ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সামঞ্জস্য রয়েছে। এসব সংস্কার বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও জানান, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য বাংলাদেশকে একটি ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তর করা। এ লক্ষ্য অর্জনে অর্থনৈতিক ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচিকে তিনি সামাজিক অন্তর্ভুক্তির একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন, যা নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এক প্রশ্নের জবাবে হাইকমিশনার বলেন, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির মূল দর্শন হলো দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা।
অন্যদিকে, ব্যারোনেস উইন্টারটন নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করতে আগ্রহী। তিনি জানান, বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা এবং সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ায় যুক্তরাজ্য সরকার সহযোগিতা প্রদান করছে।
প্যানেলিস্ট সিতেজ বাজপেয়ী তার পর্যবেক্ষণে বলেন, দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় বিএনপির এই নির্বাচনী বিজয় প্রত্যাশিত ছিল এবং এটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা নির্দেশ করে।