রোহিঙ্গাদের রান্নার জ্বালানিতে চীনের বড় সহায়তা, স্বাগত জানাল ইউএনএইচসিআর
এর ফলে প্রায় ৪ লাখ ৫৮ হাজার শরণার্থী—অর্থাৎ প্রায় ৯৪ হাজার পরিবার—পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ রান্নার জ্বালানির সুবিধা পাবে
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৩:১৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের রান্নার জ্বালানির চাহিদা পূরণে চীনের দেওয়া ২৫ লাখ মার্কিন ডলারের অনুদানকে স্বাগত জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর। বৈশ্বিকভাবে মানবিক সহায়তার তহবিল সংকুচিত হয়ে আসার প্রেক্ষাপটে এই সহায়তাকে সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে সংস্থাটি।
রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) ইউএনএইচসিআর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, চীনের ‘গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সাউথ-সাউথ কো-অপারেশন ফান্ড’-এর অর্থায়নে ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সরবরাহ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এর ফলে প্রায় ৪ লাখ ৫৮ হাজার শরণার্থী—অর্থাৎ প্রায় ৯৪ হাজার পরিবার—পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ রান্নার জ্বালানির সুবিধা পাবে।
বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ শরণার্থী অধ্যুষিত এলাকায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক ও সুরক্ষা উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইসেন বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী যখন মানবিক সহায়তার অর্থায়ন কমে যাচ্ছে এবং বহু জীবনরক্ষাকারী কর্মসূচি হুমকির মুখে, তখন চীনের এই উদার অনুদান বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।’
তিনি বলেন, ‘এই সহায়তা কেবল রান্নার গ্যাস সরবরাহেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মর্যাদা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সহায়ক। এটি স্মরণ করিয়ে দেয় যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখনো শরণার্থীদের পাশে রয়েছে।’
বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, বৈশ্বিক মানবিক সহায়তার তহবিল কমে আসায় ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর জীবন আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগী ও বন্ধুরাষ্ট্র হিসেবে চীন তার মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখছে। তিনি জানান, প্রকল্পটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে ইউএনএইচসিআর ও বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে চীন, যাতে রাখাইন রাজ্য থেকে বাস্তুচ্যুত মানুষরা দ্রুত এর সুফল পেতে পারেন।
ইউএনএইচসিআর জানায়, রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকটের আট বছর পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশ এখনো প্রায় ১১ লাখ ৬০ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। তাদের দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরতা অব্যাহত রয়েছে। চীনের এই অনুদানের ফলে এলপিজি সরবরাহ কার্যক্রম চলমান থাকবে, যা জ্বালানি কাঠের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে শরণার্থীদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টিমান উন্নত করবে। একই সঙ্গে ক্যাম্প ও আশপাশের বন ও পরিবেশ সংরক্ষণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
ইভো ফ্রেইসেন আরও বলেন, ‘২০১৮ সালে এলপিজি সরবরাহ কার্যক্রম চালু হওয়ার পর থেকে শরণার্থীদের আর জ্বালানি কাঠ সংগ্রহের জন্য ক্যাম্পের বাইরে যেতে হয় না। এতে নারী ও মেয়েদের সুরক্ষাজনিত ঝুঁকি কমেছে এবং শিশুরা আগের চেয়ে বেশি সময় স্কুলে দিতে পারছে।” তিনি জানান, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবহারের ফলে পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়নেও উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে এই কর্মসূচি।
ইউএনএইচসিআর জানায়, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জীবনমান উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ আন্তর্জাতিক অংশীদার ও বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সংস্থাটি ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছে। শরণার্থী ও আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠী—উভয়ের জন্যই টেকসই আন্তর্জাতিক সংহতি অপরিহার্য। এলপিজি সরবরাহের মতো উদ্যোগ সংঘাত ও নিপীড়ন থেকে পালিয়ে আসা পরিবারগুলোর জীবনে বাস্তব ও ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে। চীনসহ বিভিন্ন দেশের উদার সহায়তা বাংলাদেশে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় মানবিক সহায়তা কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করছে ইউএনএইচসিআর।