বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফের মৃত্যু
তাহসিফের বান্ধবী জেরিকা তাসনিম দিশার ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৩৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় তার বান্ধবী জেরিকা তাসনিম দিশার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
রবিবার (১ নভেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেনের আদালত এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন আদালতে দাখিল করা আবেদনে দিশাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন।
১ নভেম্বর রাত আনুমানিক ২টার দিকে ঢাকার কাফরুল থানাধীন ইব্রাহিমপুরে তাঁর বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়ে, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এবং উত্তরা এলাকার বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ঘটনার আগে গত ২৭ অক্টোবর রাতে নিহত তাহসিফ ও জেরিকা তাসনিম দিশা উত্তরার ‘নেস্ট বার এন্ড রেস্টুরেন্টে’ গিয়েছিলেন। ওই দিন সন্ধ্যায় তারা একাধিকবার ‘সিপি ফাইভ স্টার স্ন্যাক্স’ এ খাবার খান।
এ ছাড়া একটি মোটরসাইকেল গ্যারেজেও তাদের একসঙ্গে যাওয়ার তথ্য সিসিটিভি ফুটেজে পাওয়া গেছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় সন্দেহভাজন অপর আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ (২৩)। তিনি বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রিমান্ডে রয়েছেন। দিশা ও দীপের দেওয়া বক্তব্য পরস্পরের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, নিহত তাহসিফের মোবাইল ফোনের কল লিস্ট পর্যালোচনা করে দিশার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। প্রাথমিক তদন্তে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে দিশার সম্পৃক্ততার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে বলেও দাবি করেছে পুলিশ।
দিশাকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদনে ছয়টি কারণ তুলে ধরেন তদন্ত কর্মকর্তা।
এগুলো হলো- হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটন, অজ্ঞাতনামা আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত উদ্ধার, হত্যাকাণ্ডের স্থান নির্ধারণ, অপর আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের বক্তব্যের সঙ্গে দিশার বক্তব্য মিলিয়ে দেখা এবং তাদের বক্তব্যের সত্যতা যাচাই।
গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তাহসিফ উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরের নিজ বাসা থেকে দীপের সাথে মোটরসাইকেলে করে বের হন এবং এরপর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন।
পরবর্তীতে গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজাবাড়ী ঘাটের কাছে তুরাগ নদ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে টঙ্গী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা।
