মনিরুল ইসলামের ৮৩টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১৩ পিএম
পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি মো. মনিরুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
সাবেক স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) প্রধান ও পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি মো. মনিরুল ইসলাম এবং তার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা ৮৩টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছেন আদালত। ওই আবেদনে মনিরুলের ৮৩টি ব্যাংক হিসাবে মোট ১৯ কোটি ৪৭ লাখ টাকা থাকার তথ্য দেওয়া হয়েছে।
ব্যাংক হিসাব জব্দের আদেশ পাওয়া অন্যান্যরা হলেন- জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও মনিরুল ইসলামের স্ত্রী সায়লা ফারজানা, মনিরুলের শ্যালক রেজাউল আলম শাহীন এবং শ্যালকের স্ত্রী সানজিদা খানম টুম্পা।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক আয়েশা আক্তার মৌসুমি এ আদেশ দেন। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা তানজির আহম্মেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে, দুদকের পক্ষে উপপরিচালক ও অনুসন্ধান টিমের দলনেতা মোজাম্মিল হোসেন এসব আবেদন করেন।
এতে মনিরুল ইসলামের নামে ১১ টি হিসাবে ৭৮ লাখ ৬০ হাজার ৭২৮ টাকা এবং ৩ হাজার ৯৭৮ ব্রিটিশ পাউন্ড, সায়লা ফারজানার ৫টি হিসাবে ৮ লাখ ২ হাজার ৬৭০ টাকা, শাহীনের নামে ৪০টি হিসাবে ১০ কোটি ৬০ লাখ ৩৭ হাজার ৩৮২ টাকা এবং টুম্পার নামে ২৭টি হিসাবে ৮ কোটি ২২ লাখ ৫১ টাকা রয়েছে।
আবেদনের অভিযোগে আরও বলা হয়, আসামিদের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে ২৫ কোটি টাকা লোপাট, জঙ্গিবাদের তকমা দিয়ে কুয়েত সোসাইটি ফর রিলিফ ও শারজাহ চ্যারিটি ইন্টারন্যাশনাল নামক এনজিওর নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ পূর্বক অর্থ আত্মসাৎ এবং বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে নিজ ও পরিবারের সদস্যদের নামে অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে বিভিন্ন দুর্নীতি মাধ্যমে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা অবৈধ সম্পদ অর্জন করে ভোগদখলে আছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া তারা ঢাকাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন এ মর্মেও তথ্য পাওয়া গেছে।
অনুসন্ধানকালে সংগৃহীত রেকর্ডপত্র অনুযায়ী অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের নামে অসংখ্য ব্যাংক হিসাব পাওয়া গেছে। এসব ব্যাংক হিসাবে থাকা অর্থ তারা উত্তোলন করে বিদেশে পাচারের চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে।
বর্ণিত সম্পত্তি হস্তান্তর বা স্থানান্তর হয়ে গেলে রাষ্ট্রের ক্ষতির কারণ রয়েছে উল্লেখ করে এসব ব্যাংক হিসাবগুলো অবরুদ্ধ করা একান্ত প্রয়োজন বলে আবেদনে বলা হয়েছে।