EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

বগুড়ায় ২ শিশুকে ধর্ষণ মামলায় অপরাধীর ৬০ বছরের কারাদণ্ড

ডেইলি সান রিপোর্ট, বগুড়া

প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১৯ পিএম

বগুড়ায় ২ শিশুকে ধর্ষণ মামলায় অপরাধীর ৬০ বছরের কারাদণ্ড

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

বগুড়ায় ৬ বছর বয়সী ২ শিশুকে ধর্ষণের মামলার আসামীর অপরাধ প্রমাণ হওয়ায় অভিযুক্ত নুর ইসলামকে (৪০) ৩০ বছর করে মোট ৬০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে আসামিকে পৃথক দুইটি সাজায় ৫০ হাজার টাকা করে মোট ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামী থেকে প্রাপ্ত জরিমানার টাকা ভুক্তভোগী ও ক্ষতিগ্রস্থ দুই শিশুকে দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে জনাকীর্ণ আদালতে আসামীর অপরাধ সন্দেহাতীত ভাবে প্রমাণ হওয়ায় আসামীর উপস্থিতিতে বগুড়ার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মারুফ হোসেন এই রায় দেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামী নুর ইসলাম বগুড়া জেলার কাহালু উপজেলার পাইকড় ইউনিয়ণের আড়োলা আবাসন প্রকল্পের মৃত হাবিবর রহমানের ছেলে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (স্পেশাল পিপি) এ্যাডভোকেট মো. আব্দুল মান্নান বগুড়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পুলিশ পরিদর্শক (কোর্ট ইন্সপেক্টর) দুপুরে ডেইলি সানকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

আদালত সূত্র জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ১২ মার্চ নিজ ঘরে ডেকে এনে ৬ বছর বয়সী ২ শিশুকে খাবারের লোভ ও টাকার প্রলোভন দেখিয়ে পাশবিক নির্যাতন চালান নুর ইসলাম। ঘটনাটি কাউকে জানালে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয় তাদেরকে। তবে ঘটনার পরদিন এক শিশু জ্বরে আক্রান্ত হয় এবং অন্য শিশুর তীব্র রক্তক্ষরণ শুরু হলে পরিবারের স্বজনেরা বিষয়টি জানতে ও বুঝতে পারেন।

পরবর্তীতে এ ঘটনায় ভুক্তভোগী এক শিশুর মা বাদী হয়ে কাহালু থানায় আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ভুক্তভোগী দুই শিশুকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। পরবর্তীতে কাহালু থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) যৌথ অভিযানে আসামি নুর ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।

দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশ নুর ইসলামকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে মোট ১০ জন সাক্ষী উপস্থাপন করে। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও ভুক্তভোগী ও ক্ষতিগ্রস্থ শিশুদের ডাক্তারি পরীক্ষার প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে আদালত এই রায় ঘোষনা করেন।

 রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) এ্যাডভোকেট মো. আব্দুল মান্নান জানান, আদালত সার্বিক বিষয় ও নির্ভুল প্রমাণ বিবেচনা করে আসামিকে দুইটি পৃথক সাজায় ৩০ বছর করে মোট ৬০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। আইন অনুযায়ী একটি সাজা/কারাদণ্ড ভোগের পর অপরটি কার্যকর শুরু হবে।

আইনজীবি জানান, আদালতের নির্দেশ মোতাবেক দণ্ডপ্রাপ্ত আসামীকে দেওয়া জরিমানার ১ লাখ টাকা তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে আদায় করে ভুক্তভোগী ও ক্ষতিগ্রস্থ শিশুদের পরিবারকে প্রদান করা হবে।

রায়ে অসন্তোষ হওয়ার কোনোরকম সুযোগ নেই, বরং রাষ্ট্রপক্ষ আদালতের এমন আদেশে সন্তুষ্টি প্রকাশ করছে বলেও উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপক্ষের এই আইনজীবি।

আরও পড়ুন