EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

ইতালি পাঠানোর প্রলোভনে টাকা নিয়ে লিবিয়ায় পাচার: গ্রেপ্তার ২

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫২ এএম

ইতালি পাঠানোর প্রলোভনে টাকা নিয়ে লিবিয়ায় পাচার: গ্রেপ্তার ২

ছবি: পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

অ অ

ইতালিতে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ নেওয়ার পর এক যুবককে মিশর হয়ে লিবিয়ায় পাচার,  সেখানে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় মানবপাচার চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

গত সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে ঢাকার বিমানবন্দর থানার আশকোনা হাজি ক্যাম্পের সিভিল এভিয়েশন ওয়েলফেয়ার মার্কেটের সামনে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে সিআইডি।

গ্রেপ্তার মো. আতিকুর রহমান টমাস (৩২) রংপুর জেলার পীরগঞ্জ থানার বরিয়া এলাকার মো. আব্দুল মতিনের ছেলে। বর্তমানে রাজধানীর দক্ষিণখানের গাওয়াইর এলাকায় রুবেলের বাড়ির ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকতো টমাস। অপরজন মো. বদিউল আলম ভূঁইয়া ওরফে বেলাল (৫৪) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা থানার কামালপুর এলাকার মৃত সামছুল আলম ভূঁইয়ার ছেলে। বদিউলও রাজধানীর দক্ষিণখানে আশকোনা এলাকার কলেজ রোডে থাকতো।

পুলিশ সূত্র মতে, নোয়াখালীর সেনবাগের বাসিন্দা ভুক্তভোগী ওই যুবক প্রায় তিন বছর সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন। দেশে ফেরার পথে বিমানে এক সহযাত্রীর সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। ওই সহযাত্রীর মাধ্যমে তিনি মানবপাচার চক্রের এক সদস্যের সঙ্গে পরিচিত হন। চক্রের সদস্যরা তাঁকে লিবিয়া হয়ে নিরাপদে ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখায়।

এ জন্য ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে তাঁকে ইতালি পাঠানোর চুক্তি করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী, চলতি বছরের ৫ এপ্রিল ভুক্তভোগী ঢাকার আশকোনার একটি অফিসে তাঁর পাসপোর্ট জমা দেন। সেখানে অগ্রিম ১ লাখ ৩০ হাজার টাকাও দেন।

পরে ৭ এপ্রিল ভুক্তভোগীকে প্রথমে ভারতের নয়াদিল্লি এবং সেখান থেকে শ্রীলঙ্কার কলম্বোয় পাঠানো হয়। সেখানে প্রায় ১৬ দিন অবস্থানের পর বিভিন্ন অজুহাতে তাঁর পরিবারের কাছ থেকে ধাপে ধাপে আরও টাকা নেওয়া হয়। এরপর তাঁকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ হয়ে মিশরের কায়রোতে পাঠানো হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, কায়রো বিমানবন্দর থেকে চক্রের এক সদস্য তাঁকে একটি বাসায় নিয়ে প্রায় পাঁচ দিন আটকে রাখে। পরে পূর্বের চুক্তির কথা বলে তাঁর কাছে আরও ৬ হাজার মার্কিন ডলার দাবি ও গ্রহণ করা হয়। এভাবে নগদ টাকা, বিকাশ ও ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ভুক্তভোগী ও তাঁর পরিবারের কাছ থেকে মোট প্রায় ১২ লাখ ৬৭ হাজার টাকা নেওয়া হয়।

এরপর ভুক্তভোগীকে মিশর থেকে গাড়িতে দুর্গম মরুভূমি ও পাহাড়ি সীমান্ত অতিক্রম করে লিবিয়ায় নেওয়া হয়। সেখানে চক্রের সহযোগী হিসেবে পরিচিত এক ব্যক্তি তাঁকে একটি কথিত ‘গেম রুমে’ আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে।

পরবর্তীতে লিবিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালিয়ে অন্যান্যদের সঙ্গে তাঁকেও আটক করে কারাগারে পাঠায়। কারাগারে থাকা অবস্থায় তাঁকে মুক্ত করার কথা বলে পরিবারের কাছে আরও ৬ লাখ টাকা দাবি করা হয়।

পরবর্তীতে লিবিয়া পুলিশ তাঁকে আটক করে গত ৭ জুলাই বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়। দেশে ফিরে তিনি নিজেই বাদী হয়ে এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা করেন।

মামলাটির তদন্তভার গ্রহণের পর সিআইডি তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই ও গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে মামলার সঙ্গে জড়িতদের আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে। পরবর্তীতে অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারনামীয় আসামি মো. আতিকুর রহমান টমাস ও মো. বদিউল আলম ভূঁইয়া ওরফে বেলালকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। সিআইডি জানিয়েছে, মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

আরও পড়ুন