ডা. উম্মে হানি পৃথ্বী
গত মার্চের মাঝামাঝি দেশে হাম ছড়াতে শুরু করে। মে মাস আসতে আসতে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়ে যায়, শুরু হয় জরুরি গণটিকা কর্মসূচি। ঠিক সেই সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়াতে থাকে একটি বাক্য, স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের নামে বসানো — ‘দেশে হাম বলে কিছু নেই’।
কথাটি কেউ বলেননি। বাক্যটি বানানো। কিন্তু যে মা সেই পোস্টটি বিশ্বাস করেছিলেন, তিনি হয়তো সেদিন সন্তানকে টিকাকেন্দ্রে নিয়ে যাননি।
চিকিৎসক হিসেবে আমি জানি, একটি গুজবের হিসাব সবসময় লাইক আর শেয়ারে হয় না। কখনো কখনো সেই হিসাব হয় একটি শিশুর জ্বরের তাপমাত্রায়, একটি হাসপাতালের ওয়ার্ডে, একটি পরিবারের সারা জীবনের শূন্যতায়।
তাই গুজব নিয়ে আলোচনাটা আমার কাছে রাজনৈতিক তর্ক নয়। এটি জনস্বাস্থ্যের প্রশ্ন, নিরাপত্তার প্রশ্ন, এবং শেষ পর্যন্ত আমরা একে অন্যকে আর বিশ্বাস করতে পারব কি না — সেই প্রশ্ন।
সংখ্যাটা ছোট নয়। এ বছরের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশ-সংশ্লিষ্ট নয়টি ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান ভুল প্রমাণ করেছে তিন হাজারের বেশি। স্বতন্ত্র দাবি — প্রথম প্রান্তিকে ১ হাজার ৮০৪টি, দ্বিতীয় প্রান্তিকে ১ হাজার ২৬৫টি। আর এটি ছড়ানো গুজবের সংখ্যা নয়; এটি কেবল সেইটুকু, যতটুকু কারও চোখে পড়েছে এবং যাচাই করার মতো সময় ও লোকবল ছিল।
এসব যাদের সামনে ছড়ায়, তারা কারা? চলতি আগস্টের হিসাবে বাংলাদেশে ফেসবুক ব্যবহারকারী সাড়ে সাত কোটির বেশি, যা জনসংখ্যার প্রায় ৪২ শতাংশ। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় বয়সগোষ্ঠীটি ১৮ থেকে ২৪ বছরের, প্রায় তিন কোটি।
অর্থাৎ যে জায়গাটিতে গুজব সবচেয়ে দ্রুত ছোটে, সেই জায়গার সবচেয়ে বড় বাসিন্দা তরুণরাই।
তথ্যটিকে দুইভাবে পড়া যায়। এক, তরুণরাই সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে। দুই এবং এটিই আসল কথা, তরুণরাই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। কারণ একটি মিথ্যা পোস্ট থামাতে যত আইন লাগে, তার চেয়ে কার্যকর কখনো কখনো একটিমাত্র সিদ্ধান্ত: শেয়ার বোতামে আঙুল রাখার আগে দুই সেকেন্ড থেমে যাওয়া।
গত ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বছরের প্রথম প্রান্তিকে যাচাই হওয়া ভুল তথ্যের প্রায় তিন-চতুর্থাংশই ছিল রাজনৈতিক। তার মধ্যে সবচেয়ে চতুর কৌশলটির নাম ফটোকার্ড। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি — এই ছয় মাসে শনাক্ত হয়েছে ৬৯০টি ভুয়া ফটোকার্ড। পরিচিত সংবাদমাধ্যমের নকশা, লোগো আর হরফ নকল করে বানানো কার্ড, যাতে মিথ্যা বক্তব্য বসিয়ে চালিয়ে দেওয়া হয়েছে সংবাদ বলে। ওই সময়ের রাজনৈতিক ভুল তথ্যের প্রায় অর্ধেকের উৎস ছিল এই নকল কার্ডগুলোই।
লক্ষ করার মতো বিষয় হলো, এখানে আক্রমণটি কেবল কোনো নেতার বিরুদ্ধে নয়। আক্রমণটি সংবাদমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতার বিরুদ্ধে। কারণ মানুষ একবার শিখে গেলে যে পরিচিত পত্রিকার লোগো দেখেও বিশ্বাস করা যায় না, তখন সত্য খবরটিও আর কারও কাছে পৌঁছায় না। মিথ্যার সবচেয়ে বড় সাফল্য মানুষকে মিথ্যা বিশ্বাস করানো নয়; মানুষকে কিছুই বিশ্বাস না করতে শেখানো।
এবার সবচেয়ে অস্বস্তিকর কথাটি বলি, কারণ এটি না বললে বাকি লেখাটির কোনো মূল্য থাকে না। গুজব এক দিকে চলে না।
দ্বিতীয় প্রান্তিকে অন্তত ৮১টি ফ্যাক্টচেক হয়েছে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মী, ছাত্র ও যুব সংগঠনের বিরুদ্ধে আনা অপরাধের অভিযোগ নিয়ে; এর প্রায় অর্ধেকই ছিল ভারত কিংবা অন্য কোনো অসংশ্লিষ্ট ঘটনার ভিডিওতে নতুন লেবেল সেঁটে চালিয়ে দেওয়া।
জুনের শেষ সপ্তাহে এক সপ্তাহেই অন্তত পাঁচটি ফ্যাক্টচেক হয়েছে কেবল একটি দাবিকে ঘিরে যে, তুরাগ নদে নাকি ‘নিহত’ ছাত্রলীগ কর্মীদের লাশ ভেসে উঠেছে। দাবিটি মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।
আমি যে সংগঠনের কর্মী, সেই সংগঠনও এই মিথ্যার লক্ষ্যবস্তু। এটি সত্য। কিন্তু পাশে আরেকটি সত্যও আছে, এবং সেটিই আমার বেশি অস্বস্তির।
এপ্রিলের শেষে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং শুরু হওয়ার পর কেন্দ্রটি নির্মাণের কৃতিত্ব মিথ্যাভাবে আরোপ করে পোস্ট ছড়িয়েছে — কারও পোস্টে শহীদ জিয়াউর রহমানের নামে, কারও পোস্টে তারেক রহমানের নামে, কারও পোস্টে ড. ইউনূস কিংবা জামায়াত নেতাদের নামে।
অর্থাৎ যে মিথ্যা আমাদের পক্ষে যায়, সেটিও মিথ্যাই। এবং সেটি ছড়ানোর দায়ও আমাদেরই।
রাজনীতি করি বলেই জানি, প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে আসা অভিযোগ যাচাই না করে শেয়ার করার তাড়নাটা কত প্রবল। আর নিজের নেতার পক্ষে আসা প্রশংসা যাচাই না করে ছড়িয়ে দেওয়ার তাড়নাটা তার চেয়েও প্রবল কারণ সেটি শুনতে ভালো লাগে।
কিন্তু যে দল নিজের পক্ষে যাওয়া মিথ্যাটিও থামাতে শেখে, দীর্ঘমেয়াদে বিশ্বাসযোগ্যতা তার কাছেই থাকে। বাকিরা কেবল আওয়াজ বাড়ায়।
তাই ‘যাচাই করে শেয়ার করুন’ কথাটি আমি প্রথমে বলি প্রতিপক্ষকে নয় — নিজের সংগঠনের সহকর্মীদের।
কিছু গুজব ভুল তথ্য হয়ে থেমে থাকে। কিছু গুজব প্রতিবেশীর ঘরে আগুন হয়ে পৌঁছায়।
গত ৪ মে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর বাংলাদেশে ধর্মীয় ভুল তথ্যের হার হঠাৎ বেড়ে যায়। প্রথম প্রান্তিকের ২ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৯ শতাংশে। মসজিদ ভাঙা হচ্ছে, মুসলমানদের বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে — এমন দাবিতে যেসব ছবি ও ভিডিও ছড়ানো হয়েছে, তার বড় অংশ আসলে নেপাল, ইয়েমেন, ইন্দোনেশিয়া কিংবা ভারতেরই অন্য রাজ্যের পুরোনো ফুটেজ। এমনকি যশোরে বাংলাদেশেরই একটি উচ্ছেদ অভিযানের ভিডিও চালিয়ে দেওয়া হয়েছে ভারতে মুসলমানদের ঘর ভাঙার দৃশ্য বলে।
আর এই কারবার একমুখী ছিল না। উল্টো দিক থেকেও এসেছে — বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হামলার দাবিতে ছড়ানো হয়েছে এমন ঘটনা, যার একটি ছিল পটুয়াখালীতে নিছক দুর্ঘটনাজনিত অগ্নিকাণ্ড, আরেকটি মাদক-সংক্রান্ত বিরোধে হওয়া হামলা।
এখানে একটি কথা স্পষ্ট করা দরকার। সংখ্যালঘুর ওপর সত্যিকারের হামলার ঘটনা এ দেশে ঘটেনি, এমন দাবি এই লেখা করছে না, বরং উল্টোটাই। প্রতিটি বানানো দাবি সত্যিকারের ঘটনাগুলোকেই সন্দেহের মুখে ফেলে দেয়, আর পরের বার সত্যি খবরটি এলে মানুষ সেটিকেও উড়িয়ে দিতে শেখে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. সাঈদ আল-জামান বলছেন, ধর্মীয় অপতথ্য সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তার জন্য সবসময়ই একটি সম্ভাব্য হুমকি; গত এক দশকে ভারত ও বাংলাদেশ — দুই দেশেই বড় সাম্প্রদায়িক হামলার শিকড়ে এই ধরনের অপতথ্য পাওয়া গেছে।
তাই ধর্মের নামে ছড়ানো একটি ভিডিও শেয়ার করার আগে অন্তত এটুকু ভাবা দরকার — পোস্টটি যদি মিথ্যা হয়, এর দাম দেবে কে? দাম দেবে পাশের গ্রামের একটি পরিবার, যারা আমাদেরই প্রতিবেশী, এবং যাদের ঘরটি একবার পুড়ে গেলে পোস্ট ডিলিট করে সেটি আর ফেরানো যাবে না।
কখনো কখনো মিথ্যা এসে দাঁড়ায় একেবারে সত্যিকারের শোকের পাশে।
গত ১৯ মে ঢাকার পল্লবীতে আট বছরের রামিসা আক্তার ধর্ষণের শিকার হয়ে খুন হয়। মামলাটি দ্রুত আদালতে ওঠে, ৭ জুন আসামিদের মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়, যা দেশের বিচারিক ইতিহাসে দ্রুততম বড় বিচারগুলোর একটি। অথচ সেই ঘটনাকে ঘিরেও ছড়িয়েছে বানানো প্রতিক্রিয়া, ভুয়া ব্যানার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি ছবি। ১৯ মে-র পর ধর্ষণ-সংক্রান্ত ভুল তথ্যের সাপ্তাহিক হার বেড়েছে প্রায় পাঁচ গুণ, যার প্রায় সবটাই ছিল অন্য সময়ের কিংবা অন্য দেশের ফুটেজ নতুন করে চালিয়ে দেওয়া।
একটি শিশুর মৃত্যুকে ঘিরে এই কারবার কেবল রুচিহীন নয়, ক্ষতিকরও। প্রতিটি ভুয়া দাবি আসল ঘটনাটির ওপর থেকে মনোযোগ সরিয়ে নেয়, আর বিচারপ্রক্রিয়াটির অর্জনকেও আড়াল করে দেয়।
আরেকটি কথা না বললেই নয়। এতদিন আমরা বলতাম, ছবিটি ভালো করে দেখুন। সেই পরামর্শের মেয়াদ এখন ফুরিয়ে আসছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত ভুল তথ্যের প্রায় ৮ শতাংশ তৈরি হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে বানানো ভিডিও বা ছবি থেকে। একটি এআই ভিডিওতে প্রধানমন্ত্রীর মুখে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে এমন বক্তব্য, যা তিনি কখনো বলেননি।
চোখ এখন আর যথেষ্ট প্রমাণ নয়। যেটি এখনো কাজ করে, সেটি চোখ নয়, অভ্যাস।
উৎস কে? তারিখ কবে? পুরো বক্তব্যটি কী ছিল, নাকি এটি কেটে নেওয়া অংশ? স্বীকৃত সংবাদমাধ্যমে খবরটি আছে কি, না থাকলে কেন নেই?
চারটি প্রশ্ন। সময় লাগে দুই সেকেন্ড। এই দুই সেকেন্ডই আজকের বাংলাদেশে সবচেয়ে সস্তা এবং সবচেয়ে কার্যকর নাগরিক প্রতিরোধ।
সরকারের জন্যও এখানে একটি স্পষ্ট বার্তা আছে, এবং সেটি নিষেধাজ্ঞার বার্তা নয়।
গত ছয় মাসে সবচেয়ে বেশি ছড়ানো ভুয়া বক্তব্যগুলোর একটি ধরন লক্ষ করার মতো এপ্রিলের লোডশেডিং নিয়ে জ্বালানি উপদেষ্টার নামে বানানো উদ্ধৃতি, হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের নামে বানানো বক্তব্য, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে স্পিকার, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও রাষ্ট্রপতির নামে বানানো ফটোকার্ড।
প্রতিটি ক্ষেত্রেই মিথ্যাটি বসেছে ঠিক সেই ফাঁকা জায়গাটিতে, যেখানে সরকারি বক্তব্যটি থাকার কথা ছিল কিন্তু ছিল না, কিংবা দেরিতে এসেছে, কিংবা এমন ভাষায় এসেছে যা সাধারণ মানুষ পড়ে বোঝেনি।
গুজবের বিরুদ্ধে সবচেয়ে দ্রুত অস্ত্র মামলা নয়। সবচেয়ে দ্রুত অস্ত্র হলো সত্য তথ্যটি আরও দ্রুত প্রকাশ করা। একটি ঘটনা ঘটার এক ঘণ্টার মধ্যে যদি দায়িত্বশীল দপ্তরের প্রকৃত বক্তব্য একটি নির্দিষ্ট, সহজে খুঁজে পাওয়া জায়গায় পাওয়া যায়, তাহলে ভুয়া ফটোকার্ড বানানোর জায়গাটুকুই আর থাকে না।
তথ্য গোপন করলে গুজব কমে না, বাড়ে। কারণ শূন্যতা কখনো খালি থাকে না — কেউ না কেউ সেটি ভরে দেয়।
আর একটি সীমারেখা পরিষ্কার থাকা দরকার, কারণ এই দুটিকে গুলিয়ে ফেললে ক্ষতি হয় দুই দিক থেকেই।
সরকারের সমালোচনা করা আর মিথ্যা তৈরি করা এক জিনিস নয়।
নীতির ভুল ধরিয়ে দেওয়া, প্রশ্ন করা, দ্বিমত করা — এগুলো গণতন্ত্রের অসুখ নয়, এগুলো গণতন্ত্র কাজ করার লক্ষণ। দেশকে ভালোবাসা মানে সবকিছুতে সায় দেওয়া নয়; আবার সরকারের সমালোচনা করা মানেই রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো নয়।
কিন্তু কারও মুখে এমন একটি বাক্য বসিয়ে দেওয়া, যা তিনি বলেননি সেটি মতপ্রকাশ নয়, সেটি জালিয়াতি। মতের স্বাধীনতা তথ্য বানানোর স্বাধীনতা নয়। এই পার্থক্যটুকু ধরে রাখতে পারলে কণ্ঠরোধেরও প্রয়োজন পড়ে না, বিভ্রান্তিরও জায়গা থাকে না।
তিন পক্ষকেই তাই নিজের কাজটি করতে হবে। রাষ্ট্রকে হতে হবে দ্রুত, স্বচ্ছ ও বোধগম্য। গণমাধ্যমকে হতে হবে যাচাই-নির্ভর, পেশাদার এবং নিজের নাম ও নকশা নকল হওয়া ঠেকাতে সক্রিয়। আর তরুণদের হতে হবে সেই প্রজন্ম, যারা ভালো লাগা তথ্যকেও যাচাই করে।
কাজটি বড় শোনালেও আসলে ছোট। এত ছোট যে অবিশ্বাস্য মনে হয়। একটি পোস্ট শেয়ার না করা।
একটি ভিডিও পাঠানোর আগে তারিখটা দেখে নেওয়া। পরিবারের গ্রুপে ভেসে আসা একটি দাবিকে ভদ্রভাবে জিজ্ঞেস করা — ‘এটা কোথায় পেলে?’
এই ছোট কাজটি একজন করলে কিছুই বদলায় না। তিন কোটি তরুণ করলে দেশের তথ্যপরিবেশটাই বদলে যায়।
উসকানি নয়, সচেতনতা। গুজব নয়, সত্য। ঘৃণা নয়, সহমর্মিতা। অন্ধ সমর্থন নয়, যাচাই করা সমর্থন। বিভাজন নয়, সংহতি। কারণ গুজবের দাম শেষ পর্যন্ত কোনো দল দেয় না, কোনো সরকারও দেয় না।
দাম দেয় টিকা না পাওয়া শিশুটি। দাম দেয় পুড়ে যাওয়া ঘরটির পরিবার। দাম দেয় সেই দেশ, যে দেশের মানুষ একদিন আর কোনো খবরকেই বিশ্বাস করে না।
সেই দাম যেন আমাদের দিতে না হয়।
ডা. উম্মে হানি পৃথ্বী
স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক, বগুড়া জেলা ছাত্রদল
সহ-সভাপতি, ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ