দামুড়হুদায় কৃষক পরামর্শ সভা, জৈবসার ব্যবহারে আহ্বান
বসুন্ধরা শুভসংঘ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৩৮ পিএম
মাটির উর্বরতা রক্ষা ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে জৈবসারের ব্যবহার বাড়ানো এবং রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের অপপ্রয়োগ বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে। চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় বসুন্ধরা শুভসংঘের আয়োজনে কৃষক পরামর্শ সভায় এ আহ্বান জানান বক্তারা। শনিবার সকালে উপজেলার চিৎলা দেশ ইটভাটা চত্বরে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রায় ৫০ জন কৃষক অংশ নেন।
বসুন্ধরা শুভসংঘ দামুড়হুদা উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি হাজী আব্দুল কাদিরের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ও পরামর্শক ছিলেন উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, অধিক ফলনের আশায় অনেক কৃষক প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সার ও কীটনাশক ব্যবহার করেন। এতে দীর্ঘমেয়াদে মাটির উর্বরতা, পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও মানুষের স্বাস্থ্যের ক্ষতি হতে পারে। অতিরিক্ত রাসায়নিক সার মাটির পুষ্টির ভারসাম্য নষ্ট করে এবং উপকারী অণুজীবের কার্যক্রম ব্যাহত করে। বৃষ্টির পানির সঙ্গে তা জলাশয়ে মিশে পানিদূষণও ঘটাতে পারে।
কীটনাশক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্ধারিত মাত্রার বেশি ব্যবহার করলে ফসলে ক্ষতিকর রাসায়নিকের অবশিষ্টাংশ থেকে যেতে পারে। এ ছাড়া মৌমাছি ও প্রজাপতির মতো উপকারী পোকামাকড় মারা গেলে পরাগায়ন ব্যাহত হয়।
বক্তারা বলেন, গোবর, কম্পোস্ট ও কেঁচো সার মাটিতে জৈব পদার্থ বাড়ায়, মাটির গঠন উন্নত করে এবং পানি ধারণক্ষমতা বাড়ায়। তাই কৃষকদের নিজ উদ্যোগে জৈবসার তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি মাটি ও ফসলের চাহিদা অনুযায়ী সুষম মাত্রায় রাসায়নিক সার দিতে হবে।
কীটনাশক কমাতে সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা (আইপিএম) অনুসরণের পরামর্শ দেওয়া হয়। এর আওতায় ফেরোমন ফাঁদ, আলোর ফাঁদ ও জৈবিক দমন পদ্ধতিতে ক্ষতিকর পোকা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। একান্ত প্রয়োজনে কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে অনুমোদিত কীটনাশক নির্ধারিত মাত্রায় ব্যবহার এবং ফসল তোলার আগে নির্ধারিত অপেক্ষাকাল মানতে বলা হয়।
সভা পরিচালনা করেন সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা ও কালের কণ্ঠের দামুড়হুদা প্রতিনিধি হাবিবুর রহমান। শুভসংঘ জানায়, কৃষকদের সচেতন করতে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।