EN ☀️
×

Follow Us

বসুন্ধরা শুভসংঘ

বসুন্ধরা শুভসংঘের সেলাই মেশিন পেলেন তিস্তাপাড়ের ১০০ নারী

ডেইলি সান রিপোর্ট, লালমনিরহাট

প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩৫ পিএম

বসুন্ধরা শুভসংঘের সেলাই মেশিন পেলেন তিস্তাপাড়ের ১০০ নারী
অ অ

তিস্তা ধরলা আর সানিয়াজান বেষ্টিত জেলা লালমনিরহাটের ১০০ জন হতদরিদ্র বেকার প্রশিক্ষত নারী পেলেন বসুন্ধরা শুভসংঘের সেলাই মেশিন। 

রবিবার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে লালমনিরহাট জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আনুষ্ঠানিক ভাবে সেলাই মেশিন বিতরন করেন জেলা প্রশাসক রাশেদুল হক প্রধান। 

শুভসংঘের প্রধান ও উপদেষ্টা কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন, লালমনিরহাট জেলা পরিষদ প্রশাসক একেএম মমিনুল হক, শুভসংঘের পরিচালক জাকারিয়া জামান, শুভসংঘের লালমনিরহাট শাখার উপদেষ্টা শেখ শফিউদ্দিন কমার্স কলেজের অধ্যক্ষ এন্তাজুর রহমান, সাংবাদিক হায়দার আলী বাবু, আদিতমারী উপজেলা শাখার উপদেষ্টা সহকারী অধ্যাপক (অব) সুনিল কুমার সুত্রধর, শুভসংঘ লালমনিরহাট জেলা শাখার সভাপতি সেলুন লাইব্রেরীর স্বপ্নদ্রষ্টা জামাল হোসেন ও সম্পাদক নাইম ইসলাম। 

আয়োজকরা জানান, দেশের সর্ববৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা গ্রুপ সামাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠিকে মূলধারায় ফেরাতে বেকার হাতকে দক্ষকর্মীর হাতে পরিণত করতে বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়ন মূলক কাজ করছে। এসব বাস্তবায়ন করছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। শুভসংঘ প্রথম দিকে হতদরিদ্র পরিবারের বেকার নারীদের তালিকা তৈরি করে একাধিক গ্রুপ করে সুফলভোগীদের দর্জিবিজ্ঞানের প্রশিক্ষন প্রদান করে।

বিনামূল্যে ১২ সপ্তাহের প্রশিক্ষণ শেষে প্রত্যেক সুফলভোগীর হাতে একটি করে সেলাই মেশিন বিনামূল্যে প্রদান করে। তারা এসব সেলাই মেশিন নিয়ে নিজেদের স্বাবলম্বী করার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক অবদান রাখছে।

এরই অংশ হিসেবে তিস্তা ধরলা আর সানিয়াজান নদী বেষ্টিত জেলা লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলা ও দুইটি পৌরসভার ১০০ জন হতদরিদ্র বেকার নারীকে চিহ্নিত করে বসুন্ধরা শুভসংঘ। এরপর প্রতিটি উপজেলায় একটি করে প্রশিক্ষন কেন্দ্রে প্রশিক্ষন দিয়ে বেকার নারীকে দক্ষকর্মীতে পরিনত করা হয়।

এরপর রবিবার আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রত্যেককে একটি করে সেলাই মেশিন দেওয়া হয়।


আদিতমারী উপজেলার তিস্তাপাড়ের হিমু বলেন, আর্থিক দৈন্যতা কারণে কলেজ পড়া বন্ধের উপক্রম হয়েছিল। খুব ইচ্ছে ছিল লেখাপড়ার পাশাপাশি কিছু একটা করে খরচ চালানো। বসুন্ধরা শুভসংঘ সেই সুযোগ করে দিয়েছে। এখন লেখাপড়ার পাশাপাশি দর্জির কাজ করে লেখাপড়ার খরচ চালাতে পারব। আমার মত গরিব শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়ানোর জন্য কৃতজ্ঞতাসহ ধন্যবাদ বসুন্ধরা শুভসংঘকে। 

সুফলভোগী শিউলী রানী বলেন, বেকার অসুস্থ স্বামী আর সন্তানদের নিয়ে সংসার চালাতে বড় কষ্টে রয়েছি। প্রবল ইচ্ছে ছিল কিছু একটা করে সংসারের হাল ধরতে। কিন্তু শক্তি থাকলে সামর্থ ছিল না। বসুন্ধরা শুভসংঘ সেই সুযোগ এনে দিয়েছে। এজন্য বসুন্ধরা শুভসংঘের প্রতি কৃতজ্ঞতা। এখন মেশিন চালিয়ে সংসারের চাকা সচল করতে পারব। সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ যোগাতে পারব। স্বালম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছি। সকলের কাছে দুয়া চাই। 

বক্তব্যে শুভসংঘের প্রধান ও উপদেষ্টা কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন বলেন, যারা টাকার অভাবে পড়তে পারে না এমন ৩হাজার শিক্ষার্থীকে আমরা বৃত্তি দেই। আমরা বিদ্যালয় ও পাঠাগার নির্মান করেছি। লালমনিরহাটের মহিষখোচা এলাকায় তিস্তার চরাঞ্চলে আমরা আর একটা বিদ্যালয় করব। আপনাদের সেলাই মেসিন দেয়া হলো। আপনারা স্বালম্বী হোন। নারীরা সবক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছে, আপনারাও এগিয়ে যাবেন। সন্তানদের অবশ্যই সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক রাশেদুল হক প্রধান বলেন, লালমনিরহাটের ইতিহাসে এক সাথে এতগুলো পরিবারকে সেলাই মেশিন এর আগে কোন সংগঠন প্রদান করেনি। এটার মাধ্যমে সরকারের যে লক্ষ্য তা পুরন হচ্ছে। বেকার হতদরিদ্র নারীদের স্বালম্বীর মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে তা নিসন্দেহে বসুন্ধরা শুভসংঘ প্রশংসার দাবিদার। আরও ভাল লেগেছে যারা দর্জিবিঞ্জান শিখেছেন তারা অন্যদের শিখাতে চেয়েছেন। এটা আরো ভাল উদ্যোগ। এভাবে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিতে হবে। আলো ছড়িয়ে পড়লে সমাজ তথা দেশ আলোকীত হবে। বসুন্ধরা শুভসংঘের এমন মানবিক কাজের ভুয়সী প্রসংসা করেন তিনি।

 

আরও পড়ুন