লামা বসুন্ধরা শুভসংঘ
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সচেতনতার আহ্বান
ডেইলি সান রিপোর্ট, বান্দরবান
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪০ পিএম
বসুন্ধরা শুভসংঘের লামা উপজেলা শাখার উদ্যোগে ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় করণীয়’ শীর্ষক এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস এবং পরিবেশ সুরক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বান্দরবানের লামায় আলোচনা সভা করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। সভায় জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাড়তে থাকা বন্যা, ভূমিধস, খরা, তাপপ্রবাহ ও অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের মতো সমস্যাগুলো তুলে ধরে এসব মোকাবিলায় সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
গতকাল বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে পৌর শহরে বসুন্ধরা শুভসংঘ লামা উপজেলা শাখার উদ্যোগে ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় করণীয়’ শীর্ষক এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভার মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশ সুরক্ষায় নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন এখন আর দূরবর্তী কোনো আশঙ্কা নয়। এর প্রভাব মানুষের দৈনন্দিন জীবন, কৃষি, জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশে পড়ছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধি, ঋতুচক্রের পরিবর্তন, অতিবৃষ্টি, দীর্ঘস্থায়ী অনাবৃষ্টি এবং আকস্মিক বন্যার মতো ঘটনা মানুষের জীবন ও জীবিকাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
এসব সমস্যা মোকাবিলায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
আলোচনায় নেপালের প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রসঙ্গও উঠে আসে। নেপালের পাহাড়ি অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি তৈরি হয়। পাহাড়ের ঢালে বসতি, বন উজাড়, অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ এবং দুর্বল নিষ্কাশনব্যবস্থা অনেক ক্ষেত্রে এসব দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি বাড়িয়ে দিতে পারে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে হিমালয় অঞ্চলের হিমবাহ ও হিমবাহ-সৃষ্ট হ্রদের ঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। এসব অভিজ্ঞতা থেকে পাহাড়ি এলাকার মানুষের নিরাপত্তা, আগাম সতর্কবার্তা, ঝুঁকিপূর্ণ বসতি চিহ্নিতকরণ এবং দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উপকূলীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা ও ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকি; উত্তরাঞ্চলে খরা ও তাপপ্রবাহ; আবার দেশের বিভিন্ন এলাকায় অতিবৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যা মানুষের জীবনযাত্রাকে প্রভাবিত করছে।
পার্বত্য ও পাহাড়ি এলাকায় ভারী বৃষ্টিতে পাহাড়ধসের আশঙ্কা বাড়ে। বান্দরবানের মতো পাহাড়ি জনপদে তাই পাহাড় কেটে বসতি নির্মাণ বন্ধ করা, ঝুঁকিপূর্ণ ঢালে বসবাস সম্পর্কে সতর্কতা বাড়ানো, পাহাড়ের প্রাকৃতিক বন সংরক্ষণ এবং দুর্যোগের আগাম বার্তা দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া জরুরি।
বক্তারা আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণ ও বন সংরক্ষণ, নদী-খাল ও জলাশয় রক্ষা, প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা এবং পরিবেশবান্ধব জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। পাশাপাশি বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, পানির অপচয় রোধ, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং দুর্যোগের সময় করণীয় সম্পর্কে মানুষকে প্রশিক্ষিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
তাঁরা বলেন, শুধু গাছ লাগালেই দায়িত্ব শেষ হয় না; লাগানো গাছের পরিচর্যা ও বেঁচে থাকা নিশ্চিত করতে হবে। একইভাবে দুর্যোগের পূর্বাভাস পাওয়ার পর দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া, জরুরি সামগ্রী প্রস্তুত রাখা এবং শিশু, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা কার্যক্রমের মাধ্যমে এসব বিষয়ে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা সম্ভব।
পরিবেশ রক্ষায় তরুণদের ভূমিকার কথাও সভায় গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। তরুণেরা বৃক্ষরোপণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, প্লাস্টিকবিরোধী প্রচার, জলাশয় সংরক্ষণ এবং দুর্যোগের সময় স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রমে অংশ নিয়ে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারেন। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টায় পরিবেশবান্ধব অভ্যাসকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘের লামা উপজেলা শাখার উপদেষ্টা মো. মনিরুল ইসলাম তুহিন, সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম, সহসভাপতি মো. ইরান ও ইয়াছিন মামুন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইলিয়াছ উদ্দিন, সমাজকল্যাণ সম্পাদক ইমরুল কায়েস রবিন এবং সদস্য মো. নাছির উদ্দিন, মো. মিসকাত, মো. হাসান, ওয়াহিদুল ইসলাম, আমিনুর রহমান রোকন ও উসাই ওয়াং মার্মা।