অসহায় পরিবারকে স্বাবলম্বী করতে বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগ
ডেইলি সান রিপোর্ট, ময়মনসিংহ
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৫ পিএম
ছবি: ডেইলি সান
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে আর্থিক সংকটে থাকা একটি অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। পরিবারটির তাৎক্ষণিক খাদ্যসংকট মোকাবিলার পাশাপাশি আয়ের সুযোগ তৈরি করতে ভাসমান চায়ের দোকান চালুর সরঞ্জাম ও নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজারসামগ্রী দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) বসুন্ধরা শুভসংঘের হালুয়াঘাট উপজেলা শাখার উদ্যোগে এসব সহায়তা দেওয়া হয়।
পরিবারটির সংকটের বিষয়টি সামনে আসে বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুলের দুই শিক্ষার্থীর কাছ থেকে। দুর্গাপূজার ছুটির আগে শিক্ষার্থীদের খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনের বিষয়ে খোঁজ নেওয়ার সময় দেখা যায়, একই পরিবারের ওই দুই শিক্ষার্থী টানা চার দিন ধরে খাবারের বিষয়ে কোনো উত্তর দিচ্ছিল না। বিষয়টি নজরে আসে বসুন্ধরা শুভসংঘের হালুয়াঘাট উপজেলা শাখার উপদেষ্টা রেজাউল করিমের।
পরে শাখার উপদেষ্টা নাফিউল হাসান মুবিন স্কুলের খোঁজখবর নিতে গেলে পাশের বাড়ির এক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে পরিবারটির দুরবস্থার কথা জানতে পারেন। আর্থিক সংকটের কারণে পরিবারের সদস্যরা টানা চার দিন ধরে শুধু মুড়ি ও চিড়া খেয়ে দিন কাটাচ্ছিলেন। সংসারের খাবার জোগাড় করাও তাঁদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল।
পরিবারটির কর্তা মো. রোকন উত্তর বাজারের একটি চায়ের দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। দৈনিক মজুরিই ছিল সংসার চালানোর অন্যতম অবলম্বন। কিন্তু প্রায় এক সপ্তাহ ধরে দোকানটি মালিকপক্ষ বন্ধ রাখায় তাঁর কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এতে পরিবারের নিয়মিত আয়ও বন্ধ হয়ে পড়ে। খাবার কেনা, সংসারের খরচ চালানো এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সংগ্রহ করতে তাঁকে হিমশিম খেতে হচ্ছিল। পরিচিত দোকানিদের কাছ থেকে ধার করেও পরিবারের প্রয়োজন মেটানো সম্ভব হচ্ছিল না।
পরিস্থিতি জানার পর পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেয় বসুন্ধরা শুভসংঘ। বিষয়টি সংগঠনের কেন্দ্রীয় দপ্তরকে জানানো হলে পরিবারটিকে স্বাবলম্বী করতে ভাসমান চায়ের দোকান চালুর ব্যবস্থা করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
এরপর বসুন্ধরা শুভসংঘের হালুয়াঘাট উপজেলা শাখার উপদেষ্টা নাফিউল হাসান মুবিন ও রেজাউল করিম পরিবারটির বাড়িতে গিয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের পরিস্থিতি বোঝার পাশাপাশি বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা তৈরির উদ্যোগ নেন তাঁরা।
এরই ধারাবাহিকতায় পরিবারটির হাতে চায়ের ব্যবসা শুরুর জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও উপকরণ তুলে দেওয়া হয়। এসবের মধ্যে রয়েছে একটি চায়ের ফ্লাস্ক, দুই কেজি চিনি, এক কেজি ইস্পাহানি চা-পাতা, ৫০০ গ্রাম আদা, দারুচিনি, এলাচ, ১২টি কেক, ছয়টি কাচের কাপ ও ১০০টি ওয়ানটাইম কাপ। এ ছাড়া তাৎক্ষণিক খাদ্যচাহিদা মেটাতে দেওয়া হয় পেঁয়াজ, আলু, রসুন, ডিম, একটি বালতি ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী।
সহায়তা পেয়ে পরিবারের সদস্যরা আনন্দ প্রকাশ করেন এবং দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানোর জন্য বসুন্ধরা শুভসংঘের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। চায়ের ব্যবসা শুরু করতে পারলে মো. রোকন নিজের শ্রমে সংসারের খরচ চালাতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এতে পরিবারের খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি ধীরে ধীরে আর্থিক সংকট কাটিয়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হবে।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘের হালুয়াঘাট উপজেলা শাখার উপদেষ্টা নাফিউল হাসান মুবিন, উপদেষ্টা রেজাউল করিম ও সহসভাপতি ফারজানা রিয়া।
তাৎক্ষণিক খাদ্যসহায়তার পাশাপাশি বিকল্প আয়ের সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার মাধ্যমে সংকটগ্রস্ত পরিবারটিকে স্বাবলম্বী হওয়ার পথে এগিয়ে নিতে চায় বসুন্ধরা শুভসংঘ। এ উদ্যোগ সংগঠনটির ‘শুভ কাজে সবার পাশে’ থাকার অঙ্গীকারের প্রতিফলন।