EN ☀️
×

Follow Us

বসুন্ধরা শুভসংঘ

বার্ধক্যের একাকিত্বে একটু সঙ্গ, প্রবীণদের না-বলা গল্প শুনল বসুন্ধরা শুভসংঘ

ডেইলি সান রিপোর্ট, লালমনিরহাট

প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:২২ পিএম

বার্ধক্যের একাকিত্বে একটু সঙ্গ, প্রবীণদের না-বলা গল্প শুনল বসুন্ধরা শুভসংঘ

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

‘আম পাকলে হয় মিঠা, আর বয়স বাড়লে হয় তিতা’—কথাটি বলেই কিছুক্ষণ নীরব হয়ে গেলেন এক প্রবীণ। দীর্ঘ জীবন পেরিয়ে বার্ধক্যে এসে অনেকটাই একাকিত্বে দিন কাটছে তার। সন্তানরা নিজ নিজ কাজে ব্যস্ত। আগের মতো সময় দেওয়ার সুযোগ হয় না। তাই এই বয়সে কথা বলার মতো একজন মানুষই হয়ে ওঠে বড় প্রয়োজন।

বার্ধক্যের এমন নিঃসঙ্গতা, জীবনের নানা স্মৃতি ও না-বলা গল্প শুনতে লালমনিরহাটের আদিতমারীতে প্রবীণদের পাশে বসেছিল বসুন্ধরা শুভসংঘ। বিশ্ব প্রবীণ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রবীণ নারী-পুরুষদের সঙ্গে সময় কাটান সংগঠনের সদস্যরা। তাদের জীবনের অভিজ্ঞতা, বর্তমান সময়ের নানা কষ্ট ও প্রয়োজনের কথা শোনেন তারা। পাশাপাশি দুজন প্রবীণের জন্য একটি পাওয়ারের চশমা ও প্রয়োজনীয় ওষুধের ব্যবস্থা করা হয়।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সারপুকুর ইউনিয়নের টিপার বাজার গ্রামের সারপুকুর যুব ফোরাম পাঠাগারের হলরুমে এ আয়োজন করা হয়। এতে স্থানীয় ২৮ জন প্রবীণ নারী-পুরুষ অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে প্রবীণদের সঙ্গে বসে তাদের শৈশব, সংসারজীবন, সন্তানদের বড় করে তোলা, জীবনের নানা সংগ্রাম ও বার্ধক্যের দিনগুলোর অভিজ্ঞতা শোনা হয়। দীর্ঘ জীবনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। কেউ কেউ কান্নায়ও ভেঙে পড়েন।

প্রবীণরা জানান, জীবনের শেষ সময়ে এসে অনেকেই পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে আগের মতো সময় ও সঙ্গ পান না। সন্তানরা কর্মব্যস্ত থাকায় দিনের বড় একটি সময় একাকী কাটাতে হয় তাদের। প্রয়োজনের সময়ে পাশে কাউকে না পাওয়া এবং মনের কথা বলার মতো মানুষ না থাকাকে তারা বার্ধক্যের অন্যতম কষ্ট হিসেবে তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে ৭৭ বছর বয়সী মোছা. জামেলা খাতুন জানান, চোখের সমস্যার কারণে তার একটি পাওয়ারের চশমা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় এতদিন সেটি সংগ্রহ করতে পারেননি। তার প্রয়োজনের কথা জানতে পেরে বসুন্ধরা শুভসংঘ আদিতমারী উপজেলা কমিটির পক্ষ থেকে একটি পাওয়ারের চশমার ব্যবস্থা করা হয়।

এ ছাড়া ৮০ বছর বয়সী রাহেলা খাতুন দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক নানা সমস্যায় ভুগছেন বলে জানান। তাঁর প্রয়োজনের কথা শুনে সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ওষুধের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়।

আয়োজকরা বলেন, প্রবীণদের পাশে দাঁড়ানো মানে শুধু আর্থিক সহায়তা দেওয়া নয়; তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, সময় দেওয়া এবং জীবনের অভিজ্ঞতার প্রতি সম্মান দেখানোও দায়িত্বের অংশ। দীর্ঘ কর্মময় জীবন শেষে কোনো প্রবীণ যেন পরিবার ও সমাজে নিজেকে একা বা অবহেলিত মনে না করেন, সে জন্য সবাইকে আরও মানবিক ও দায়িত্বশীল হতে হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘ লালমনিরহাট জেলা কমিটির সভাপতি মো. জামাল হোসেন, আদিতমারী উপজেলা কমিটির সভাপতি জান্নাতি খাতুন, সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান, প্রচার সম্পাদক ভক্ত কুমার রায়সহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্য।

আরও পড়ুন