হাম প্রতিরোধে জনসচেতনতা তৈরিতে দিনভর মাঠে শুভসংঘের বন্ধুরা
ডেইলি সান রিপোর্ট, গাইবান্ধা
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:১০ পিএম
শহরের ব্যস্ত সড়কে হাতে সচেতনতামূলক লিফলেট নিয়ে পথচারী, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে পৌঁছে গেছেন একদল তরুণ। শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, হাম সম্পর্কে সচেতনতা এবং রোগ প্রতিরোধের বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে দিনভর কাজ করেছেন তারা।
হাম সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও রোগটির বিস্তার প্রতিরোধে গাইবান্ধায় দিনব্যাপী লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি পালন করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ গাইবান্ধা জেলা শাখা। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) শহরের প্রেসক্লাব রোড থেকে বড় মসজিদ পর্যন্ত এ কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়।
কর্মসূচিতে শুভসংঘের সদস্যরা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের হাতে হামের সচেতনতামূলক লিফলেট তুলে দেন। পাশাপাশি সরাসরি কথা বলে হামের লক্ষণ, রোগটি সম্পর্কে সতর্কতা এবং প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে তাদের সচেতন করেন।
বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সচেতনতা, প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ সময় হামের বিষয়ে মানুষের মধ্যে থাকা ভুল ধারণা দূর করার পাশাপাশি শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
শহরের ব্যস্ত সড়কে শুভসংঘের সদস্যদের এমন উদ্যোগ পথচারীদেরও আগ্রহী করে তোলে। অনেকে লিফলেট পড়ে দেখেন, আবার কেউ সদস্যদের কাছ থেকে হামের বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য জানতে চান।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘ গাইবান্ধা জেলা শাখার উপদেষ্টা হুমায়ুন আহমেদ বিপ্লব, সদস্য সামিউল বাসির, অয়ন সুলতান, সোহানুর রহমান ও তীর্থ তালুকদার।
হুমায়ুন আহমেদ বিপ্লব বলেন, ‘হাম একটি সংক্রামক রোগ। যথাসময়ে সচেতনতা ও প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে এর বিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতেই আমাদের এই উদ্যোগ। বিশেষ করে শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অভিভাবকদের আরও সচেতন হতে হবে।’
তিনি বলেন, কোনো রোগ ছড়িয়ে পড়ার পর সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি আগে থেকেই মানুষকে সতর্ক করা প্রয়োজন। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো সম্মিলিতভাবে কাজ করলে স্বাস্থ্যসচেতনতা আরও বাড়ানো সম্ভব। স্বাস্থ্যবিষয়ক বিভিন্ন বিষয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার কথা জানান তিনি।
শুভসংঘের সদস্যরা বলেন, রোগ প্রতিরোধে চিকিৎসার পাশাপাশি জনসচেতনতারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। রোগের লক্ষণ ও ঝুঁকি সম্পর্কে মানুষ সচেতন হলে এবং প্রয়োজনের সময় স্বাস্থ্যসেবা নিলে রোগের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে সহায়ক পরিবেশ তৈরি হয়। এ কারণে সাধারণ মানুষের কাছে স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্য পৌঁছে দেওয়াকে তারা সামাজিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে দেখছেন।
দিনব্যাপী এ কর্মসূচির মাধ্যমে গাইবান্ধা শহরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে হাম প্রতিরোধে সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, একজন মানুষের সচেতনতা তার পরিবার ও আশপাশের মানুষের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়বে এবং সম্মিলিতভাবে রোগ প্রতিরোধে আরও দায়িত্বশীল পরিবেশ তৈরি হবে।