নওগাঁর ধামকুড়ি বধ্যভূমিতে শুভসংঘের বৃক্ষরোপণ
শহীদ স্মৃতিসৌধ চত্বরে দ্বিতীয় পর্যায়ে নানা প্রজাতির চারা রোপণ করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ।
বসুন্ধরা শুভসংঘ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৩৪ পিএম
নওগাঁর ধামকুড়ি শহীদ স্মৃতিসৌধ চত্বরে চারা রোপণ করছেন বসুন্ধরা শুভসংঘের সদস্যরা।
নওগাঁ সদর উপজেলার ধামকুড়ি বধ্যভূমি ও শহীদ স্মৃতিসৌধ চত্বরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ নওগাঁ জেলা শাখা।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় পর্যায়ের এ কর্মসূচিতে দেশীয় প্রজাতির ফলজ, বনজ, ঔষধি ও শোভাবর্ধনকারী গাছের চারা রোপণ করা হয়।
পরিবেশ রক্ষা, সবুজায়ন এবং মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থানটিকে আরও সবুজ ও নান্দনিক করাই ছিল কর্মসূচির লক্ষ্য। ‘শুভ কাজে সবার পাশে’ স্লোগানকে সামনে রেখে এ আয়োজন করা হয়।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘ নওগাঁ জেলা কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট সরদার সালাউদ্দীন মিন্টু, সহ-সভাপতি মোল্লা রুহুল আমিন ও আজাদ হোসেন মুরাদ, সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ আলম এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সামিনা সুলতানা লাকি। এ ছাড়া সদস্য মেহেদী হাসান সুজন, মাজেদুর রহমান লিটন, সজিব হোসেনসহ সংগঠনের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
শহীদ স্মৃতিসৌধকে ঘিরে সবুজ ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ার ধারাবাহিক উদ্যোগের অংশ এ কর্মসূচি। এর আগে ২০২৬ সালের মে মাসে একই চত্বরে বিভিন্ন প্রজাতির ফুল ও বনজ বৃক্ষের চারা রোপণ করেছিল সংগঠনটির নওগাঁ জেলা শাখা। তখন কৃষ্ণচূড়া, জারুল, সোনালু, পলাশ, রঙ্গন ও চেরিসহ নানা চারা লাগানো হয়। এবার দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও বিভিন্ন প্রজাতির চারা রোপণ করা হয়।
আয়োজকদের লক্ষ্য, সময়ের সঙ্গে এসব গাছ বড় হয়ে স্মৃতিসৌধ চত্বরকে ছায়াঘেরা, সবুজ ও দৃষ্টিনন্দন করে তুলবে। একই সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং স্থানীয় মানুষের মধ্যে বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সচেতনতা তৈরি হবে।
কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, একটি চারা রোপণ করেই দায়িত্ব শেষ হয় না। গাছকে বাঁচিয়ে তুলতে নিয়মিত পরিচর্যা প্রয়োজন। এ জন্য চারাগুলোতে নিয়মিত পানি দেওয়া এবং গবাদিপশুর ক্ষতি থেকে রক্ষায় বেড়া বা সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়। দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা নিয়েও কথা হয়।
১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হত্যাযজ্ঞের স্মৃতি বহন করছে নওগাঁ সদর উপজেলার ধামকুড়ি বধ্যভূমি। পরে সেখানে শহীদদের স্মরণে স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয় ইতিহাসভিত্তিক প্রতিবেদনে পুলিশ ইন্সপেক্টর সামসুদ্দিন সরদারসহ ওই এলাকার কয়েকজনকে হানাদার বাহিনীর হাতে হত্যার কথা উল্লেখ আছে।
২০২৫ সালের শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসেও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নির্মিত এই স্মৃতিসৌধ চত্বরে মোমবাতি প্রজ্বালন, আলোচনা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছিল।