EN ☀️
×

Follow Us

বসুন্ধরা শুভসংঘ

তিন মাসের প্রশিক্ষণ শেষে শুভসংঘের সেলাই মেশিন পেলেন ২০ অস্বচ্ছল নারী

মরিয়ম-কাকলীদের স্বপ্ন বোনার সূচনা

বসুন্ধরা শুভসংঘ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৩৫ পিএম

তিন মাসের প্রশিক্ষণ শেষে শুভসংঘের সেলাই মেশিন পেলেন ২০ অস্বচ্ছল নারী

গৌরিপুরে অসচ্ছল নারীদের হাতে সেলাই মেশিন তুলে দিচ্ছেন প্রধান অতিথি ইমদাদুল হক মিলন।

অ অ

গৌরিপুরে তিন মাসের সেলাই প্রশিক্ষণ শেষে ২০ জন অসচ্ছল নারীর হাতে সেলাই মেশিন ও একটি করে গাছের চারা তুলে দিয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। 

শুক্রবার সকালে গৌরিপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি ছিলেন বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা ও শুভসংঘ প্রধান ইমদাদুল হক মিলন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সেলিম আল রাজ। সভাপতিত্ব করেন সংকর ঘোষ পিলু।

সহায়তা পাওয়া নারীদের মধ্যে আছেন মরিয়ম আক্তার রিয়া। গৌরিপুরের স্থানীয় মাদ্রাসায় আলিম পড়ছেন তিনি। তাঁর বাবা কৃষক, মা গৃহিণী। কৃষিকাজের সীমিত আয়ে সংসার চালানোই যখন কঠিন, তখন পড়াশোনার পাশাপাশি পরিবারকে সাহায্য করার ইচ্ছা তাঁর মনে আরও জোরালো হয়ে ওঠে। তিন মাসের সেলাই প্রশিক্ষণ শেষে রিয়ার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে একটি সেলাই মেশিন, যা তাঁর কাছে এখন শুধু একটি যন্ত্র নয়—নিজের পায়ে দাঁড়ানোর নতুন সুযোগ।

আরেকজন সহায়তাপ্রাপ্ত কাকলী রানী দাসের সংগ্রামের গল্প আরও দীর্ঘ। বাবা-মা কেউ নেই তাঁর। পাঁচ ভাইবোনের সংসারে অনেকেই এখনো বেকার। এই অভাবের মধ্যে একটি সেলাই মেশিন তাঁর কাছে নতুন আশার ঠিকানা হয়ে উঠেছে। ঘরে বসেই কাজ করে কিছু আয়ের সুযোগ তৈরি হবে তাঁর, যা পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে সহায়ক হবে।

মরিয়ম ও কাকলীর গল্প আলাদা হলেও স্বপ্ন একই—অভাবের কাছে হার না মেনে নিজের হাতে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা।

ইমদাদুল হক মিলন বলেন, ‘একজন লেখকের জীবনে সবচেয়ে বড় পুরস্কার তার পাঠক। গৌরীপুরের মানুষের কাছ থেকে যে ভালোবাসা পেয়েছি, তা আমার জীবনের বড় পুরস্কারগুলোর চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। বই মানুষকে ভেতর থেকে পরিবর্তন করে। বইয়ের মাধ্যমে মানুষ মানবিকতা, দেশপ্রেম এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর শিক্ষা পায়। শিশুদের বইবিমুখ হওয়ার জন্য শুধু তাদের দায়ী না করে অভিভাবক, শিক্ষক ও সমাজের সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘নারীদের হাতে শুধু একটি সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া নয়, এর মাধ্যমে তাদের নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ পেলে একজন নারী নিজের পরিবারের জন্য যেমন আয় করতে পারেন, তেমনি সমাজের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।’

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেবাশীষ কর্মকার বলেন, ‘আজ অসচ্ছল নারীদের হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়ার উদ্যোগটি অত্যন্ত প্রশংসনীয়। একটি সেলাই মেশিন শুধু একটি যন্ত্র নয়; একজন নারীর জন্য এটি নিজের পায়ে দাঁড়ানোর, পরিবারের পাশে থাকার এবং ভবিষ্যৎকে নতুনভাবে গড়ে তোলার একটি সুযোগ। প্রশিক্ষণের পর তাঁদের হাতে মেশিন তুলে দেওয়া হয়েছে—এটি উদ্যোগটিকে আরও অর্থবহ করেছে।’

পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আলী আকবর আনিছ বলেন, ‘বসুন্ধরা গ্রুপ ও বসুন্ধরা শুভসংঘের এই আয়োজনটি সত্যিই ভিন্নধর্মী। মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নামে অনেক আয়োজন হয়, কিন্তু এখানে যাঁরা সহযোগিতা পাচ্ছেন, তাঁরা প্রশিক্ষণসহ এমন একটি উপকরণ পাচ্ছেন, যা তাঁদের নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ তৈরি করবে। আজ এতগুলো অসহায় নারীর হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া হচ্ছে—এটি অত্যন্ত প্রশংসনীয় উদ্যোগ।’

অফিসার ইনচার্জ হাবিবুর রহমান বলেন, ‘অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত নারীদের হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়ার এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। একটি সেলাই মেশিন শুধু একটি যন্ত্র নয়, এটি একজন নারীর আত্মনির্ভরতার হাতিয়ার। এর মাধ্যমে তাঁরা ঘরে বসেই কাজ করে আয় করতে পারবেন এবং পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবেন। নারীদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে এমন উদ্যোগ সমাজের সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন গৌরীপুর মহিলা ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ ড. মো. হারুনুর রশিদ, গৌরীপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি বেগ ফারুক আহম্মদ, সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি কাজী আব্দুল্লাহ আল আমান, সাবেক আহ্বায়ক মো. রইছ উদ্দিন, নান্দাইলের অতিরিক্ত কৃষি অফিসার কামরুল হাসান কামু এবং গৌরীপুর লেখক সংঘের সাধারণ সম্পাদক পলাশ আজহার।

আরও পড়ুন