নকলায় হাম প্রতিরোধে বসুন্ধরা শুভসংঘের সচেতনতা কর্মসূচি
বসুন্ধরা শুভসংঘ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৬ পিএম
শেরপুরের নকলা উপজেলায় হাম রোগ প্রতিরোধ ও স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আলোচনা সভা ও লিফলেট বিতরণ করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ।
রবিবার উপজেলার গড়েরগাঁও চৌরাস্তা মোড়ে সাব্বির একাডেমিতে বসুন্ধরা শুভসংঘ নকলা উপজেলা শাখা এ কর্মসূচির আয়োজন করে। এতে একাডেমির শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক এবং সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেন।
বসুন্ধরা শুভসংঘ নকলা উপজেলা শাখার সভাপতি জুনায়েদ আহমেদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মাজরূ খানের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন সাব্বির একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ছায়েদুল ইসলাম, নির্বাহী পরিচালক ইমাম হাসান সাব্বির, সংগঠনের উপদেষ্টা মেহরিমা এবং প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকারা।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আতিকা ইসলাম ও রাতুল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবু রায়হান রিফাত, অর্থ সম্পাদক হুমাইরা জান্নাত সায়মা, দপ্তর সম্পাদক শামীম, প্রচার সম্পাদক সিফাত, কর্ম ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক আশিকুর রহমান, ক্রীড়া সম্পাদক আবু হুরাইরা, তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক সাঈদ হাসান, শিক্ষা ও পাঠচক্র বিষয়ক সম্পাদক ইশরাত জাহান মিশু, নারী ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক হাফসা মীম এবং সংগঠনের অন্য সদস্যরা।
সভাপতি জুনায়েদ আহমেদ বলেন, হাম একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ। সচেতনতাই পারে শিশুদের এ রোগ থেকে রক্ষা করতে। তাই হাম সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা ও সময়মতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
বক্তারা বলেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশি ও শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে এর জীবাণু ছড়ায়। বিশেষত শিশুদের মধ্যে এ রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি।
হামের প্রধান লক্ষণ হিসেবে বক্তারা উল্লেখ করেন জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া বা পানি পড়া, শরীরে লালচে দানা বা ফুসকুড়ি এবং শরীর দুর্বল হয়ে যাওয়া। অনেক ক্ষেত্রে মুখের ভেতরেও ছোট সাদা দাগ দেখা দিতে পারে। সাধারণত জ্বর ও অন্যান্য প্রাথমিক উপসর্গের পর শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দেয়। শিশুর মধ্যে এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
বক্তারা জানান, হামের নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা নেই। আক্রান্ত শিশুকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও তরল খাবার দিতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিতে হবে। জ্বর বা অবস্থার অবনতি হলে নিজে থেকে ওষুধ না দিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সংক্রমণ ঠেকাতে আক্রান্ত সন্দেহ হওয়া শিশুকে অন্য শিশুদের থেকে দূরে রাখতে হবে এবং তার পর্যাপ্ত পানি, পুষ্টিকর খাবার ও ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে হবে।
শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত দুর্বলতা, পানিশূন্যতা, খিঁচুনি বা দীর্ঘস্থায়ী জ্বরের মতো গুরুতর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন বক্তারা। তারা আরও বলেন, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী শিশুদের হাম-রুবেলা টিকা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। টিকা না নেওয়া বা এ নিয়ে কোনো সংশয় থাকলে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কর্মী বা চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়।
আলোচনা শেষে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে হামের লক্ষণ, প্রতিকার ও প্রতিরোধের উপায় সংবলিত সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা আগ্রহ নিয়ে লিফলেট সংগ্রহ করেন এবং হাম প্রতিরোধে সচেতন থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
