EN ☀️
×

Follow Us

বসুন্ধরা শুভসংঘ

মনিরামপুরে জলাতঙ্ক-সর্পদংশন নিয়ে সচেতনতামূলক সভা

বসুন্ধরা শুভসংঘ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৩০ পিএম

মনিরামপুরে জলাতঙ্ক-সর্পদংশন নিয়ে সচেতনতামূলক সভা
অ অ

যশোরের মনিরামপুরে জলাতঙ্ক ও সর্পদংশন বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘শুভ কাজে, সবার পাশে’ স্লোগানকে সামনে রেখে বসুন্ধরা শুভসংঘ মনিরামপুর উপজেলা শাখা এই সভার আয়োজন করে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) উপজেলার নাগোরঘোপ মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। শাখার সভাপতি এস এম হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান আকাশের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল মজিদ, সহকারী প্রধান শিক্ষক সন্তোষ পাল, সিনিয়র শিক্ষক সুতপা রানী রায় চৌধুরী, মনিরামপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ফারুক আহম্মেদ লিটন এবং দৈনিক কালের কণ্ঠের উপজেলা প্রতিনিধি অধ্যাপক মোহাম্মদ বাবুল আকতার।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মিলন কুমার হালদার, খলিলুর রহমান, জহুরুল ইসলাম, গোলাম রসুল, সেলিনা আক্তার, ফারুক হোসেন, মাহমুদুল হাসান, মেহেদী হাসান, জগন্নাথ মজুমদার এবং বসুন্ধরা শুভসংঘ মনিরামপুর শাখার সহসভাপতি ডা. হাবিবুর রহমান, মো. হাদিউজ্জামান ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রবীর সরকারসহ সংগঠনের সদস্যরা।

প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল মজিদ বলেন, ‘একটি ভুল সিদ্ধান্ত কখনো কখনো একটি পরিবারের সারাজীবনের কান্নার কারণ হতে পারে। তাই শিক্ষার্থীদের শুধু নিজেরা সচেতন হলেই হবে না, পরিবার ও প্রতিবেশীদেরও সচেতন করতে হবে। সাপের কামড় বা প্রাণীর কামড়কে ভয় নয়, দ্রুত চিকিৎসার বিষয় হিসেবে দেখতে হবে।’

সভাপতির বক্তব্যে এস এম হাফিজুর রহমান বলেন, ‘জলাতঙ্ক ও সর্পদংশন নিয়ে মানুষের মধ্যে এখনো অনেক কুসংস্কার ও ভুল ধারণা রয়েছে। সচেতনতার আলো ছড়িয়ে দিয়ে আমরা সেই অন্ধকার দূর করতে চাই। একটি মানুষও যেন ওঝা বা অপচিকিৎসার কারণে প্রাণ না হারায়—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’

সভায় বক্তারা বলেন, কুকুর, বিড়াল বা শিয়ালের কামড় কিংবা আঁচড়ের শিকার হলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত ক্ষতস্থান সাবান ও প্রবহমান পানি দিয়ে অন্তত ১৫ মিনিট ধুয়ে ফেলতে হবে। এরপর দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে জলাতঙ্কের টিকা গ্রহণ করতে হবে।

একইভাবে সাপের কামড়ের পর কোনো ধরনের ওঝা, কবিরাজি বা ঝাড়ফুঁকের আশ্রয় না নিয়ে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও অ্যান্টিভেনম নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা। একই সঙ্গে সাপের কামড়ের ক্ষতস্থানে কোনো প্রলেপ, মলম বা অনিরাপদ উপাদান ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

বক্তারা আরও বলেন, জলাতঙ্ক ও সর্পদংশন উভয় ক্ষেত্রেই দ্রুত ও সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই কুসংস্কার ও অপচিকিৎসা পরিহার করে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ওপর আস্থা রাখার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের অন্যদেরও সচেতন করতে হবে।

আরও পড়ুন