ট্রেনে পাথর না ছোঁড়ার আহ্বান বসুন্ধরা শুভসংঘের
ডেইলি সান রিপোর্ট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৫:২৭ পিএম
ট্রেনে পাথর ছোঁড়ার মতো বিপজ্জনক ও প্রাণঘাতী কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। এ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় সচেতনতামূলক প্রচারপত্র বিতরণ করেছে সংগঠনটি।
শনিবার (৮ আগস্ট) বেলা ১২টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার খড়মপুর মাজার শরীফের সামনে স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী ও মাজারে আসা ভক্তদের মধ্যে ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ভয়াবহতা তুলে ধরে সচেতনতামূলক প্রচারপত্র বিলির মাধ্যমে এ আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে শিশু-কিশোর ও তরুণদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে অভিভাবক ও স্থানীয়দের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
কর্মসূচির উদ্বোধন করেন শাহ সৈয়দ আহম্মদ গেছু দারাজ (রহ.) প্রকাশ খড়মপুর মাজার শরীফ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম খাদেম মিন্টু।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাকদীর খাদেম, মাজার পরিচালনা কমিটির সদস্য কাজী শরীফ খাদেম, নয়াদিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি এম এ জলিল, প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি জুটন বনিক, প্রিন্ট ও টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন মিশু, রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মো. রাসেল মিয়া, হাবিবুর রহমান, জুয়েল রানা, শামীম আহমেদ, ইসমাইল হোসেন, আশীষ সাহা, নিজাম উদ্দিন, দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ। কর্মসূচির সমন্বয় করেন শুভসংঘ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উপদেষ্টা ও কালের কণ্ঠের ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি বিশ্বজিৎ পাল বাবু।
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে ট্রেনে পাথর ছোড়ার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর নির্ভর করলে হবে না; স্থানীয় জনগণ, অভিভাবক, শিক্ষক ও জনপ্রতিনিধিসহ সবাইকে সম্মিলিতভাবে সচেতন হতে হবে। বিশেষ করে শিশু-কিশোররা যাতে কৌতূহলবশত কিংবা দুষ্টুমি করে ট্রেনে পাথর না ছোড়ে, সে বিষয়ে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।
এদিকে খড়মপুর মাজার শরীফের ওরসকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ আখাউড়ায় সমবেত হন। এবারও ওরসকে সামনে রেখে সারাদেশ থেকে লাখো ভক্তের আগমন ঘটবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এ সময় রেলপথ ও রেলযাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এমন একটি সময়ে বসুন্ধরা শুভসংঘের ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ বিরোধী সচেতনতামূলক কর্মসূচিকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন স্থানীয়রা।
তারা বলেন, খড়মপুর মাজার শরীফের আশপাশ দিয়ে চলাচলকারী ট্রেনের যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনগণের সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। প্রচারপত্র বিতরণের মতো কার্যক্রমের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের মধ্যেও ট্রেনে পাথর ছোড়ার ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি হবে।