রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে অমর একুশে উপলক্ষ্যে একুশটি পদ্য নিবেদন
ডেইলি সান রিপোর্ট, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:৪৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
অমর একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে মহান শহীদ দিবস এক ব্যতিক্রমী আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালন করেছে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ‘বসুন্ধরা শুভসংঘ’। ‘একুশটি পদ্য নিবেদন' শিরোনামের এই বিশেষ অনুষ্ঠানে কবিতা, আলোচনাসভা ও গানের মধ্য দিয়ে ভাষা শহীদদের বীরত্বগাথা স্মরণ করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন-৩ এ অবস্থিত শহীদ মিনারের সামনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি ছিল তারুণ্যের উদ্দীপনায় ভরপুর। একুশের এ অনুষ্ঠানে মূল আকর্ষণ ছিল ‘একুশটি পদ্য নিবেদন'।
ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করে নির্বাচিত ২১টি কবিতা আবৃত্তি করেন বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী জুয়েল রানা,রাকেশ রায়,জান্নাতুল সুমন, ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী গণেশ চন্দ্র রায়,সঙ্গীত বিভাগের শিক্ষার্থী রুপম অধিকারী, চৈতি গুপ্তা পায়েলসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। প্রতিটি কবিতার চরণে ফুটে ওঠে বায়ান্নর উত্তাল দিনগুলো এবং মাতৃভাষার প্রতি বাঙালির গভীর মমত্ববোধ।
কবিতা পাঠ শেষে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী রিশাত শারমিন আমেরিকার লেখিকা রিটা মে ব্রাউনের একটি উক্তি দিয়ে বলেন,‘ভাষা হলো একটি সংস্কৃতির মানচিত্র। এটি আপনাকে বলে দেয় সেই সংস্কৃতির মানুষ কোথা থেকে এসেছে এবং তারা কোথায় যাচ্ছে।’
শহীদদের স্মরণ করে সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থী ফেরদৌস হোসাইন বলেন, ‘তরুণরাই প্রতিটি সময়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে এবং বায়ান্নর রক্তঝরা সংগ্রামই একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়তে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিলো।’
বসুন্ধরা শুভসংঘের সভাপতি সানজিদা শিলা বলেন, ‘বসুন্ধরা শুভসংঘ সবসময়ই শুভ কাজের মাধ্যমে সমাজ পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখে। একুশ মানেই মাথানত না করা,একুশ মানেই মাথা উঁচু করে বাঁচার প্রেরণা। রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কবিতার ছন্দে সেই বার্তাই পৌঁছে দিয়েছে।’
আলোচনা শেষে শুরু হয় সাংস্কৃতিক পর্ব। রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গীত বিভাগের শিক্ষার্থী মম রায় একক গান পরিবেশন করেন। এছাড়া অমর একুশের কালজয়ী গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানটি সমবেত কণ্ঠে গাওয়ায় এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেছেন কোষাধ্যক্ষ জুয়েল রানা এবং পরিচালনা করেছেন সাধারণ সম্পাদক শাহেদ আক্তার ও সাংগঠনিক সম্পাদক আকাশ রায়। বসুন্ধরা শুভসংঘের এমন সৃজনশীল ও দেশপ্রেমিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।