১ নভেম্বর থেকে চালু হচ্ছে 'বাংলা কিউআর' এ পি-টু-পি লেনদেন
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
আগামী ১ নভেম্বর থেকে ‘বাংলা কিউআর’ কোডের মাধ্যমে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি (পিটুপি) লেনদেনের সুবিধা চালু হতে যাচ্ছে।দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে ক্যাশলেস বা ডিজিটাল লেনদেনের আওতায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দেশের যেকোনো সাধারণ মানুষ নিজস্ব কিউআর কোড ব্যবহার করে সরাসরি অর্থ লেনদেন করতে পারবেন।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ১১টায় ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ইউআইইউ) ওয়ান ব্যাংক পিএলসি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত একটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এ তথ্য জানান।
বাংলা কিউআর কোডের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি পরিশোধ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের উদ্দেশ্যে এ অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়।
গভর্নর জানান, আগামী নভেম্বর থেকে বাংলা কিউআরের চতুর্থ ধাপ শুরু হবে। এ পর্যায়ে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির মধ্যে লেনদেনের সুযোগ চালু করা হবে। তখন একজন ব্যক্তি অন্য যেকোনো ব্যক্তিকে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে পারবেন। এ ব্যবস্থায় রিকশাচালক, মুচি থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ; সবার নিজস্ব কিউআর কোড থাকবে।
তিনি জানান, বাংলা কিউআর বাস্তবায়নে চার ধাপের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর প্রথম ধাপ ছিল নিয়ন্ত্রক নির্দেশনা কার্যকর করা। ১ জুলাই থেকে সবার জন্য বাংলা কিউআর বাধ্যতামূলক করা হয়। চালুর পর দ্বিতীয় ধাপে এর কার্যক্ষমতা যাচাই করা হয়। এ ধরনের আন্তঃসংযোগভিত্তিক লেনদেনব্যবস্থায় একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক লেনদেন সামাল দেওয়ার সক্ষমতা নিশ্চিত করা জরুরি ছিল।
এর কারণ উল্লেখ করে মো. মোস্তাকুর রহমান বলেন, কেননা মাস্টারকার্ডের ব্যবস্থা প্রতি সেকেন্ডে এক হাজার লেনদেন সম্পন্ন করতে পারলেও দেশের ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ (এনপিএসবি) ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ প্রতি সেকেন্ডে ৩০০টি লেনদেনের সক্ষমতা পরীক্ষা করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, একসঙ্গে প্রায় ১০০টি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে এ আন্তঃসংযোগভিত্তিক প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছিল। ফলে হঠাৎ করে বাংলা কিউআর সবার জন্য বাধ্যতামূলক করলে ব্যবস্থাটির কার্যক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ ছিল। তবে প্রায় দেড়-দুই মাসের মধ্যে এর কার্যক্ষমতা নিয়ে সন্তুষ্ট হওয়ার মতো অগ্রগতি দেখা যায়। এরপর বাংলা কিউআরের প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে গত ১ অক্টোবর থেকে এ উদ্যোগ শুরু হয়েছে।
একইসঙ্গে আন্তঃসংযোগের মাধ্যমে এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে লেনদেনের ক্ষেত্রে যে চার্জ ছিল, তা শূন্য করা হয়েছে। শুধু দুই হাজার টাকা নয়, পাঁচ হাজার, এক লাখ কিংবা দুই লাখ টাকা- যেকোনো অংকের লেনদেনের ক্ষেত্রেই এ চার্জ প্রযোজ্য হবে না।
বাংলা কিউআরের অগ্রগতি তুলে ধরে গভর্নর বলেন, জুনের প্রথম সপ্তাহে এ ব্যবস্থায় প্রতি সপ্তাহের দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৩৭ কোটি টাকা। সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে তা বেড়ে প্রায় ১৮০ কোটি টাকায় পৌঁছায়। অর্থাৎ এ সময়ে লেনদেনের পরিমাণ চার গুণের বেশি বেড়েছে। তবে এ অগ্রগতিকে চূড়ান্ত সাফল্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ বাংলা কিউআরের যাত্রায় এখনো সামান্য পথ অতিক্রম করা হয়েছে। দৈনিক প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা লেনদেন হলে এ ব্যবস্থাকে একটি যুক্তিসংগত অবস্থানে পৌঁছেছে বলে বিবেচনা করা যাবে।
সরকারের ‘ডিজিটাল জনপরিকাঠামো’ উদ্যোগের তিনটি মূল স্তম্ভ রয়েছে-ডিজিটাল পরিচয়, ডিজিটাল লেনদেন এবং তথ্য বিনিময়। ‘ডিজিটাল পরিচয় নিশ্চিত হলে ব্যাংক হিসাব খোলা, ঋণ নেওয়া কিংবা দাপ্তরিক কাজের জন্য কাগজের নথি নিয়ে ছোটাছুটি করতে হবে না। পরিচয় নম্বরের মাধ্যমেই তথ্য ও সনদ যাচাই করা সম্ভব হবে বলে জানান গর্ভনর।
তিনি আরও জানান, গুগল, মেটা ও হুয়াওয়ের মতো বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধি দল বাংলা কিউআর নিয়ে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এই উদ্যোগকে দেশ-বিদেশে জনপ্রিয় করার পেছনে গণমাধ্যমের ইতিবাচক ভূমিকার জন্য তিনি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।