EN ☀️
×

Follow Us

বাণিজ্য

প্রিমিয়ার ব্যাংকের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি ২৬ রপ্তানিমুখী গার্মেন্ট প্রতিষ্ঠানের

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৬, ১২:৫৪ পিএম

প্রিমিয়ার ব্যাংকের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি ২৬ রপ্তানিমুখী গার্মেন্ট প্রতিষ্ঠানের
অ অ

প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসি’র নারায়ণগঞ্জ শাখার বিরুদ্ধে ভুয়া সেলস কন্ট্রাক্ট ও জাল ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি (বিটিবি এলসি) সৃজনের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ এবং গ্রাহকদের ওপর অস্বাভাবিক ঋণের বোঝা চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে ২৬টি শতভাগ রপ্তানিমুখী গার্মেন্ট প্রতিষ্ঠান।

শনিবার (১৬ মে) রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বিকেএমইএ ও বিজিএমইএভুক্ত এসব প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে নিটওয়্যার গার্মেন্ট রপ্তানি ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে এবং প্রিমিয়ার ব্যাংকের নারায়ণগঞ্জ শাখার সঙ্গে নিয়মিত ব্যাংকিং সম্পর্ক বজায় রেখেছে। তবে ২০১৭ সাল থেকে ব্যাংকের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও প্রধান কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যোগসাজশে প্রতিষ্ঠানগুলোর নামে ভুয়া আইডি তৈরি করে জাল সেলস কন্ট্রাক্ট ও বিটিবি এলসি খোলা হয় বলে অভিযোগ করা হয়।

তাদের দাবি, কাঁচামাল আমদানির পরিবর্তে এসব এলসির বিপরীতে নগদ অর্থ স্থানান্তর, অতিরিক্ত দামে ডলার ক্রয় এবং বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের মাধ্যমে বিপুল অর্থ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পরে সেই দায় গ্রাহক প্রতিষ্ঠানের ওপর ঋণ হিসেবে চাপিয়ে দেওয়া হয়।

প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিযোগ, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাদের অজ্ঞাতসারে চলতি হিসাব ও রপ্তানি আয় ব্যবহার করে তথাকথিত “ফোর্সড লোন”, “ডিমান্ড লোন” ও “টাইম লোন” সৃষ্টি করে সুদ আরোপ করেছে। অথচ এসব বিষয়ে কোনো পূর্ব নোটিশ বা পূর্ণাঙ্গ হিসাব দেওয়া হয়নি।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের অডিটে বিষয়টি ধরা পড়ার পর ব্যাংক হঠাৎ করে প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ঋণের পরিমাণ কয়েকগুণ বৃদ্ধি দেখায়, যা তাদের অনুমোদিত ঋণসীমারও অনেক বেশি।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ঋণ পুনঃতফসিলের নামে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপ প্রয়োগ করেছে। এমনকি পুনঃতফসিলের শর্তে স্বাক্ষর না করলে ঋণসুবিধা ও এলসি সীমা বাতিলের হুমকিও দেওয়া হয়। এতে অনেক প্রতিষ্ঠান বাধ্য হয়ে পুনঃতফসিলে সম্মত হয়, যা পরে বাংলাদেশ ব্যাংক বাতিল করে দেয়।

প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা দাবি করেন, ব্যাংকের আরোপিত মানসিক চাপ ও হয়রানির কারণে কয়েকজন উদ্যোক্তার মৃত্যু এবং একজন প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। তারা জানান, টোটাল ফ্যাশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হাসিবউদ্দিন মিয়া এবং ওয়েস্ট অ্যাপারেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসিফ হাসান মাহমুদ অতিরিক্ত মানসিক চাপের মধ্যে মৃত্যুবরণ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বর্তমানে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রায় ২৫ হাজার শ্রমিক কর্মহীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। ব্যবসা সচল থাকলে প্রকৃত দায় পরিশোধ করা সম্ভব হলেও কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।

ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে দেশের স্বনামধন্য অডিট ফার্মের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ হিসাব নিরূপণেরও আহ্বান জানানো হয়।

তারা জানান, এ বিষয়ে গত ৬ এপ্রিল ২০২৬ বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন