EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

আইনজীবীদের বহুমুখী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে চাই: আইনমন্ত্রী

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৪ পিএম

আইনজীবীদের বহুমুখী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে চাই: আইনমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

আইনজীবীদের জন্য বহুমুখী কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে কাজ করছে সরকার। এ লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি কোম্পানিতে বাধ্যতামূলকভাবে আইনজীবী নিয়োগের বিধান চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ঢাকা বার অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত ২৬তম ব্যাচের ওরিয়েন্টেশন-২০২৬ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি কোম্পানিতে যেমন বাধ্যতামূলকভাবে একজন অডিটর থাকেন, তেমনি কোম্পানির সব আইনি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একজন আইনজীবীও থাকা উচিত। এ বিষয়ে দুই সপ্তাহ আগে বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি বলেছি, কোম্পানি আইনে পরিবর্তন আনুন। আমি নিজে যাচাই করে দেব।’

আইনজীবীদের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণাও দেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, আইনজীবীদের বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি এ পেশাকে কীভাবে আরও এগিয়ে নেওয়া যায়, সে বিষয়েও সরকার কাজ করছে।

আইনজীবী সুরক্ষা আইন প্রসঙ্গে আসাদুজ্জামান বলেন, এ ধরনের আইন অবশ্যই প্রয়োজন। তবে একই সঙ্গে পেশাগত অসদাচরণের ঘটনায় বার কাউন্সিলকে বিচারপ্রক্রিয়া আরও গতিশীল করতে হবে। দু-একজন আইনজীবীর অসদাচরণের কারণে পুরো পেশা সম্পর্কে সমাজে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়। এমনকি তাঁদের বাসা ভাড়া দিতেও অনেকে অনাগ্রহী হন। এ অবস্থার পরিবর্তনে সমাজের মধ্য থেকেও আইনজীবীদের সুরক্ষার দাবি উঠতে হবে।

আইনজীবীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সব সময় অর্থের দিকে তাকালে চলবে না। প্রতি ১০টি মামলার মধ্যে অন্তত দুটি বিনা পারিশ্রমিকে পরিচালনা করা উচিত। এটি হবে সমাজের প্রতি আইনজীবীদের যাকাত। দেশের উন্নয়নে শ্রমিকদের যেমন ভূমিকা রয়েছে, তেমনি আইনজীবীদের বেড়ে ওঠার পেছনেও রিকশাচালকসহ সাধারণ মানুষের অবদান রয়েছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আপনাদের পেশাগত উৎকর্ষ সাধনের পথ খুঁজছি। একই সঙ্গে সব অন্ধগলি বন্ধ করতে চাই। সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় নিয়ে জনগণের ম্যান্ডেটে আমরা ক্ষমতায় এসেছি। আমরা সব হত্যাকাণ্ডের বিচার করতে চাই।’

ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘যে রক্তাক্ত পথ ধরে আমরা এসেছি, সেই পথ অনেক পিচ্ছিল ছিল। ফ্যাসিস্টের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সাড়ে চার হাজারের বেশি সহযোদ্ধাকে হারিয়েছি, যাঁদের ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয়েছে। সাত শতাধিক যোদ্ধাকে হারিয়েছি, যাঁদের গুম করা হয়েছে। ৬০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে গায়েবি মামলা দেওয়া হয়েছে। সব অন্যায়-অবিচারের বিচার করতে আমরা বদ্ধপরিকর।’

দেশে বর্তমানে প্রায় ৮০ হাজার আইনজীবী রয়েছেন জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ঢাকা বার অ্যাসোসিয়েশনেই আইনজীবীর সংখ্যা ৩৫ হাজার। এত আইনজীবীর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে ২০ কোটি মানুষের দেশে ৮০ হাজার আইনজীবী খুব বেশি নয়। এই পেশাকে যে অবস্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সেখান থেকে উত্তরণের দায়িত্ব আইনজীবীদেরই নিতে হবে।

নবীন আইনজীবীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা আগামী প্রজন্মের সবচেয়ে আলোকবর্তিকা, উজ্জ্বল নক্ষত্র। শর্টকাটে আইনজীবী হওয়ার কোনো পথ নেই। বড়লোক আইনজীবী হওয়া সম্ভব, কিন্তু প্রকৃত অর্থে আইনজীবী হওয়া সম্ভব নয়।’ আদালতে কিছু আইনজীবীর দলীয় আধিপত্যবাদী মনোভাবের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিচারাঙ্গনের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব বিচারকদেরও রয়েছে।

অনুষ্ঠানে ঢাকা অধস্তন আদালতের বিচারক, বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা, ঢাকা বার অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ এবং নবীন আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন